সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খোলা প্রতিপক্ষ ফুটবলারের ওপর রাগ কমছে না নেইমারের, পাল্টা বক্তব্য নেস্তরের রামুর রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার: চুরির ৯৬ লাখ টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি, কবে কোথায় আঘাত হিমছড়ি সমুদ্রে গোসলে নেমে তিন পর্যটক নিহতের ঘটনায় নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার কৈলাশে ফিরে গেলেন মা দুর্গা: সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের ঢল হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ সৌদি আরবের মদিনা-পূর্বাঞ্চলে ৫টি ড্রোন ছুড়ল হুথিরা স্থানীয় নির্বাচন: বিদ্যমান আইনেই তফসিল, সুযোগ থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪

কর্মের লক্ষ্য ও জীবনের উদ্দেশ্য

মাওলানা আবদুল জাব্বার:

প্রত্যেক মানুষই চায় অর্থপূর্ণ জীবন। অর্থহীন জীবন কারও কাম্য নয়। কিন্তু কীভাবে জীবন অর্থপূর্ণ হয় এ বিষয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। আল্লাহতায়ালার অপার করুণা, ইসলামের শিক্ষার দ্বারা তিনি মুসলমানদের দান করেছেন অর্থপূর্ণ জীবনের সংজ্ঞা ও সন্ধান। ইসলামের শিক্ষা হলো, জীবন অর্থপূর্ণ হওয়া মানে কর্ম ও বিশ্বাস অর্থপূর্ণ হওয়া। কাজেই অর্থপূর্ণ জীবনের অধিকারী হতে হলে অর্থপূর্ণ কাজ করতে হবে। অর্থপূর্ণ কাজ কি খুব কঠিন? আমার মধ্যে কি নেই ভালো কাজের যোগ্যতা? এসব প্রশ্নের আবর্তে না জড়িয়ে বিষয়টি সহজভাবে চিন্তা করা দরকার। অর্থাৎ মহৎ ও অর্থপূর্ণ কাজ উদ্ভাবনের বদলে আগে চিন্তা করি, সচরাচর যে কাজগুলো করি, সেগুলোকে কীভাবে অর্থপূর্ণ করে তোলা যায়।

মানুষ হিসেবে প্রতিদিন অনেক কাজ আমাদের করতে হয়। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম-বিশ্রাম, চাকরি-বাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্য, কেনাকাটা, পড়াশোনা, দেখা-সাক্ষাৎ, স্ত্রী-সন্তানকে সময় দেওয়া ইত্যাদি আরও কত কী। এসব নিত্যদিনের কর্ম। বলা যায়, কর্মের এই চক্রেই মানুষের জীবন ও সময় আবর্তিত, জীবনের সিংহভাগ নিঃশেষিত। একবার ভাবুন দেখি, জীবনের এই প্রাত্যহিক কাজগুলোকেই যদি অর্থপূর্ণ করে তোলা যায়, তাহলে অনেক সহজেই জীবন হয়ে উঠতে পারে অর্থপূর্ণ, মহিমাপূর্ণ! কিন্তু কী সে উপায়, যার দ্বারা এই সব কাজও অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে?

সেই উপায় হচ্ছে, কর্মের প্রেরণা ও উদ্দেশ্য ঠিক করে নেওয়া। সহিহ্ নিয়ত, তথা সঠিক উদ্দেশ্য ও নির্ভুল প্রেরণার দ্বারা প্রাত্যহিক কাজগুলো পেতে পারে আলাদা মাত্রা; জীবনের ছোট-ছোট কাজগুলো হয়ে উঠতে পারে মহিমাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। জীবনকে অর্থপূর্ণ করার এ এক বিকল্পহীন ব্যবস্থা। অন্যদিকে তা এক সহজ স্বাভাবিক উপায়ও বটে। কারণ প্রাত্যহিক কাজগুলোকে তো জীবন থেকে বাদ দেওয়া যাবে না, সে চিন্তা সমীচীনও নয়। তাহলে যে পথে এই কাজগুলোও তাৎপর্যপূর্ণ ও কল্যাণপূর্ণ হয়, সে পথ অন্বেষণ করাই যুক্তিযুক্ত। আর তা হচ্ছে, কর্মের লক্ষ্য ও জীবনের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং সব কাজে তা চেতনায় জাগ্রত রাখা। এই উপায় অবলম্বনের দ্বারা অতি সাধারণ একজন মানুষও উঠে যেতে পারেন সফলতার শিখরে, পেয়ে যেতে পারেন ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্তি।

এই শিক্ষা দিয়েছেন আল্লাহর শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এই বিখ্যাত হাদিসে, ‘কর্মসমূহ তো নিয়তেরই সঙ্গে। আর প্রত্যেকের জন্য আছে তাই যার সে নিয়ত করে।’ সহিহ্ বোখারি : ১

মানুষের জীবনজুড়ে যত কাজ, যত প্রকারের কর্ম, তার পরিচয় ও পর্যায় নির্ণীত হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের রয়েছে গভীর ভূমিকা। দুজনের বাহ্যত অভিন্ন কর্মও সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায় নিয়তের কারণে। নিয়তের এই প্রভাব পরিব্যপ্ত জীবনের সব কর্মে। আহার-নিদ্রার মতো একান্ত ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে বিয়েশাদি, জীবিকা উপার্জন, পরিবারের ভরণ-পোষণ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন, দাওয়াত-জেহাদ, ইবাদত-বন্দেগি পর্যন্ত সবকিছুই নিয়তের বিধান ও প্রভাবের অধীন। বিশুদ্ধ নিয়তের মাধ্যমে জীবনের সব কাজ পরিণত হয় নেক আমল ও সওয়াবের কাজে।

পক্ষান্তরে অন্যায় ও অশুদ্ধ নিয়তের কারণে ইবাদত-বন্দেগির মতো দ্বীনি কাজগুলোও হয়ে যায় অর্থহীন, মূল্যহীন; বরং শাস্তিও আল্লাহর অসন্তষ্টির কারণ। কাজেই জীবনকে সফল ও অর্থপূর্ণ করার প্রথম উপায় হচ্ছে, প্রতিটি কাজের নিয়ত ও উদ্দেশ্য ঠিক করা। আর এটাই হচ্ছে মুমিন জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। তার কোনো শরিক নেই আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম।’ সুরা আনআম : ১৬২

এই যে কোরআনি শিক্ষা-‘আমার জীবন ও মরণ আল্লাহর জন্য’, এতেই আছে জীবনের সব কর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বর্ণনা। সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) এক জায়গায় এই আয়াতের ভাব ও মর্ম এভাবে বয়ান করেছেন, ‘মুমিন-জীবনের বিভিন্ন অংশ পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়; বরং তা একটি একক, যার সব অঙ্গে বিরাজমান ইবাদতেও সওয়াব প্রত্যাশার অভিন্ন প্রাণসত্তা।

ইমান ও বিশ্বাস এবং আল্লাহর হুকুমের তাবেদারিই হচ্ছে সব কর্মের পথপ্রদর্শক। ইখলাস, সহিহ্ নিয়ত, আল্লাহর রেজামন্দির সত্যিকারের প্রত্যাশা ও আম্বিয়ায়ে কেরামের নির্দেশিত নিয়মে সম্পন্ন হওয়ার দ্বারা জীবনের সব অঙ্গন এবং কর্ম ও তৎপরতার সব ক্ষেত্রই ইমানি জিন্দেগির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুরা আনআমের এই আয়াত হচ্ছে মুমিন জীবনের কম্পাস। এরই আলোকে স্থির করুন কর্মের লক্ষ্য ও জীবনের উদ্দেশ্য। অতপর সব কাজে এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্মরণ ও সজীব রাখুন। ইনশাআল্লাহ কর্মের প্রতিদান মিলবে যথাযথভাবে।

পৃথিবীতে আমরা যা কিছু ব্যবহার করি ও উপভোগ করি, তার সবই আল্লাহর নেয়ামত। খাদ্য-পানীয়, আলো-বাতাস ও জীবন-যাপনের সব উপকরণ তারই সৃষ্টি। আমাদের কর্ম-শক্তি ও চিন্তা-শক্তিও তারই দান। কাজেই এসব নেয়ামতের ব্যবহারে আল্লাহর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা আবশ্যক। আর জীবনজুড়ে সব কর্মে রয়েছে আল্লাহর বিধান ও তার পছন্দনীয় পন্থা। সেই বিধান ও পন্থার অনুসরণের দ্বারা আমাদের গোটা কর্মজীবনই হয়ে উঠতে পারে মহিমাপূর্ণ। যতটুকু সম্ভব শুরু করুন-খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো; ঘুম থেকে ওঠা, প্রাত্যহিক কাজের শুরু, মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা, ঘরে ঢোকা, ঘর থেকে বের হওয়া ইত্যাদি ছোট ছোট প্রাত্যহিক কাজে রয়েছে আল্লাহর রাসুলের সুন্নত। সেগুলো জেনে আমল করা কঠিন নয়। তবে গুরুত্ব ও আগ্রহ থাকতে হবে।

এভাবেই মানব জীবনজুড়ে অসংখ্য বিষয় আছে, যেখানে শুধু নিয়তের প্রয়োজন। যেমন পরিবার-পরিজনকে সময় দেওয়া, সাক্ষাৎপ্রার্থীর কথা শোনা, মেহমানের সমাদর করা, যা আমরা সাধারণত করে থাকি। এসব ক্ষেত্রে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির, তার বান্দাদের আনন্দদান ও তাদের হক আদায়ের নিয়ত দ্বারাই এ সব কাজ নেক আমলে পরিণত হয়। এভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, জীবনের এক বিরাট অংশ এমন, যেখানে সঠিক নিয়ত ও সুন্নতের অনুসরণ এখন থেকেই শুরু করা সম্ভব। এই সব ক্ষেত্রে এই চর্চা এখনই শুরু করা। আর যে বিষয়গুলো শরিয়তের অধীন, তা প্রাত্যহিক জীবনে দ্রুত পালন করা অপেক্ষাকৃত কঠিন। যেমন কারও কারও ক্ষেত্রে আয়-উপার্জন, পর্দা-পুশিদা ইত্যাদি। এ সব ক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, আল্লাহর বিধানে যা হারাম তাকে হারাম জানুন এবং অবশ্যই তা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করুন। সদিচ্ছা ও সঠিক চেষ্টা থাকলে উপায় অবশ্যই বের হয়ে আসবে। আর তখন সঠিক নিয়তের দ্বারা আয়-উপার্জনের সব প্রয়াসই নেক আমলে পরিণত হবে।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন, তুমি আল্লাহকে রাজিখুশি করার জন্য যে খরচই করবে এর বিনিময় (আল্লাহর পক্ষ থেকে) পাবে। এমনকি যা কিছু স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও। সহিহ্ বোখারি : ৫৬

বিখ্যাত তাবেয়ি যুবাইদ ইবনুল হারিছ আলইয়ামি (রহ.) বলেন, ‘আমার কাক্সিক্ষত বিষয় এই যে, সব কিছুতেই আমার ‘নিয়ত’ থাকুক; এমনকি আহার-নিদ্রাতেও।’-শোয়াবুল ইমান: ৫/৩৫০

বলাবাহুল্য, এমন ইচ্ছা যার জীবনাদর্শ হবে, তার সব দৌড়ঝাঁপ হবে নেক আমল, হয়ে উঠবে সফল ও অর্থপূর্ণ। এভাবেই ইবাদত-বন্দেগিকে সপ্রাণ করা। ইমানের পর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইবাদত-বন্দেগি। প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া-দরুদ, রমজানের ফরজ রোজা, অন্যান্য সময়ের নফল রোজা, জাকাত-সদকা, হজ-কোরবানি, ইতিকাফ ইত্যাদি ইবাদত আমরা সাধারণত আদায় করি। এটি আমাদের কর্মের এক উল্লেখযোগ্য অংশ। এই ইবাদত-বন্দেগিগুলোকে যদি সপ্রাণ করা যায়, তাহলে জীবনের এই উল্লেখযোগ্য অংশটি হয়ে উঠবে অর্থপূর্ণ, মহিমাপূর্ণ।

উপায় হিসেবে এখানেও আসছে ওই শিরোনাম, ‘লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্মরণ রাখা।’ কিন্তু এদিকে খুব একটা খেয়াল করা হয় না। অথচ এর মাধ্যমে কোনো কাজ অভ্যাসবশত করা আর ইবাদত হিসেবে করার মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। এই বেখেয়ালির কারণে অনেক ইবাদত, এমনকি ইসলামের চার রোকন-নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ পর্যন্ত পর্যবসিত হয় একটি গতানুগতিক ও প্রাণহীন কর্মে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ‘সাধারণ মুসলমানের সঙ্গে সাহাবায়ে কেরাম ও নেককার মুমিনদের পার্থক্যের এক বড় দিক এই স্মরণ ও বিস্মৃতি। অর্থাৎ কোরআন-হাদিসে বর্ণিত এই ফজিলতসমূহের প্রতি তাদের থাকে পূর্ণ বিশ্বাস আর হৃদয়ের গভীরে থাকে তা অর্জনের গভীর প্রত্যাশা। ফলে তাদের আমল-ইবাদত সম্পন্ন হয় এই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা থেকে এবং এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাসের সঙ্গে। পক্ষান্তরে সাধারণজনের অবস্থা হয় এর চেয়ে ভিন্ন।

যেমন ধরুন-অজু। যা দৈনিক বারবার করা হয়, অনেকেরই জীবনে যা একটি গৎবাঁধা যান্ত্রিক কর্মমাত্র; কিন্তু সাহাবা ও বুজুর্গদের জীবনে তা এমন ছিল না। তারা যখন অজু করতেন তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী তাদের হৃদয়ে জাগ্রত থাকত, যখন কোনো মুসলিম কিংবা (বলেছেন) কোনো মুমিন অজু করে, যখন সে আপন মুখমন্ডল ধৌত করে তখন মুখমন্ডল থেকে ওই সব গোনাহ ঝরে যায়, যা সে চোখের দ্বারা করেছে। যখন সে হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে অথবা (বলেছেন,) পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে ওই সব গোনাহ ঝরে যায়, যা সে হাত দ্বারা করেছে। এমনকি সে গোনাহসমূহ থেকে পাক-সাফ হয়ে যায়। যখন সে পা ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে অথবা (বলেছেন) পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে ওই সব গোনাহ ঝরে যায়, যার দিকে সে হেঁটে গেছে। এভাবে সে গোনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সহিহ্ মুসলিম : ২৪৪

ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, জীবনের সব কর্মের সূচনায় এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে স্মরণ করুন এবং এরই দাবি অনুসারে ওই কাজটি সম্পন্ন করুন। আপনার কাজটি হয়ে উঠবে অর্থপূর্ণ ও মহিমাপূর্ণ। মনে রাখবেন, মানুষের জীবন নিত্য পরিবর্তনশীল। সুখ-দুখ, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, সুস্থতা-অসুস্থতা, সফলতা-ব্যর্থতা ইত্যাদি নানা অবস্থা নিয়েই জীবন। এই নানা রূপ-অবস্থার মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে এবং সময় ফুরোতে থাকে। জীবনের অনভিপ্রেত অবস্থাগুলোকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া যায় না। এগুলো জীবনেরই অংশ। এই অবস্থাগুলোও কি মহিমান্বিত ও কল্যাণপূর্ণ হতে পারে? এমন কোনো উপায় কি আছে, যার দ্বারা জীবনের এই অংশটিও ইতিবাচক হতে পারে? সঞ্চয়ের খাতায় কিছু যোগ করতে পারে? হ্যাঁ, সেই উপায়ও আছে এবং তা মুমিনের জন্য।

মুমিনের শুধু কর্ম নয়, তার জীবনের সব অবস্থাই হতে পারে মহিমাপূর্ণ ও কল্যাণপূর্ণ। ‘অবস্থা’ বলতে জীবনের ওই সব অনুষঙ্গ যা সরাসরি কর্ম নয়, তবে এর সঙ্গেও রয়েছে বিশ্বাস ও কর্মের সংযোগ। যেমন সুখ-দুখ, সুস্থতা-অসুস্থতা ইত্যাদি। এই সব অবস্থাও কল্যাণপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং যথার্থ বিশ্বাস ও কর্মের দ্বারা।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION