শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
একাদশ ও আলিম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং মূল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা মার্কশিট আটকে রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর মূল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমপিও বাতিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও আলিম শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালায় ভর্তি ফি, সেশন চার্জ, মাসিক বেতন ও অন্যান্য খরচের বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফি ২২০ টাকা এবং বোর্ডের প্রাথমিক নিশ্চায়ন ফি ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও অবস্থানভেদে ভর্তি ও সেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ভর্তি ও সেশন ফি নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা, জেলা সদরে ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
অন্যদিকে, নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফিসহ ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি কলেজকে সেশন চার্জ, মাসিক বেতনসহ যাবতীয় খরচের তালিকা প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। বোর্ড অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা সব ধরনের ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের খাতওয়ারি খরচের হিসাবও পৃথকভাবে জমা দিতে হবে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফি যতটা সম্ভব মওকুফ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নীতিমালার ৫.৯ বিধিতে শিক্ষার্থীদের মূল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। একই সঙ্গে কোনো অজুহাতেই শিক্ষার্থীর মূল ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখা যাবে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে ভর্তি নিষিদ্ধ
নীতিমালায় অনুমোদনহীন শাখা, ক্যাম্পাস বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেসব কলেজের শুধু স্থাপনের অনুমতি রয়েছে কিন্তু পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই, তারাও কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।
অনুমোদন ছাড়া কোনো শাখা, ক্যাম্পাস বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হতে পারে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ভয়েস/আআ