মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
ধর্ম ডেস্ক:
মসজিদে হারামের জুমার খুতবায় গত শুক্রবার শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাজ্জাবি মুসলমানদের আল্লাহভীতি অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে শয়তানের সূক্ষ্ম প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, শয়তান মন্দ কাজকে সুন্দর এবং ভালো কাজকে মন্দ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
শায়খ বলেন, হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার মানদণ্ড তৈরি করে দেন এবং তার কাক্সিক্ষত কল্যাণের পথে সামর্থ্য দান করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল ২৯)
হে লোক সকল! একজন মানুষ যেসব কঠিন বিপদে পতিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম বিপদ হলো হৃদয়ের বিভ্রান্তি এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করতে না পারা। এর ফলে সে মন্দকে ভালো এবং ভালোকে মন্দ হিসেবে দেখতে শুরু করে। সে বাতিলকে হক এবং হককে বাতিল মনে করে। সে পথভ্রষ্টতাকে হেদায়াত এবং হেদায়াতকে পথভ্রষ্টতা মনে করে। সে ভুলকে সঠিক এবং সঠিককে ভুল মনে করে।
মহান আল্লাহ এমন কিছু কওমের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যাদের সব আমল বাতিল ও ধ্বংস হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করত যে, তারা খুব ভালো কাজ করছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব নিজেদের আমলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে? তারাই সেই লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে।’ (সুরা কাহাফ ১০৩-১০৪)
এটি মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে তাদের কুপ্রবৃত্তি ও পাপসমূহকে সুশোভিত করার ফল। শয়তান তাদের কাছে মন্দ কাজগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং সেগুলোকে উপকার, আনন্দ ও উত্তম জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করে। সে তাদের এসব কাজের ক্ষতি ও মন্দ পরিণাম সম্পর্কে গাফেল করে দেয়। ফলে মানুষের অবস্থা এমন হয় যে, সে মন্দ কাজকেও সুন্দর দেখতে শুরু করে।
হে আল্লাহর বান্দারা! পবিত্র কোরআনে এমন অনেক জাতি ও মানুষের উদাহরণ রয়েছে, যাদের শয়তান প্ররোচিত করেছে এবং নিজের জালে বন্দি করেছে। ফলে শয়তান তাদের কাছে বিভ্রান্তিকে আকর্ষণীয় এবং মন্দ ও পথভ্রষ্টতাকে সুন্দর করে দেখিয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো আদম (আ.)-কে শয়তানের ধোঁকা দেওয়ার ঘটনা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর শয়তান তাকে কুপ্ররোচনা দিল। সে বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে অমরত্বের বৃক্ষ এবং অবিনশ্বর রাজত্বের সন্ধান দেব?’ (সুরা তাহা ১২০)
শয়তান আদম (আ.) ও তার স্ত্রীর কাছে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খাওয়াকে সুশোভিত করে তুলেছিল এবং এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করেছিল। তারা তাদের শত্রুর আনুগত্য করেছিল এবং প্রতিপালকের আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং হেদায়াতের ওপর অটল থাকার তৌফিক দেন।
এ বিষয়ের অন্যতম উদাহরণ হলো কুরাইশ কাফেরদের কাছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে শয়তানের সুশোভিত করার বিষয়টি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ করুন, যখন শয়তান তাদের আমলগুলোকে তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মধ্যে তোমাদের ওপর বিজয়ী হওয়ার কেউ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পাশে আছি।’ (সুরা আনফাল ৪৮)
আরেকটি উদাহরণ হলো সুলাইমান (আ.)-এর কাছে হুদহুদ পাখির দেওয়া সংবাদ। সে সাবা রাজ্যের রানী ও তার কওম সম্পর্কে বলেছিল, ‘আমি তাকে ও তার কওমকে দেখেছি যে, তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে এবং শয়তান তাদের কার্যাবলিকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দিয়েছে, ফলে তাদের সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, তাই তারা হেদায়াত পায় না।’ (সুরা নামল ২৪) অর্থাৎ তারা সহজ-সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে এবং সর্বজ্ঞাত আল্লাহর ইবাদত করার পথ খুঁজে পাচ্ছে না।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অহংকারে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো ফেরাউন। সে নিজে পথভ্রষ্ট হয়েছিল এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছিল। সে সীমালঙ্ঘন ও জুলুম করেছিল এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এভাবেই ফেরাউনের কাছে তার মন্দ আমল সুশোভিত করা হয়েছিল এবং তাকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল।’ (সুরা গাফির ৩৭)
হে ভাইয়েরা! মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তান দুভাবে কাজ করে। মন্দ কাজকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং ভালো কাজকে মন্দ হিসেবে উপস্থাপন করে। মন্দ কাজকে আকর্ষণীয় করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী, ‘এভাবে তাদের দেবদেবীরা বহু মুশরিকদের চোখে নিজেদের সন্তান হত্যাকে আকর্ষণীয় করে দিয়েছে তাদের ধ্বংস করার জন্য এবং তাদের দ্বীনকে সন্দেহপূর্ণ করার জন্য। আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন তবে তারা তা করতে পারত না, কাজেই তাদের ছেড়ে দাও, তারা তাদের মিথ্যে নিয়ে মগ্ন থাকুক।’
শয়তানরা মুশরিকদের কাছে অভাবের ভয়ে সন্তান হত্যা এবং লোকলজ্জার ভয়ে কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়াকে সুশোভিত করে তুলেছিল, যদিও এটি ছিল চরম জঘন্য ও অত্যন্ত মন্দ কাজ।
মুনাফিকরা নিজেদের সংশোধনকারী দাবি করেছিল, এটাও আরেকটি উদাহরণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা জমিনে ফ্যাসাদ করো না, তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।’ (সুরা বাকারা ১১)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, যখন তারা আল্লাহর নাফরমানি করে এবং তাদের বলা হয়, তোমরা এসব করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো হেদায়াতের ওপর আছি এবং আমরা মানুষকে সংশোধন করছি।
এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো ভুল ও পথভ্রষ্ট চিন্তাধারার প্রসার ঘটানো এবং এমন সব ইবাদতকে সুশোভিত করা, যেগুলোর অনুমতি মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.) দেননি। যেমন মৃত ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাওয়া, তাদের ডাকা, তাদের নামে পশু জবাই করা বা মানত করা। তেমনিভাবে বিভিন্ন মন্দ কাজ ও অশ্লীলতাকে সুশোভিত করা। যেমন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা, কুরুচিপূর্ণ কথা বলা এবং গঠনমূলক সমালোচনার নামে অন্যের গিবত বা মানহানি করা। এ ছাড়া হারাম পথে অর্থ উপার্জন ও হারাম লেনদেনকে কল্যাণকর হিসেবে উপস্থাপন করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
আর ভালো কাজকে মন্দ হিসেবে উপস্থাপন করার উদাহরণ হলো লুত (আ.)-এর কওমের বক্তব্য। তারা লুত (আ.)-এর পরিবারকে বের করে দেওয়ার জন্য অজুহাত হিসেবে বলেছিল, ‘তার কওমের উত্তর কেবল এই ছিল যে, তারা বলল, তাদেরকে তোমরা তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় তারা এমন লোক, যারা খুব পবিত্র হতে চায়।’ (সুরা আরাফ ৮২) যখন সমাজ পাপে নিমজ্জিত হয়, তখন পবিত্র মানুষগুলোই তাদের কাছে খারাপ হয়ে যায় এবং পবিত্র থাকাটা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কিছু আলেম বলেন, তাদের এই কথাটি ছিল উপহাসমূলক।
হে আল্লাহর বান্দারা! মন্দ কাজ সুশোভিত করার সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো মানুষ হকের পরিবর্তে বাতিলকে বেছে নেয় এবং হেদায়াতের পরিবর্তে পথভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করে। সে শিরক, কুফর ও নাফরমানিকে ভালো কাজ মনে করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদ ও সামুদ জাতিকেও আমি ধ্বংস করেছি, তাদের ঘরবাড়ি তোমাদের কাছে স্পষ্ট। শয়তান তাদের আমলগুলোকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দিয়েছিল এবং তাদের সঠিক পথ থেকে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল বিচক্ষণ।’ (সুরা আনকাবুত ৩৮)
মন্দ কাজ সুশোভিত করার আরেকটি পরিণতি হলো বান্দা হেদায়াত ও ইমান থেকে ফিরে যায় এবং কুফর ও পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা হেদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে ফিরে যায়, শয়তান তাদের (মন্দ) কাজকে আকর্ষণীয় করে দেখায় এবং তাদের মিথ্যা আশা দেয়।’ (সুরা মুহাম্মদ ২৫)
হে আল্লাহর বান্দারা! মন্দ আমল সুশোভিত হওয়ার এই ব্যাধি বান্দাকে আল্লাহর অভিভাবকত্ব থেকে বিচ্যুত করে শয়তানের বন্ধুতে পরিণত করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আপনার পূর্বে আমি অনেক উম্মতের কাছে রাসুল পাঠিয়েছি, কিন্তু শয়তান তাদের আমলগুলো তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল, ফলে আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নাহল ৬৩) আমরা হেদায়াতের পর পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
হে আল্লাহর বান্দারা! যার অন্তর ইমানে পরিপূর্ণ, সে হেদায়াত প্রাপ্ত হয়েছে এবং হকের অনুসরণ করেছে। সে কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত এবং রবের পক্ষ থেকে আসা নুরের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সে তার আমল নিয়ে অহংকার করে না, বরং সর্বদা শয়তান থেকে সতর্ক থাকে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। সে তার দ্বীনের ওপর অবিচল থাকে। সে আর ওই ব্যক্তি সমান হতে পারে না, যে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করছে। শয়তান তার ওপর চড়াও হয়েছে এবং বাতিলকে তার কাছে সুন্দর করে তুলেছে। তার অন্তরে সংশয় ও কুপ্রবৃত্তি ঢেলে দিয়েছে, ফলে সে গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তওবা থেকে দূরে থাকে।
এমন ব্যক্তি নিজেকে নিয়েই তুষ্ট থাকে, কারও উপদেশ গ্রহণ করে না, বরং নিজের প্রবৃত্তির হুকুম মানে। যা সে ভালো মনে করে তাই করে এবং যাকে সে মন্দ মনে করে তা বর্জন করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তার মতো যার কাছে তার মন্দ আমল সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে এবং যারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে?’ (সুরা মুহাম্মদ ১৪)
আপনারা দেখুন, হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং অবাধ্য ব্যক্তি, যার কাছে মন্দ কাজ সুশোভিত করা হয়েছে, এই দুজনের মধ্যে পার্থক্য কত বিশাল। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, ‘পবিত্র আত্মা নেক কাজ ও ইহসানের মাধ্যমে আনন্দ পায়, আর মন্দ আত্মা পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করে।’
হে আল্লাহর বান্দারা, আপনারা নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করুন, যেমনটি আপনাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো। (সুরা আহজাব ৫৬) এখানে নবীজির প্রতি মহান আল্লাহর দরুদ পাঠ করার অর্থ হলো, আল্লাহ নবীজির প্রতি অনুগ্রহ করেন।
হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদের মর্যাদা দান করুন এবং শিরক ও মুশরিকদের লাঞ্ছিত করুন। হে আল্লাহ! মক্কা ও মদিনাকে হেফাজত করুন এবং এ দুটি স্থানকে সম্মান, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি দান করুন। পৃথিবীর অন্য সব মুসলিম দেশকেও হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! যারা এ দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের চক্রান্ত তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিন এবং তাদের পরিকল্পনাকে তাদের ধ্বংসের কারণ বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে সমস্ত মন্দ, বালা-মসিবত এবং যুদ্ধবিগ্রহ থেকে রক্ষা করুন। অশুভ মানুষের অনিষ্ট, পাপাচারীদের ষড়যন্ত্র এবং রাত-দিনের বিপদ-আপদ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! ফেতনা ও কঠিন পরীক্ষাগুলো থেকে মুসলিম বিশ্বকে রক্ষা করুন, হোক তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য।
হে আল্লাহ! আপনার পথে জিহাদকারী দুর্বল ও নিপীড়িতদের সাহায্য করুন। আমাদের সীমান্ত রক্ষাকারী মুজাহিদদের হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! আমাদের স্বদেশ ও জনপদে শান্তি দান করুন। আমাদের শাসক ও দায়িত্বশীলদের সংশোধন করে দিন। যারা আপনাকে ভয় করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে চলে, তাদের হাতে আমাদের দায়িত্ব অর্পণ করুন।
হে আল্লাহ! যুবরাজকে হেদায়াত ও তাকওয়ার ওপর চলার তৌফিক দিন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে মুমিনদের জন্য বিজয় ও মর্যাদা কামনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি ফিলিস্তিন ও বিশে^র প্রতিটি প্রান্তের মজলুম মুসলমানদের সহায় হোন। হে আল্লাহ! তাদের দুশ্চিন্তা দূর করে দিন, বিপদ থেকে উদ্ধার করুন, তাদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে দিন এবং তাদের দায়িত্ব আপনি গ্রহণ করুন। তাদের ক্ষুধা নিবারণ করুন, তাদের ভয় দূর করুন এবং তাদের বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে দূর করে শান্তি দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের অনুকূলে ফয়সালা করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিন।
হে আল্লাহ! মুমিন নর-নারী এবং মুসলিম নর-নারীদের ক্ষমা করুন। তাদের অন্তরে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দিন এবং তাদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে দিন। আপনার শত্রু ও তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করুন।
হে আল্লাহ! আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন এবং সঠিক পথের অনুসারী হওয়ার মাধ্যমে আমাদের ধন্য করুন। আমাদের কাছে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তওফিক দিন। আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তৌফিক দিন। সত্য-মিথ্যা আমাদের কাছে অস্পষ্ট করে দেবেন না, যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাই। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী। হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
৩ এপ্রিল শুক্রবার, মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান
ভয়েস/আআ