বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
 মির্জা ফখরুলের আক্ষেপ “কিছুই বদলায়নি” মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলেছে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে : মাহদী আমিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিপক্ষের গুলিতে আরসা সদস্য জুবায়ের নিহত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা কখনো কেউকে ব্ল্যাকমেইল করিনি, আর বিয়ে নয় একাই ভালো আছি: পরীমণি পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি পরিবর্তনের আদেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, বহাল আগের সভাপতি মহেশখালীতে বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেফতার নেপাল ৪০ দেশের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত হলেন ইরফান উদ্দিন ইরো প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এখনো আওয়ামী লীগ আমলের আধিপাত্য ধরে রেখেছে দোসর ফারুক! জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়: ডা. শফিকুর রহমান

 মির্জা ফখরুলের আক্ষেপ “কিছুই বদলায়নি”

ভয়েস প্রতিবেদক:

দেশে, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কিছুই বদলায়নি বলে আক্ষেপ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি তার ৪-৫ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমার এই ৪-৫ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা আপনাদের বলা দরকার। আমি দেখেছি কিছুই বদলায়নি। একইভাবে যারা ঘুষ খেত, তারা ফন্দি-ফিকির করে ঘুষ খাচ্ছে। একইভাবে যারা ভালো কাজকে আটকে দিত তারা আটকে দিচ্ছে। ওরাই এখন সবচেয়ে বেশি জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “এসব কথাগুলো খুব আক্ষেপে বলছি। আমি সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটি আমাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলে, “আমি আশাবাদী, কেননা একজন মানুষের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আর তিনি হলেন তারেক রহমান সাহেব। তিনি চেষ্টা করছেন। আমাদের সামনে নজির সৃষ্টি করছেন। আমরা সেই নজিরটাকে যদি সামনে নিয়ে যাই, তাহলে হয়তো পরিবর্তনটা হবে।”

রাজধানীর সার্কিট হাউসের তথ্য ভবনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী-এমপি, পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।

আলোচনায় অংশ নেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি একে এম আব্দুল হাকিম, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, শহিদ মীর মাহফুজ রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব (রুটিন দায়িত্ব) শাহ আলম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “পরিবর্তন একটি বৈজ্ঞানিক ও চলমান ব্যাপার। পরিবর্তন হতেই হবে। সেটাকে নিয়মের মধ্যে দিয়ে, আন্দোলন, যুদ্ধের মাধ্যমে হতে হবে তা কিন্তু ভিন্ন ব্যাপার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ১৯৫২ সালে একটি পরিবর্তন হয়েছে। তারও আগে ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগও একটি পরিবর্তন। সেটিও অনেক রক্তের, প্রাণের বিনিময়ে হয়েছে। সেই পরিবর্তনে ভারত-পাকিস্তান হলো। সেই পাকিস্তান তৈরির লোকেরাই আবার আন্দোলন শুরু করলো যে, শাসকগোষ্ঠী আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। দুর্ভাগ্য আমাদের, তারপর আবার একই গান গাইতে হয়েছে-আমরা পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন করতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতার ৫২-৫৫ বছর হয়েছে। চীনের স্বাধীনতা আমাদের কাছাকাছি সময়, সিঙ্গাপুরেও একই সময়। তারা অর্থনীতি, জীবন-জীবিকার মানে কোথায় চলে গেছে? আর আমরা এখনো কোথায় পড়ে আছি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে। সেটি ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৪ এর জুলাই পর্যন্ত একই অবস্থা। আমরা যারা ক্ষমতায় যাই, কিছুদিন পরে একটা ক্যামেস্ট্রি কাজ করে বলে আমার মনে হয়। আর সেটা হচ্ছে আমি ক্ষমতায় আছি। ওই চেয়ারটার আলাদা একটা ক্যামেস্ট্রি আছে। সেটা ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করে দেয়। এটার পরিবর্তন চেয়েছে ছেলেরা।”

তরুণদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে উদ্ধারে সমাবেশ, মহাসমাবেশ করেছি। তখন একটা কথা মনে হতো এবং জোরে বলতাম তরুণদের দেখতে পাই না। কোথায় তরুণরা যারা পরিবর্তন আনবে। দেখুন কী অলৌকিকভাবে জুলাইয়ে সেই তরুণরা নেমে এলো। তারা এলো নিজস্ব দাবিতে। পরে হটাও হাসিনা, বাঁচাও দেশ আন্দোলনে পরিণত হলো।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তন আনতে বহু মূল্য দিতে হয়েছে। এখন আমরা যদি এই মূল্য দেওয়াকে ধারণ করতে না পারি, সেটাকে সামনে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা না করতে পারি তাহলে মায়েদের এই অশ্রুধারা এমনই এমনই হারিয়ে যাবে।”

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করেছে, জুলাইয়ের চেতনাকে সেভাবে বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে মুক্তিযুদ্ধের অবদান ভুলে যাওয়া যাবে না।”

তিনি বলেন, “দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করতে দলের চেয়ারপার্সন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অসীম শ্রদ্ধায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে দেশবাসী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করে সফল হয়েছে। এখন দেশ গড়ার কাজ চলছে।”

মারুফ কামাল খান বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নই। তবে আমার একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস আছে। সেই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে আমি বিভ্ন্নি সময় লেখালেখির বাইরে তেমন কিছু করিনি কখনও। সাংবাদিকতার বাইরে লেখালেখিই করেছি। শুধু ভিন্নমত প্রকাশের কারণে, শুধু লেখালেখির কারণে ফ্যাসিবাদ সরকার আমার বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। আমাকে ফেরারি জীবনযাপন করতে হয়েছে। আমি ক্যান্সারের রোগী, আমাকে বাইরে গিয়ে লুকিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”

মারুফ কামাল বলেন, “আমার আশঙ্কা ছিল, আমি মনে করতাম জীবনে বোধহয় আর কোনদিন দেশে ফেরা হবে না। বিদেশে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ দেশের পবিত্র মাটিতে কবর হবে না। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবীদের সাহস, তাদের প্রাণদান, তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম যে একটি ফ্যাসিবাদকে এক লহমায় এভাবে উৎখাত করবে তখন তা ছিল কল্পনার বাইরে।”

তিনি বলেন, “তারা আমাদের মুক্তি দিয়েছেন এজন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। এখন বিপ্লব আসে, অভ্যুত্থান হয়, রক্ত দেয়, ইতিহাস তৈরি হয়। সেই রক্তদান, প্রাণদানকে প্রতিষ্ঠা করার পালা। আমি প্রত্যাশা করি সেটি সফলভাবে এগিয়ে যাবে। জুলাইবিপ্লবীদের কতগুলো আশা ছিল, স্বপ্ন ছিল, প্রত্যাশা ছিল। তারা রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলেছিলেন। তারা একটা পরিবর্তিত সমাজের কথা বলেছিলেন। সমাজ বদল করার কথা, রাজনীতি বদল করার কথা বলেছিলেন।”

মারুফ কামাল খান বলেন, “আসলে আমাদের রাজনীতি, সমাজ, মানসিকতা বদলানো দরকার। আমাদের স্বভাব, আচরণ বদলানো দরকার। ফ্যাসিবাদ আমাদের মধ্যে যেসব বদগুণ সংক্রমিত করে গেছে তা থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। আমি খুব ব্যথিত হই, যখন দেখি যারা ওই আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রধান শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলেন। খুব নোংরা ভাষায় কথা বলেন। রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে। আমরা ভিন্নমতে বিশ্বাস করি। নানামতে সুস্থ-স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেখানে সমালোচনার ক্ষেত্রেও সুস্থতা, নম্রতা, বিনয়, ভদ্রতা যেটা আমাদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা দরকার সেটার অভাব প্রকটভাবে দেখতে পাই। ফলে আজকে এখানে ওখানে ইতি-উতি সহিংসতা, হাঙ্গামা, ক্রোধ, ক্ষোভের আলামত দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের সৃজনশীন হতে হবে। মেধা ও যুক্তিকে রাজনীতিতে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা যদি হাসিনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে থাকি, তার নোংরা, কুৎসিত ভাষায় প্রতিদ্বন্দ্বি তা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে থাকি তাহলে আন্দোলনের সাফল্য কোথায়? আমাদের প্রথম কাজ এসব সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এখানে সুস্থ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পারস্পারিক প্রতিযোগিতা তো থাকবেই সেটি হতে হবে সুস্থ প্রতিযোগিতা। সেই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আজকে যখন জুলাই আন্দোলনকারীরা পরস্পর হানাহানিতে যুক্ত হয় তখন ফ্যাসিবাদ মুখবেদান করে অন্তরালে হাসতে থাকে। সুতরায় ফ্যাসিবাদ যেন অট্টহাসি হাসতে না পারে সেদিকে আমাদের যত্নবান হতে হবে।”

স্নিগ্ধ বলেন, “আমার চেহেরা ভাই মুগ্ধের মতো। মা আমাকে দেখে মুগ্ধের চেহারার কথা মনে করে থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন বর্তমান সরকারের হাত ধরে শহিদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

এ কে এম আব্দুল হাকিম জুলাই অভুত্থানে স্বৈরচারী সরকারের বিচার কামনা করেন।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION