বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
বার্তা পরিবেশক:
গত ১৮ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে ‘ প্রবাসীর জায়গায় দেয়াল নির্মাণে চাঁদা দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সংবাদে বলা হয়েছে সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়া এলকায় প্রবাসীর জায়গায় দেয়াল নির্মাণে চাঁদা দাবির করেছে জাকের ও কামাল। বলা হয় এর আগেও গত ১৬ সেপ্টেম্বরও তাদের উপর আমরা হামলা করি। এবং আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মূলতঃ ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দের পাড়ায় এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ কাজ করছে এলজিইডি। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এলাকার সাধারণ মানুষ নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। সম্প্রতি রাস্তার পার্শ্বে স্থানীয় ফরিদুল আলমের ছেলে আমানুল হক, জিয়াবুল হক ও মেয়ে নুসরাত শারমিন সুমি রাস্তার জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করে। এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে তাদের রাস্তার জমি বাদ দিয়ে সীমানা প্রাচীর দেয়ার অনুরোধ জানান সাবেক মেম্বার জাকির হোসেন।
কারণ জমি দখল করে সীমানা দেয়াল নির্মিত হলে সংকুচিত হয়ে পড়বে রাস্তা। এতে চলাচলে ব্যঘাত ঘটবে। বর্তমান মেম্বার মৌলানা ফজল করিমও তাদের রাস্তার জমি ছেড়ে দিয়ে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা কারো কথায় কর্ণপাত না করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে।
সর্বশেষ গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সাবেক ইউপি মেম্বার জাকির হোসেন এর ভাই কামাল হোছেন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাস্তা দখল না করার জন্য বুঝাতে গেলে আমানুল হক, তাদের চাচতো বোনের জামাই ইসমাঈল, ফরিদুল আলম, নুসরাত শারমিন সুমি, সেলিনা আক্তার, নুর তানজিন তাহসিনসহ আরও ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত কামালকে দা, কিরিচ, লোহার রড দিয়ে বেধম মারধর করা হয়। তার চোখে ছুরিকাঘাত ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় লাগিয়ে থেতলে দেয়া হয়। পরে তার আর্ত চিৎকারে সাবেক ইউপি মেম্বার জাকের হোসেনের পুত্র সাখাওয়াত হোসেন এগিয়ে আসলে তাকেও লোহার রড, কিরিচ, হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক জখম করা হয়।
তাদের উদ্ধার করতে সাবেক ইউপি সদস্য জাকের হোসেন এর ভাই আনোয়ার হোসেন আসলে তাকেও ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পিছু হটলেও পরিবারের মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শ্লীলতাহানি করে মাদক কারবারী ইসমাঈল। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোছেন বাদী হয়ে ফরিদুল আলমের পুত্র আমানুল হক, কালুর দোকান এলাকার ফজল আহমদের পুত্র মো. ইসমাঈল, মৃত আবুল খাইর এর পুত্র ফরিদুল আলম, মো. মঈনের স্ত্রী নুসরাত শারমিন সুমী, মো. ইসমাঈলের স্ত্রী সেলিনা আক্তার ফরিদুল আলমের কন্যা নুর তানজিনা বিনতে তাহসিনসহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হামলাকারীরা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে উল্টো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি সাবেক ইউপি সদস্য জাকের হোসেনসহ তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। জাকের হোসেনকে দেয়া হয়েছে চাঁদাবাজির অপবাদ। এছাড়া দেলোয়ার হোসেনকে মাদক ব্যবসায়ী সাজানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়ে চরম অসন্তোষ। এলাকাবাসী জানান, সাবেক মেম্বার জাকের হোসেন এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে উল্টো তার পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়। তাকে ও তাঁর পরিবারের একের পর এক বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এলাকাবাসী অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এলাকাবাসী আরও জানায়, টেকপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা ফজল হাজীর ছেলে রোহিঙ্গা ইসমাঈল ও তার ভাই হাসান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইসমাঈলের ইন্দনেই মূলতঃ এই ঘটনা সংঘঠিত হয়। জাকির হোসেন মেম্বার প্রতিবাদলিপিতে জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসলে তারা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। কিন্তু মহিলা এবং আমার আত্বীয় হওয়ার কারণে আমি তাদের ঝগড়া না করার পরামর্শ দিয়ে ঘটনা মিমাংসা করার চেস্টা করি। কিন্তু তারা উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে এবং ফেসবুকে আমি চাঁদাদাবী করেছি বলে মিথ্যা অপবাদ রটায়। ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমি সচেতন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রতিবাদকারী
জাকের হোসেন, কামাল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন
পিতা- মৃত হাজী হাফেজ আহমদ
চাঁদেরপাড়া, ঝিলংজা ইউনিয়ন, কক্সবাজার।