বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

চকরিয়াবাসী সচেতন হই, না হলে এই অবস্থার জন্য আমরাই দায়ী হব

 এডভোকেট মুহাম্মদ শাহেদ হোছাইন 

সুপ্রিয় চকরিয়াবাসী…..
আচ্ছালামু আলাইকুম।
একদিন আগেও চকরিয়ার এই জনপদ ছিল করোনা মুক্ত!!
করোনা মানুষের শরীরে আপনা-আপনি সৃষ্টিকর কোন রোগ নই। ইহা ভাইরাস জনিত একধরনের ছোঁয়াচে রোগ। তাই আমাদের বুঝা উচিত।

এখনো আমাদের অনেকটা বুঝার বাকী এবং আমাদের মাঝে যথেষ্ট সচেতনতার অভাব রয়েছে। তা নাহলে আজ আমাদের চকরিয়ার এই জনপদে এমন করুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। আর এই অবস্থার জন্য একমাত্র আমরাই দায়ী।
একদিন আগেও মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষা সবুজে ভরা চকরিয়ার এই জনপদ ছিল অনেকটা করোনা মুক্ত। কিন্তু আজ সেই দিন আর নেই। আজ এই অবস্থা সৃষ্টির জন্য সেই অসচেতন ব্যক্তি গুলো দিকে আঙুল তুলতে হচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়ে।
সরকার ও প্রশাসন যৌথভাবে করোনার এই দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যে সুকৌশলপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। সরকার সাধারন ছুটির আওতায় এনে সঠিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ ও পরবর্তীতে সকল অফিস আদালত সমূহ বন্ধ এবং প্রয়োজনে প্রণোদনা প্রদানসহ পোষাক শিল্প কারখানা তথা গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করে এবং তৎ পরবর্তীতে তা দফায় দফায় বৃদ্ধি করতঃ যে যুগান্তকারী সিন্ধান্ত নিয়েছেন তা সবিই আমাদের প্রাণ রক্ষার্থে এবং জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণার্থে।

এছাড়া, জাতির এ দূর্দিনে সরকারের সামরিক বাহিনী,রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,ঘরে থাকার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা,এলাকায় বহিরাগত কোন ব্যক্তি এলে তার হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য যে তৎপর ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রসংসার দাবি রাখে।
আমাদের ডিসি মহোদয় কক্সবাজার জেলাকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম লক ডাউন ঘোষণা করে অনেকটা সুকৌশলে করোনা মোকাবেলা করেছেন। তা না হলে এই কক্সবাজারের অবস্থা চীনের উহান সিটি,ইতালীর লেম্বারদিয়া সিটি কিংবা আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটি থেকেও ভয়াবহতার রূপ নিয়ে মৃত্যূপূরীতে পরিণত হত।
স্যার আপনাকে স্যালুট।

করোনা ভাইরাসটি নিয়ে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের এলাকায় যাদের থেকে করোনা সনাক্ত হয়েছে তারা কোন না কোনভাবে বিভিন্ন করোনা কবল এলাকায় ব্যবসার কাজে যাতায়াত করেছেন কিংবা চাকরির সুবাদে সেখানে অবস্থান করেছেন।
একটি ভিড়িও ফুটেজে দেখলাম, চকরিয়ায় ফাঁসিয়াখালী যে করোনা রোগী (সাইদুল ইসলাম-৩০) সনাক্ত হয়েছে সে চকরিয়া থানা পুলিশের নিকট বিবৃতিতে বলেছে, সে চট্রগ্রামে ইপিজেট এলাকার একটি গার্মেন্টস কর্মি এবং সে গত ১০/১৫ দিন আগে হালকা জ্বর নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেলে হাসপাতালে নমুনা টেস্টে গতকাল তার করোনা সনাক্ত হয় বলে জানান। এতে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এই পরিস্থিতি করোনা রোগ বহনের অন্যতম একটি উপায় এবং এই পরিস্থিতির জন্য একমাত্র আমরাই দায়ী।

আজ দুঃখের সহিত বলতে হয়, করোনা সচেতনতা মানে ব্যবসার কাজে কেউ করোনার আঁতুড় ঘর খ্যাত নারায়ণগঞ্জে বা ঢাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকা ও কোন অসৎ উপায়ে গেলে ফিরে আসার সাথে সাথে তাকে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা এবং যারা এলাকায় আছি তারা অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যাওয়া,অযথা রাস্তাঘাটে আড্ডা না দেওয়া, প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভাবে লকডাউন তদারকি বা জোরদার করা। আমি মনে করি ইহা করোনা প্রতিরোধে অনেকাংশে সুফল বয়ে আনাবে ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে বলা যায়, করোনা আক্রান্ত হওয়া দোষের কিছুই না, এটা একটা বিশ্বব্যাপী মহামারি। কোন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলে বা করোনাতে মৃত্যু হলে যে দূর্বিসহ পরিবেশ সৃষ্টি হয় তা যে আমাদের কারো কাম্য না হয়। করোনা এবং এরূপ পরিবেশ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সচেতনতা এবং একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাকে, আপনাকে, আমার-আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীকে এই আত্নঘাতী করোনা থেকে রক্ষা করতে। তাই করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার সহিত সুক্ষ কৌশল অবলম্বন করে ও প্রয়োজনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি এবং পবিত্র মাহে রমজানে আল্লাহ দরবারে একটি সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করি। আ….মীন।

লেখক: এডভোকেট, জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম ও মানবাধিকার কর্মী, মোবাইল- ০১৮১৩ ৬২৩০৯০। 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION