শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মামদানি জানালেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা আইনশৃঙ্খলা সভায় আওয়ামী দোসর ফারুক, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বক্তব্য আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে-সালাহউদ্দিন আহমদ  কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাতে তছনছ আর্জেন্টিনা জিতলে কেন বিয়ে করবেন পরীমণি? মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি : ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে অটোপাস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সৎ ব্যবসায়ীর মর্যাদা

আশফাক সালেহীন:
সৎ ব্যবসায়ীর মর্যাদা
মহান আল্লাহ সকলের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। তিনি রিজিক সরাসরি কারও হাতে তুলে দেন না। বরং বান্দার শ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা উপার্জন করতে হয়, এটাই আল্লাহর নিয়ম। মানুষ মাটির মাধ্যমে ফসল, বিবিধ গাছপালা এবং অসংখ্য ফলমূল, পানির মধ্যে সুস্বাদু মাছ, বিশেষ করে স্থলে, শূন্যে ও আকাশে বিবিধ পশুপাখিসহ অগণিত খাদ্যসামগ্রী আল্লাহপাকের নেয়ামত স্বরূপ আহরণ করে।

এছাড়া মানুষ নিজ নিজ বৈধ কর্মক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ বহুবিধ পেশা ও কর্মের মাধ্যমে রুজির জোগান দিয়ে থাকে। প্রসঙ্গত বলতে হয়, মানুষ যত দিক দিয়েই রুজি অর্জন করুক না কেন, তার ১০ ভাগের ৯ ভাগই প্রাপ্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। এমনকি ইতিহাসে দেখা যায়, আল্লাহর অলি, দরবেশ, পীর-ফকির এবং মহান বুজুর্গানে দ্বীন বিবিধ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.) স্বয়ং ব্যবসা-বাণিজ্য করেছিলেন। হজরত খাদিজা (রা.)-এর পক্ষে তিনি বেশ কয়েকবার সিরিয়া গমন করেন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। এছাড়া তিনি মরুপ্রান্তরে মেষও চড়াতেন।

বৈধভাবে হালালপন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য করা বড় ইবাদত। এটি জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে এক বড় মাধ্যম। একথা স্মরণ রাখতে হবে, সমাজে যারা অসৎ-অসাধু পথে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল অর্থ উপার্জন করে, জোর-জুলুম, মিথ্যা, প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা করে অপরকে ঠকিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে নিপতিত করে, অঢেল টাকা আয় করার বদ নিয়তে হেন ধরনের কুপথ নেই যা তারা অবলম্বন করে না এবং পর্বতসম অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

আমাদের সমাজে আরও লক্ষ করা গেছে, এসব অসৎ-অসাধু ব্যবসায়ী সমাজে সুনাম অর্জনের জন্য দেশের বিশেষ বিশেষ এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, রাস্তাঘাট, পুল, স্কুল ও কলেজসহ বিবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রচুর অর্থ দিয়ে এক ধরনের মাতব্বর সেজে বসে। তাদের প্রতি আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর ধিক্কার। লোক দেখানো দান বা সেবা করা অতীব জঘন্য অপরাধ।

সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক হালাল উপার্জনের ক্ষেত্র হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায় যারা সাধারণ মানুষকে অহেতুক বাটপারি থেকে বিরত থেকে সম্পূর্ণ সৎ ও সাধুতার সঙ্গে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করে, সমাজের কল্যাণ সাধন করে, তারাই সমাজ, দেশ ও জাতির মহান সেবক। হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীরা পরকালে নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। অর্থাৎ সৎ ব্যবসায়ীরা কেয়ামতের মাঠেও সম্মানিত হবে।

আমাদের দেশ ও সমাজে এখনো এমন সৎ ও সাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রির মাধ্যমে সমাজ ও জাতির খেদমত করে মহৎ সেবাকার্যে নিয়োজিত রয়েছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে, ‘এসব সৎ ও সাধু ব্যবসায়ী মহান সেবকের প্রতি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত, বরকত ও নেয়ামত বর্ষিত হবে।’ এরা একটি জাতির সম্মানিত গোষ্ঠী, যাদের দ্বারা দেশ, সমাজ ও জাতি মানবতাবোধের পরিচয় পায় এবং মহা কল্যাণ ও আশীর্বাদস্বরূপ যে কথা আমাদের রাসুল (সা.) বহু আগেই পৃথিবীবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। আসুন, আমরা সৎ ও হক পথে হালাল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও জাতির মহান সেবক হই।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION