মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের কাছ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে আলোচনা চালিয়েছিল। ২০২২ সালে ইয়েমেনের হুথিদের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এ আলোচনা আরও জোরদার হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও ড্রপ সাইট নিউজ ফাঁস হওয়া ই-মেইলের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস ও ইউএইর মধ্যে হার্মিস-৯০০ ড্রোন, স্কাইআই নজরদারি ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি হুথিদের হামলার পর প্রস্তাবিত অস্ত্রচুক্তিকে ‘জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এসব ই-মেইল ‘হানদালা’ নামে একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী সংগ্রহ করেছে। গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সম্পর্কের অভিযোগ থাকলেও প্রকাশিত নথিগুলো দুটি সংবাদমাধ্যম যাচাই করেছে।
প্রাথমিকভাবে ড্রোন বিক্রির চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। পরে অতিরিক্ত প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। তবে শেষ পর্যন্ত ড্রোনগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা নথিতে উল্লেখ নেই।
স্কাইআই সেন্সরে উচ্চক্ষমতার অপটিক্যাল ক্যামেরা রয়েছে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় তাৎক্ষণিক নজরদারি চালাতে সক্ষম। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যবস্তুর গতিপথ ও উৎক্ষেপণের উৎস শনাক্ত করা যায়। অন্যদিকে হার্মিস-৯০০ একটি উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন, যা প্রায় ৯৯০ পাউন্ড সরঞ্জাম বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র উন্নয়ন বিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান ইউএই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে সীমান্তের বাইরে থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে সক্ষম একটি নজরদারি ব্যবস্থা উপস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।
এর আগে হুথিদের হামলায় আবুধাবি বিমানবন্দর ও তেলবাহী ট্রাক লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইউএই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
ফাঁস হওয়া নথিতে স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন এবং হার্মিস-৬৫০ ড্রোন নিয়েও আলোচনার তথ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশিত নথিগুলো ইউএই ও ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তির চাহিদার একটি বিরল চিত্র তুলে ধরেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউএইর নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির কথাও উঠে এসেছে। গত মে মাসে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন অস্ত্র সংগ্রহে ইসরাইল ও ইউএই একটি যৌথ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে।
ভয়েস/আআ