শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
হিমছড়ি সমুদ্রে গোসলে নেমে তিন পর্যটক নিহতের ঘটনায় নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার কৈলাশে ফিরে গেলেন মা দুর্গা: সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের ঢল হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ সৌদি আরবের মদিনা-পূর্বাঞ্চলে ৫টি ড্রোন ছুড়ল হুথিরা স্থানীয় নির্বাচন: বিদ্যমান আইনেই তফসিল, সুযোগ থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪ আমার নামে মামলা দেন, নিজে গিয়ে জেলে যাব: ইশরাক বাস-ট্রাক সং’ঘ’র্ষে নি’হ’ত ১৪, পরিচয় মিলেছে ৯ জনের অবশেষে বাতিল তৃতীয় শ্রেণির ল্যাব সহকারী ফারুকের ডিলার মহেশখালীতে সারের সব ডিলার এমপি আলমগীর ফরিদ ‘বিএনপি পন্থী’, তৃণমূলজুড়ে চরম অসন্তোষ

পানি মহান আল্লাহর অপার নিয়ামত

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী:
পানি মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। বান্দাদের জন্য প্রদত্ত অপার দান। পানি ছাড়া পৃথিবীতে জীবন ধারণ সম্ভব নয়। তাই বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করা আমাদের ওপর আবশ্যক। অন্যথায় তিনি এমন নিয়ামত ছিনিয়ে নিতে পারেন। পূর্ববর্তী জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিয়ামত বর্ষণের কথা আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ কোরআনে বলেছেন। যারা নিয়ামত পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর যারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে, তাদের আজাবে নিমজ্জিত করেছেন।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‘তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি? তাদের পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরও করিনি এবং তাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, আর তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম; অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদের বিনাশ করেছি এবং তাদের পরে অন্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি।’ সুরা আনআম ৬

পানি মহান আল্লাহর মহানিয়ামত। এজন্য বৃষ্টি হওয়ার পূর্বমুহূর্তে আল্লাহতায়ালা বৃষ্টির সুসংবাদ দিয়ে বাতাস পাঠান। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‘তিনিই স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে বায়ুকে সুসংবাদবাহীরূপে পাঠান। যখন এটা ঘন মেঘ বহন করে তখন আমি এটা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে চালনা করি, পরে তা থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি। অতঃপর এটার দ্বারা সর্বপ্রকার ফল-ফসল উৎপাদন করি। এভাবে আমি মৃতকে জীবিত করি, যাতে তোমরা শিক্ষা লাভ করো।’ সুরা আরাফ, আয়ত : ৫৭

বৃষ্টি হলে জমিন সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে। ফল-ফসল ভালো হয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তুমি ভূমিকে দেখো শুষ্ক। অতঃপর তাতে আমি বারি বর্ষণ করলে এটা শস্য-শ্যামল হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।’ সুরা হজ ৫

বৃষ্টির কারণে অনাবাদি জমিও আবাদ হয়। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘তিনি আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন এবং তার দ্বারা ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেন এটার মৃত্যুর পর।’ সুরা রুম, আয়াত : ২৪

মানুষ যদি পানির নিয়ামত পেয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, তাহলে এটা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দার ওই আমলের কারণে আল্লাহ খুশি হন যে, বান্দা এক লোকমা খাবার খেলেও আলহামদুলিল্লাহ বলে। এক ঢোক পানি পান করলেও আলহামদুলিল্লাহ বলে।’ সহিহ মুসলিম

বৃষ্টির পানি শরীর ও মনকে পবিত্র করে। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘স্মরণ করো, তিনি তার পক্ষ থেকে স্বস্তির জন্য তোমাদের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর বারি বর্ষণ করেন এটা দ্বারা তোমাদের পবিত্র করার জন্য, তোমাদের মধ্য থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসারণের জন্য, তোমাদের হৃদয় দৃঢ় করার জন্য এবং তোমাদের পা স্থির রাখার জন্য।’ সুরা আনফাল ১১

পানিকে আল্লাহতায়ালা বরকতময় বানিয়েছেন। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘আর আমি আসমান থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করি। অতঃপর তা দ্বারা আমি উৎপন্ন করি বাগ-বাগিচা ও কর্তনযোগ্য শস্যদানা।’ সুরা কাফ ৯

পানির মাধ্যমেই মহান আল্লাহ সব ফল-ফসল সৃষ্টি করেন। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘অতঃপর আমি আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি; তৎপর এটার দ্বারা সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করি।’ সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৭

প্রাত্যহিক জীবনে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পানির। এজন্য পানি নিয়ামতটি অতি সহজে মেলে। মরুভূমি ও মাটি থেকে বের হয় পানি। সৃষ্টিজীব যদি আল্লাহতায়ালার অবাধ্য হয়, তাহলে তাদের পানি থেকে বঞ্চিত করে দেন তিনি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপনি বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে তোমাদের এনে দেবে প্রবহমান পানি? সুরা মুলক ৩০

পানি এমন নিয়ামত যে, জান্নাতে চোখ শীতল হবে পানি দেখে। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘জান্নাতে আছে নির্মল পানির নহর।’ সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৫

জাহান্নামীরাও জাহান্নামে পানি খোঁজবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদের সম্বোধন করে বলবে, আমাদেরকে কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা আল্লাহ জীবিকারূপে তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও।’ সুরা আরাফ ৪৮

পানি আল্লাহর তরফ থেকে বড় দয়া ও অনুগ্রহ, যা সব সময় সব জায়গায় আমাদের সঙ্গে থাকে। এজন্য আমাদের এর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। পানির সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য করতে হবে। পানির অপচয় থেকে বাঁচতে হবে। আখিরাত সুন্দর বানানোর জন্য ইসলাম নির্দেশিত পন্থায় একে ব্যবহার করতে হবে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION