বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ মো. হারুন (২০) নামে আরও একজনের মরদেহ ভেসে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য সকালে এক জনের মরদেহ ভেসে আসার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৫ টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, বিচকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে গতকাল বুধবার তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গোসলে নেমে সাগরে তলিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে হয়েছে বলে জানান হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন।
নিহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ আকাশ (২১) ও মো. হারুন(২০)। নিখোঁজ শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। এ ছাড়া মুমূর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রাকিব হাসান (১৯) নামের একজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাতবন্ধু বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। তাঁরা হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন একটি রিসোর্টে ওঠেন।”
মাহবুব আলম বলেন, খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাতবন্ধু সমুদ্রে গোসলে নামেন। তাঁদের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় ওই এলাকায় আরও তিন-চারজন গোসলে ছিলেন। এ সময় দুইজনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান সাতবন্ধু। একপর্যায়ে তাঁরাও সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজন তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃত উদ্ধার ও নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বেড়াতে আসা অপর চারজন হলেন, সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩), সুফি আমিন নাবিল (২২)। তাঁদের বাসা ঢাকার উত্তরা এলাকায় বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের উদ্বৃতি দিয়ে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিখোঁজ নিবিড়ের দূর্ঘটনার খবর জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজার রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর খালা শামীমা সুলতানা। তিনি বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ভ্রমণের উদ্দেশে নিবিড় বাড়ি থেকে বের হয়েছে। প্রথমে তারা বান্দরবান যায়। সেখান থেকে বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছায়।
নিহত আকাশের সঙ্গে বেড়াতে আসা বন্ধু মোহাম্মদ সানি(২০) বলেন,‘তাঁরা চট্টগ্রামে একটি কারখানায় চাকরি করে। পাঁচ বন্ধু মিলে আজ বুধবার বেড়ানোর কক্সবাজার এসেছিলেন। বিকেলে সাগরে গোসলে নামেন। হাঁটু পানিতে ছিলাম। হঠাৎ বড় একটি ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। এ সময় তাঁরা স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছিলেন। পাশে থাকা সাতজনের কাছ থেকে সাহায্য চাই। এগিয়ে এসে তাঁরাও ডুবতে থাকে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানি আরও বলেন, তখন সবাই হাবুডুব খাচ্ছিলাম। পায়ের নিচ থেকে বালু সরে যাচ্ছিল। কোনোমতে আমরা ৫-৬জন তীরে উঠে আসি। তিন-চারজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করি এবং দুইজন ভেসে যায়।
এর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে চলতি বছর ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কক্সবাজার শহরের লাবণী,সুগন্ধা ও কলাতলীর তিনকিলোমিটার সৈকত ছাড়া আর কোথাও লাইফগার্ড সেবা নেই।
ভয়েস/আআ