সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে এই আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঠেকাতে এই প্রচেষ্টাটিই এখন একমাত্র সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগারগুলোতে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেওয়া সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার পূর্বঞ্চলীয় সময় (ইএসটি) রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করেছেন। অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গভীর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। ভালো সুযোগ রয়েছে, তবে তারা যদি চুক্তিতে না আসে, তবে আমি ওখানের সবকিছু উড়িয়ে দেব।
জানা গেছে, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে সরাসরি বার্তার মাধ্যমে এই আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত দুই ধাপের চুক্তিতে প্রথমে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমস্যার সমাধান কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তবে ইরানিরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি চায় না, যেখানে যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ‘কখনোই ফিরবে না’।
মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, কৌশল দেখানোর আর সময় নেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টাই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর শেষ সুযোগ।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ভয়েস/আআ