বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

করোনাভাইরাস : জেলার সার্বিক পরিস্থিতি জানালেন- জেলা প্রশাসক

ভয়েস প্রতিবেদক :

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়  কক্সবাজার জেলার সকল জনসাধারণকে আইন মেনে স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক চলাফেরা করতে হবে জানালেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ।  এবং  আগামী সময়ে নাগরিকদের পালনীয় বিষয়েরও নির্দেশ প্রদান করেন ৮ মে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

পালনীয় নির্দেশবলী 

১) করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে জনগনকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।
২) রমজান ও ইদ-উল-ফিতর কে সামনে রেখে আগামি ১০ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ তারখি হতে সীমিত পরিসরে
সকাল ১০.০০ টা হতে বিকাল ০৪.০০ টা পর্যন্ত দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। তবে
ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় বড়
শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত
যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩) জেলার সকল রেস্তোরা শুধুমাত্র পার্সেল সার্ভিস প্রদানের জন্য সকাল ১০.০০ টা হতে বিকাল ৫.০০ টা
পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রেস্তোরার অভ্যন্তরে কোন অবস্থাতেই খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা যাবে না।
৪) দোকানপাট এবং শপিংমলসমূহ আবশ্যিকভাবে বিকাল ০৪.০০ টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
৫) ঔষুধের দোকান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা
থাকবে ।
৬) মাস্ক পরিধান ব্যতীত কোন ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবে না।
৭) সকল বিক্রেতা/দোকান কর্মচারীদের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে।
৮) প্রতিটি শপিংমল/বিপনী বিতান এর সামনে আবশ্যিকভাবে সতর্কবাণী “করোনা স্বাস্থ্য বিধি
না মানলে, মৃত্যু ঝুঁকি আছে” সংবলতি ব্যানার টানাতে হবে।
৯) পণ্যবাহী গাড়িসমূহ এ জেলায় কেবলমাত্র সকাল ০৬.০০ টা হতে সকাল ১০.০০ টার মধ্যে
মালামালসমূহ লোড/আনলোড করতে পারবে।
১০) পণ্যবাহী কোন গাড়ি এ জেলায় সকাল ১০.০০ টা হতে সন্ধ্যা ০৬.০০ টা পর্যন্ত কোন ক্রমেই চলাচল
করতে পারবে না। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত গাড়িসমূহ শরণার্থী ত্রাণ ও
প্রত্যাবাসন কমিশনার মহোদয়ের দেয়া অনুমতিপত্র মতে চলবে।
১১) কক্সবাজার জেলার সাথে অন্যান্য জেলার এবং কক্সবাজার জেলাধীন আন্ত:উপজেলার গণপরিবহন/ব্যক্তিগত
গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
১২) স্ব স্ব উপজেলায় আভ্যন্তরীণ গাড়িমূহের চলাচল সকাল ১০.০০ টা হতে বিকাল ০৫.০০ টা পর্যন্ত
সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। বিকাল ০৫.০০ টার পর হতে সকল প্রকার গাড়ি (ব্যক্তিগত/ভাড়ায় চালিত)
চলাচল বন্ধ থাকবে।
১৩) সাধারণ ছুটি/ চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালীন জরুরি পরিসেবা (যেমন Ñ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও
অন্যান্য জ¦ালানী, ফায়ার সার্ভিস এর গাড়িসমূহের) চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
১৪) চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, রোগী বহনকারী  এম্বুলেন্স এবং ঔষুধসহ
চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চলাচল করতে পারবে।
১৫) সাধারণ ছুটি/ চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালীন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না।
১৬) কক্সবাজার জেলাধীন সকল ব্যাংকের শাখাসমূহ তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা
অনুযায়ী পরিচালনা করবে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি 

৮ মে ২০২০ জেলায় নতুন করে ৪ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অদ্যবধি কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৫ জন, যার মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছেনে, ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৬০ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। মোট ১৯০৪ জনকে হোম কোয়ারন্টোইনে এবং ৩১৯ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারন্টোইনে আওতায় আনা হয়েছে। কোয়ারন্টোইন হতে  ছাড়প্রাপ্ত ব্যক্তি ১১৬১ জন।

চিকিৎসা প্রস্তুতি

৮ টি সরকারি ও ২৯ টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ১৩৯৭ টি। তন্মধ্যে কোভডি-১৯ চিকিৎসায় ২৮২ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়ছেএসকল চিকিৎসাকেন্দ্রে মোট ২৪১ জন ডাক্তার ও ২৭৫ জন নার্স দ্বারা পরচিালতি হচ্ছে।  সরকারি হাসপাতাল সমূহে মোট ৭,১১৬ পিস সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই বিতরণ করা হয়েছে এবং ৩,৪৯৫ পিস পিপিই মজুদ রয়েছে। কোভডি-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি স্থানান্তরের জন্য ১১ টি পৃথক অ্যম্বুলন্সে এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।  আইসোলেশনে ব্যবস্থা র্পযাপ্ত না থাকলওে রামু উপজলোয় নবনর্মিতি হাসপাতালরে একটি নতুন ভবনে ৫০ শয্যাবশিষ্টি আইসোলেশন  ইউনিট এবং চকরিয়া উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরো ০১ টি আইসোলেশন ইউনিট প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য হােটেল মিডিয়াকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সরকারি সহায়তা 

কোভিড-১৯ এর কারণে কর্মহীন  হয়ে পড়া অতিদরিদ্র দিনমজুর মানুষদের জরুরি প্রয়োজনে খাদ্য সহায়তা প্রদানে  জেলায় এখন র্পযন্ত জিআর চাল ১৮৫০ মেঃটন , জিআর ক্যাশ ৯৬ লক্ষ টাকা এবং শিশুখাদ্য বাবদ ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এসেছে।  যার মধ্যে উপজেলায় জিআর চাল ১৫৫০ মেঃ টন,জিআর ক্যাশ ৭৫ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা এবং শিশুখাদ্য বাবদ ২১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।  উপজেলা পর্যায়ে  ত্রাণ বিতরণ চলমান রয়েছে। পরবর্তীেতে  বিতরণের  জন্য জিআর  চাল ৩০০ মেঃ টন, জিআর  ক্যাশ ২০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ০৬ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে।

 রোহঙ্গিা ক্যাম্পে গৃহীত র্কাযক্রম

এ পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর ট্রানজিট সেন্টারে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে মিয়ানমার ভারত এবং অষ্ট্রেলিয়া থেকে আগত মোট ৩৬ জন। এ সংক্রান্ত সেবা প্রদানের জন্য ২৮০ জন ডাক্তার ও নার্সকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোর, কক্সবাজার সদর হসপিটালসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী ডাক্তার নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। কোডিভ-১৯ সনাক্ত রোগীদের জন্য ৭৪টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কোয়ারেন্টাইন রুম
৫৮টি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ক্যাম্পে দর্শণার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গা, বার্মিজ ও ইংরেজী ভাষায় করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশরোধে কঠোর নজরদারী অব্যাহত রাখার জন্য বিজিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে। ক্যাম্পে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, এলপিজি বিতরণ, খাদ্য বিতরণসহ জরুরী সেবা ব্যতীত অন্যান্য সকল কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ক্যাম্পে যে কোন ধরণের যানবাহন প্রবেশ ১০% ও কর্মরত এনজিও কর্মচারীর
সংখ্যা ২০% পর্যন্ত নামিয়ে আনা হয়েছে। সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন ও ক্যাম্পে কর্মরত জাতিসংঘ সংস্থাসমূহের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরস্থিতিতি 

জেলায় করোনাভাইরাস (কোভডি-১৯) প্রতিরোধে জনসচতেনতা সৃষ্টরি লক্ষ্যে প্রচার- প্রচারনা, দ্রব্যমূল্যরে র্উধ্বগতি রোধে ও সামাজকি দূরত্ব বজায় রখেে চলাচল নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে  নিয়ে যৌথ অভিযান/টহল পরিচলনাসহ কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের আদেশ মোতাবেক সকল র্কাযক্রম জেলা প্রশাসন র্কতৃক পরিচালনা করা হচ্ছে।  ১৮ র্মাচ, ২০২০  তারিখ হতে  অদ্যবধি কক্সবাজার জেলায় মোবাইল র্কোটে বাজার
মনিটরিং  এ ৩১৪ টি মামলায় ২১,২৩,৫০০ টাকা এবং করোনা সঙ্গনিরোধ ৭৬৩ টি মামলায় মোট ২০,৮৪,৮৫০ টাকা জরমিানা আদায় করা হয়েছে।

এ দুর্যোগ মোকাবলোয় সকল শ্রেণি পেশার  মানুষ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকবৃন্দ সহ র্সবস্তরের জনগনের অব্যাহত সর্মথন ও সহযোগতিা প্রত্যাশা করেন জেলা প্রশাসক। এবং ত্রাণ বিতরণে কোন ধরনের অসঙ্গতি দেখলে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম- ০৩৪১৬২২২২, ০১৮৭২৬১৫১১১ জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।

ভয়েস/জেইউ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION