বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মুজিব কিল্লা নির্মাণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নির্দেশ

ফাইল ছবি

এস. এম. রুবেল, মহেশখালী:

 ‘ইতিমধ্যে তাদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরেও কাজ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে-মোঃ মাহফুজুর রহমান,মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ’

মহেশখালীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুজিব কিল্লা নির্মাণের কাজ করছে মেসার্স এম. এইচ. কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি মালিকানাধীন চাষাবাদের জমির অবকাঠামো নষ্ট করে মাটি নেয়ায় জমির মালিকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ নির্মাণ কাজটি আপাতত বন্ধ করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জমির মালিকরা দাবী করেন।

জানা যায়, মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়ায় বেড়িবাধের দক্ষিণে সাগরঘেষে চরাঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রালয়ের উদ্যোগে চরপাড়া মুজিব কিল্লা নির্মাণের কাজ গত ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। ২ কোটি ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুজিব কিল্লাটির কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পার্শ্ববর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন ধান চাষের জমিতে যথেচ্ছা বড় বড় গর্ত করে মাটি নিয়ে জমি নষ্ট করায় জমির মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এড. ফারুক ইকবাল, কবির আহমদ, ফিরোজ খান, মোঃ রিদোয়ান, মাস্টার জামাল, মিসকাত সহ একাধিক জমির মালিকরা জানান, মহেশখালী পৌরসভার হামিদরদিয়া মৌজার ১১,১২,১৯ নং এম.আর.আর খতিয়ান এবং দিয়ারা খতিয়ান নং -০৮, মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন নং – ৬৩৪১/১৭ মামলার রায় মতে ২৫০ জন শরীকদারের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বিনা অনুমতিতে মুজিব কিল্লা নির্মাণের জন্য মাটি তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে উক্ত জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে একাধিক গর্ত খনন করে জমির অবয়ব ও কাঠামো বিনষ্ট করা হয়েছে। উক্ত কাজ বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক প্রশাসন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এদিকে ২৮ অক্টোবর সরজমিনে চরপাড়ায় মুজিব কিল্লা নির্মানের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ৩টি বড় বড় ট্রাক নিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন চাষাবাদের জমি থেকে ড্রেজার মেশিনে মাটি খনন করে পরিবহন করা হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে মুজিব কিল্লাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সাগরঘেষে জনমানবশূণ্য চরাঞ্চলে এ কিল্লাটি নির্মিত হওয়ায় ভয়াবহ দুর্যোগের সময় স্থানীয়দের কতটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা দুর্যোগের সময় স্থানীয় দক্ষিণে চরাঞ্চলে নয় বরং উত্তর দিকে উঁচু জায়গায় চলে আসে। তাই মুজিব কিল্লাটি স্থানানন্তর করে উঁচু জায়গায় করার দাবী জানান তারা।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুইচিং মং মারমা জানান, উক্ত জমি নিয়ে একটি পক্ষ মালিকানা দাবী করে লিখিত অভিযোগ করায় সরজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তহশীলদারও উক্ত জায়গায় খাস ও রেকর্ডীয় জমি আছে মর্মে জানান। ফলে উভয় পক্ষকে তাদের কাগজ নিয়ে বসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করে কোন পক্ষ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইতিমধ্যে তাদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরেও কাজ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION