বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। সেন্টকম জানায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে চালানো এই অভিযানে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ডজনখানেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইআরজিসির সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র ও সামরিক নৌ সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, গত ২৮ জুলাই আইআরজিসি ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি আকস্মিক হামলার চেষ্টা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় এই বৃহৎ আকারের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন রয়েছে এবং সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ‘বন্দর আব্বাস’ এবং কৌশলগত ‘কেশম দ্বীপে’ একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মিশরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানে পাল্টা এই হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এর আগে বুধবার সকালে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে ‘কঠোর’ জবাব দেবে বলে জানান ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরানের) ওপর ভয়াবহ আঘাত হানতে যাচ্ছি। তাদের কড়া জবাব দেওয়া হবে।”
ইরাকের অভ্যন্তরে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার বিষয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই হামলাগুলো বাগদাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালনা করা হয়েছে। যদিও ইরাক সরকার প্রকাশ্যে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং এর জবাবে তেহরানও এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ভয়েস/আআ