বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
জিকির উল্লাহ জিকু:
মাতারবাড়ী ইউনিয়নে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানির ধাক্কায় তলিয়ে গেছে ৭০ নং পোল্ডারের সাইটপাড়া এলাকার বেড়ীবাঁধ। যার কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে পানিতে বসতভিটি তলিয়ে গিয়ে ৪ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হবে বলে জানিয়েছে স্থানিয় বাসিন্দারা। তাই একধরণের আতংকে আছে স্থানীয় বাসিন্দারা।মাতারবাড়ি মহেশখালী উপজেলার ১ ইউনিয়ন পরিষদ।
মাতারবাড়ি ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ নাছির কক্সবাজার ভয়েস.কমকে বলেন, “বার বার বাঁধ ভাঙ্গার ফলে এলাকার মানুষ আতংকে থাকে। এখনো প্রায় ৬, ৫, ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জিও টিউব দিয়ে বাঁধ দেয়ার ফলে প্রতিবছরই কোননা কোনো পয়েন্টে ভেঙ্গে যায়।তাই একটা টেকসই বাঁধ দিতে গেলে সরকার যেন ব্লক দিয়ে দেন। তাহলে আগের মতোই টেকসই বাঁধ হবে সুফল পাবে বলে তাঁর মত।
স্থানিয়দের অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, মানসম্মত টেকসই টিউব দিয়ে বেঁড়িবাধ রক্ষা করার কথা থাকলে ও ২/৩ টি নামে মাত্র টিউব দিয়ে সিংহভাগ অরক্ষিত রাখে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। না হলে গত বছর কাজ করা বাঁধ এবছর কম পানির ধাক্কা সামলাতে ব্যর্থ কেন? অথচ পূর্ণ বর্ষা এখনো আসেনি। আমাদের আশংকাও যায়নি।”
এবিষয়ে মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আক্ষেপের সূরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “মাননীয় এমপি, মহোদয়, জেলা প্রশাসক, সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড করোনা নামক মহামারীর এ দুঃসময়ে এমতাবস্থায় আমার মাতার বাড়ীর পশ্চিমে সাইট পাড়া ৭০ নং ফোল্ডারের বেড়ীবাধেঁর যে বেহাল অবস্থা আগামী বর্ষায় হাজার হাজার একর জমিতে ধান চাষ হবেনা। সাইরার ডেইল জেলে পাড়ায় এ বর্ষায় প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার গৃহহীণ হবে।
এ ব্যাপারে বহুবার এম আই. ডি. আই মিটিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার কে অবহিত করেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সাথে আমার কয়েক দফা কথা হয়েছে মোবাইলে। সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত আছেন। জ্যাইকার অর্থায়নে ৭৬০ কোটি টাকা বেড়ীবাধেঁর বরাদ্ধ হয়ে গেছে, হচ্ছে, হবে তবে আদৌ এর শেষ কোথায় জানিনা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর (ওয়াপদা কক্সবাজার) সর্ব মহলে বলে বেড়ান জিও, টিউব দিয়ে বর্ষা রক্ষা করবেন।কই তিনটা টিউব ছাড়া আর কিছুই না করে চলে গেলেন নিয়োগ প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী, মোঃ সালমান কক্সবাজার ভয়েস.কমকে বলেন, “বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গার বিষয়ে অবগত আছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে বাঁধের কাজ করা হবে। বাঁধের টেকসই প্রশ্নে বলেন, গত বছর প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভালভাবে কাজ করা হয়েছিল। এবারও হবে বলে আশা তাঁর।”
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রবীর কুমার গোস্বামী কক্সবাজার ভয়েস.কমকে বলেন, “ব্লক হচ্ছে টেকসই, ব্যয় সাপেক্ষ এবং সময় সাপেক্ষ। তাই আমরা জরুরী ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জিও টিউব দিয়ে প্রাথমিক ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করি। সে হিসেবে মাতারবাড়িতেও জনস্বার্থে দ্রুত কাজ করা হবে সেভাবে। জানতে চাইলে, উর্ধ্বতন অফিসে এটাও প্রস্তাব আছে, কিভাবে ব্লক দিয়ে টেকসই বেড়ীবাঁধ দেয়া যায় মাতারবাড়িতে।”
এলাকাবাসীর দাবি, বালির বাঁধের বেড়ীবাঁধের বড় অংশ ধসে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে মাতারবাড়ির ৮০ হাজার বাসিন্দার। বেড়িবাঁধের ষাইটপাড়া এলাকার বাকি অংশও যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানিয়দের। তাই ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ দেয়ার।
ভয়েস/জেইউ।