রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
মুনীরুল ইসলাম:
একটি শিশু যখন পৃথিবীর আলো দেখে, তখন সে আসে এক অনাবিল সম্ভাবনা নিয়ে। তার চোখে থাকে আগামী দিনের স্বপ্ন, তার হাসিতে থাকে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নির্মলতার আভাস। কিন্তু সেই শিশুটিই যদি জন্মের পর থেকে অবহেলা, বঞ্চনা, নির্যাতন, ক্ষুধা, ভয় কিংবা অনিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে তার কোমল হৃদয়ের ওপর যে ক্ষত তৈরি হয়, তা অনেক সময় সারাজীবন বহন করতে হয়। তাই শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার আধুনিক মানবাধিকারের আলোচনার বিষয় হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের অধিকার জন্মের পর থেকে শুরু হয় না; বরং মানুষের মর্যাদা তার সৃষ্টির মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।’ [সুরা ইসরা : আয়াত ৭০] এই মর্যাদার ছায়ায় শিশুও অন্তর্ভুক্ত। সে দুর্বল বলে তার অধিকার কম নয়; বরং তার দুর্বলতার কারণেই তার প্রতি সমাজের দায়িত্ব আরও বেশি।
ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে কন্যাশিশুর জন্মকে অনেক পরিবার লজ্জা ও বোঝা মনে করত। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নির্মম প্রথাও প্রচলিত ছিল। কুরআনুল কারিমে সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন তুলেছে- ‘যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ [সুরা তাকভির : আয়াত ৮-৯] এই প্রশ্ন একটি ঐতিহাসিক অপরাধের নিন্দা করার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর জীবনের মূল্য ঘোষণা করে।
শিশুর প্রথম ও মৌলিক অধিকার হলো বেঁচে থাকার অধিকার। ইসলাম কোনো শিশুকে তার লিঙ্গ, পারিবারিক অবস্থা কিংবা আর্থিক অবস্থার কারণে জীবন থেকে বঞ্চিত করার অনুমতি দেয়নি। কুরআনুল কারিমে সন্তান হত্যার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না, আমিই তাদের এবং তোমাদের রিজিক দিই।’ [সুরা আনআম : আয়াত ১৫১]
অন্যত্র একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা এসেছে সুরা ইসরা: আয়াত ৩১-এ। অর্থাৎ সন্তানের জীবন, তার ভবিষ্যৎ ও তার রিজিক সম্পর্কে হতাশা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই শিশুর জীবন হরণ করার অজুহাত হতে পারে না।
শিশুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো পরিচয় ও বংশপরিচয়ের অধিকার। ইসলাম একজন শিশুকে তার পিতা-মাতার পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াকে সমর্থন করে না। কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তাদের পিতাদের নামে ডাকো; এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত।’ [সুরা আহযাব : আয়াত ৫] এর মধ্যে শিশুর পরিচয়, পারিবারিক মর্যাদা এবং সামাজিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি নিহিত রয়েছে।
শিশুর অধিকার শুধু খাদ্য ও পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়। তার রয়েছে ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার। শিশুর কোমল মনকে ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তোলার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে দেখতে পাই। তিনি শিশুদের সালাম দিতেন, তাদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ আচরণ করতেন, তাদের কোলে নিতেন এবং আদর করতেন। হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত হাসান ইবনে আলী রা.-কে চুমু দেন। তখন এক ব্যক্তি বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনি বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।’ [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]
এই হাদিসের শিক্ষা গভীর। শিশুকে ভালোবাসা কোনো অতিরিক্ত অনুগ্রহ নয়, বরং এটি ইসলামি চরিত্রের অংশ। একটি শিশু যখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে স্নেহ পায়, তখন তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জন্মায়। আর যখন সে প্রতিনিয়ত গালাগাল, ভয় দেখানো, অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে ওঠে, তখন তার ভেতরের নির্মল পৃথিবী ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যায়।
ইসলাম শিশুর লালন-পালনের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্ধারণ করেছে। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ [সুরা তাহরিম : আয়াত ৬] এখানে পরিবারকে রক্ষা করার নির্দেশ শুধু খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বাস, নৈতিকতা, সঠিক শিক্ষা, শিষ্টাচার এবং বিপদ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
শিশুর শিক্ষার অধিকার ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জ্ঞান অর্জন ইসলামি সভ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞানার্জনের প্রতি মুসলিমদের উৎসাহিত করেছেন। শিশুর শিক্ষা বলতে শুধু পাঠ্যবই মুখস্থ করাকে বোঝায় না। তাকে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, শিষ্টাচার, সহমর্মিতা, আত্মমর্যাদা, আল্লাহভীতি এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখানোও শিক্ষার অংশ। একই সঙ্গে তার বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী পার্থিব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম শিশুর সম্পদের অধিকারও স্বীকার করেছে। এতিম শিশুর সম্পদ আত্মসাৎ করার ব্যাপারে কুরআনুল কারিম অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে।’ [সুরা নিসা : আয়াত ১০] এতিম শিশুর সম্পদ রক্ষা করা আইনি দায়িত্ব হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়ও এটি। এখানে এতিম শিশুর প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যে শিশু বাবা-মায়ের একজন বা উভয়জনকে হারিয়েছে, সে যেন সমাজের করুণার পাত্র হয়ে না থেকে অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, ইসলাম সেই পরিবেশ তৈরির শিক্ষা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি এবং এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব’- এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের দিকে ইঙ্গিত করেন। [সহিহ বুখারি] এতিমের প্রতি যত্নকে তিনি জান্নাতের নৈকট্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসলামের শিক্ষা আরও ব্যাপক। শিশুকে শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, অপমান ও মানসিক নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতে হবে এবং এমন পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে হবে যেখানে তার চরিত্র, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম] এই হাদিস শিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাবা-মা সন্তানের অভিভাবক; শিক্ষক শিক্ষার্থীর অভিভাবকসুলভ দায়িত্বে, সমাজও তার নিজস্ব পরিসরে শিশুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে দায়বদ্ধ। কোনো শিশুর ওপর নির্যাতন ঘটলে শুধু নির্যাতনকারী নয়, কখনো কখনো নীরব দর্শকরাও সামাজিকভাবে দায় এড়াতে পারে না।
ইসলাম শিশুর প্রতি অন্যায় বৈষম্যও নিরুৎসাহিত করেছে। সন্তানদের মধ্যে ভালোবাসা ও উপহারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করার নির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হাদিসে পাওয়া যায়। হজরত নুমান ইবনে বশির রা. বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা তাঁকে একটি বিশেষ উপহার দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, অন্য সন্তানদেরও কি এমন উপহার দেওয়া হয়েছে? যখন জানা গেল হয়নি, তখন তিনি এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ অনুমোদন করেননি। [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম]
এ শিক্ষা পরিবারে শিশুর মানসিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সন্তানকে বারবার বলা, ‘তুমি কিছুই পারো না’, ‘তোমার ভাই তোমার চেয়ে ভালো’, ‘তুমি আমাদের জন্য বোঝা’- এসব কথা হয়তো মুহূর্তে বলা হয়ে যায়, কিন্তু শিশুর মনে তার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে। ইসলামের ন্যায়বোধ ও স্নেহশীলতার শিক্ষা পরিবারকে এমন আচরণ থেকে দূরে থাকতে শেখায়।
শিশুর নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সীমার প্রতি সম্মান। শিশু ছোট বলে তাকে অপমান করা, সবার সামনে লজ্জায় ফেলা কিংবা তার দুর্বলতাকে নিয়ে হাসাহাসি করা ইসলামি আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কুরআনুল কারিম মানুষকে উপহাস, বিদ্রুপ ও অপমান থেকে বিরত থাকতে বলেছে। [সুরা হুজুরাত : আয়াত ১১] শিশুর ক্ষেত্রেও এই নৈতিক শিক্ষা প্রযোজ্য।
বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সেটা হলো ডিজিটাল জগৎ। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম, ভিডিও ও নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন শিশুদের জীবনের অংশ। তাই শিশুকে শুধু ঘরের দরজা বন্ধ করে নিরাপদ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তার অনলাইন যোগাযোগ, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের নিরাপত্তা, অশোভন বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষা- এসব বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। ইসলামের মূলনীতি হলো ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং আমানত রক্ষা করা। সেই নীতির আলোকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
শিশুশ্রমের বিষয়টিও নতুন করে ভাবার দাবি রাখে। যে শিশুর হাতে বই থাকার কথা, সে যদি অমানবিক শ্রমে নিযুক্ত হয়; যে বয়সে তার খেলাধুলা, শিক্ষা ও সুস্থ বিকাশের সুযোগ পাওয়ার কথা, সে যদি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চাপে জীবিকার বোঝা কাঁধে তুলে নেয়, তাহলে সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করতেই হয়। ইসলাম এতিম, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছে। তাই শিশুদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাদের শোষণ করা ইসলামের ন্যায়বোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শিশুর খেলাধুলা ও বিনোদনের বিষয়েও ইসলামি জীবনদর্শনে ভারসাম্য রয়েছে। শিশু তো শিশু-ই। তার হাসি থাকবে, খেলা থাকবে, কৌতূহল থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনেও শিশুদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ ও আনন্দময় আচরণের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই শিশুকে শুধু শাসন করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সারাক্ষণ পড়ার টেবিলে বসিয়ে মানুষ করার ধারণা ইসলামের সামগ্রিক শিশুশিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাকে ভালোবাসা, খেলাধুলা, শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার সুন্দর সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বড় করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, ইসলাম শিশুকে ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে নয়, বর্তমানের একজন মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবেও দেখে। তার কান্না, ক্ষুধা, নিরাপত্তা, প্রশ্ন এবং স্বপ্নের মূল্য আছে। সে দুর্বল বলে তার ওপর ক্ষমতা দেখানো নয়; বরং তার দুর্বলতাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করাই ইসলামের শিক্ষা।
একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু তাকে বিপদ থেকে দূরে রাখা নয়; বরং এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে সে ভয় ছাড়া প্রশ্ন করতে পারে, অপমান ছাড়া ভুল করতে পারে, ভালোবাসার মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে, জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেতে পারে এবং নিজের স্বপ্নকে ডানা মেলতে পারে। আজ আমাদের পরিবারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সমাজে শিশুর অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। শিশুকে মারধর করে শাসন করা সহজ, কিন্তু তাকে বোঝানো কঠিন। তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া সহজ, কিন্তু তার কথা মন দিয়ে শোনা কঠিন। তাকে অবহেলা করা সহজ, কিন্তু তার ভবিষ্যতের জন্য সময় দেওয়া কঠিন।
একটি শিশু যখন নিরাপদ ঘুমে চোখ বন্ধ করে, তখন শুধু একটি পরিবার নয়- একটি সভ্যতা নিশ্চিন্ত হয়। একটি শিশু যখন ভালোবাসা পেয়ে হাসে, তখন মানবতার মুখ উজ্জ্বল হয়। আর একটি শিশু যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন কেবল একটি শিশুর নয়, আমাদের সামাজিক বিবেকেরও পরাজয় ঘটে। তাই শিশুদের অধিকার রক্ষা কোনো দয়া নয়, কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তাদের জীবন রক্ষা করতে হবে, পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, খাদ্য-পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, সম্পদ ও উত্তরাধিকার রক্ষা করতে হবে, ভালোবাসা দিতে হবে, ন্যায়বিচার করতে হবে এবং সব ধরনের নির্যাতন ও শোষণ থেকে নিরাপদ রাখতে হবে।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ নির্মাণ করবে। তাই তাদের হাতে শুধু বই তুলে দিলেই হবে না; তাদের চারপাশে নিরাপত্তার একটি বৃত্তও তৈরি করতে হবে। কারণ যে শিশুর শৈশব নিরাপদ, তার ভবিষ্যৎও সম্ভাবনাময়। আর যে সমাজ তার শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণময় সমাজে পরিণত হতে পারে।
লেখক: পরিচালক, সম্পাদনা কেন্দ্র; নির্বাহী সম্পাদক, লেখকপত্র
ভয়েস/আআ/সূত্র: রাইজিংবিডি