বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪ খুনের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশী

ভয়েস প্রতিবেদক, উখিয়া :

গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  রাতে খুন হয় ৪ জন। এদের মধ্যে একজন স্থানীয় উখিয়ার বাসিন্দা বাংলাদেশী। মাইক্রো ভাড়ার টাকা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে জবাই করে তাদের এই দুইজনকে হত্যা করে। অপর একটি সূত্রমতে, একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী রঙ্গিখালী এলাকা থেকে নুরুল হুদার নোহা গাড়িটি ভাড়া করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংঘর্ষে যোগ দিতে যায়। ক্যাম্পে পৌঁছার পর তাকে রোহিঙ্গা মনে করে রোহিঙ্গাদের প্রতিপক্ষরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হন এই একজনসহ চারজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবেশে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী রঙ্গিখালী এলাকা থেকে নুরুল হুদার নোহা গাড়িটি ভাড়া করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংঘর্ষে যোগ দিতে যায়। ক্যাম্পে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে। রোহিঙ্গা ভেবে স্থানীয় নুরুল হুদা ও আবুল বশরকেও নির্মমভাবে জবাই ও গুলি করে হত্যা করে তারা।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মো. আলী জানান, নোহা চালক নুরুল হুদা নিহত হয়েছেন সেটা আমি নিশ্চিত। আবুল বশরও নিহত হয়েছেন বলে শুনতে পাচ্ছি। তবে কেউ কেউ বলছে এখনও আবুল বশর বেঁচে আছেন। তাকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আটকে রেখেছে।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ৪ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে লাশগুলো এর-ওর বলে দাবি করছে।

তবে স্থানীয় শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন জানান, নিহত চারজনের মধ্যে দুইজন স্থানীয় নোহা গাড়ির চালক নুরুল হুদা ও হেলপার আবুল বশর।

এদিকে, দুই গাড়ি চালককে হত্যার ঘটনায় ‘আরসা’ গ্রুপের হাতে নিহত হন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্নার ভাই গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ নামের ২ জন রোহিঙ্গা। আরসা সদস্যরা এপিবিএন সদস্যদের ঘেরাও রেখেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

নিহত নুর হুদার ভাই ইসমাইল জানান, নিহত নুরুল বশর ও নুর হুদাকে হ্নীলা থেকে রোহিঙ্গারা রিজার্ভ ভাড়া করে নিয়ে কুতুপালং গেলে ভাড়ার টাকা নিয়ে যাত্রীদের তর্কাতর্কির জের ধরে তাদেরকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী যাত্রীরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি৷

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত ঘটনায় সন্ত্রাসী মুন্নার ভাইসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে সন্ত্রাসী মুন্নার ভাই ছাড়া বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গা দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন। প্রাথমিকভাবে চারজনকেই রোহিঙ্গা বলে দাবি করেছিলেন শৃঙ্খলাবাহিনী। কিন্তু সকালে নিহতদের মাঝে দু’জন স্থানীয় বলে প্রচার পাওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION