মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লবণের ট্রাকে মিলল ১লাখ পিস ইয়াবা: ইয়াবাকারবারি ও ডাকাতসহ ৪জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধের সময় ‘গোপনে’ আমিরাত সফরের কথা জানালেন নেতানিয়াহু, ‘আগেই জানতো’ তেহরান টেকনাফ পৌর বিএনপির নেতা আবদুর জব্বার বহিষ্কার ‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’ মেসির জোড়ায় ৮ গোলের ম্যাচে জিতেছে ইন্টার মায়ামি বিধবা বিয়ের বিষয়ে যা বলে ইসলাম বিশ্বকাপের অলটাইম র‍্যাঙ্কিং: সবার ওপরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কোথায় অক্ষত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র: ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার? কক্সবাজার সায়মনের মালিক ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই বেন্তোর ভুলে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়লো!

ক্যাম্পের ‘বাইরে’ পেলেই ভাসানচর

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
কক্সবাজারের ২৯ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর একটি দলকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে৷ এই দলে নারী ও শিশু রয়েছে৷

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এখন থেকে ক্যাম্পের বাইরে কোনো রোহিঙ্গাকে পাওয়া গেলেই ভাসানচরে পাঠানো হবে৷’’

ভাসানচরে পাঠানো রোহিঙ্গাদের শনিবার সকালে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী নুনিয়াছড়া প্যারাবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ৷ তাদের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সাগর পথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া এলাকায় নামিয়ে দেয় দালাল চক্র৷ পুলিশ এই খবর পেয়ে তাদের মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করে৷

রাতে তাদের নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডের সহায়তায় ভাসানচরে পাঠানো হয়৷ ভাসানচরে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন কাজ করে না৷ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, ‘‘তাদেরকে ভাসানচরে নৌবাহিনী নিয়ে গেছে৷ তারা সেখানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানেই থাকবে৷ কোনো ভলান্টারি অর্গানাইজেশন না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই৷ সরকারই তাদের সবধরনের সহায়তা করবে৷ সেখানে থাকা, চিকিৎসা, পানি ও খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে৷ সেখানকার আবাসন সুবিধা সুপার টাউনের মত৷’’

আরো রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ভাসানচরে নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনা হলো ক্যাম্পের বাইরে যাদেরই ডিটেক্ট করা হবে তাদেরই ভাসানচরে পাঠানো হবে৷ এখানে তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায়ই থাকবে৷ সংখ্যা বাড়লে তখন আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কথা বলব৷’’

কক্সবাজরের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ‘‘ভাসানচরে নেয়া ওই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এখন থেকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কাজ করবে৷ তারা সরকারের তত্ত্বাবধানেই সেখানে থাকবে৷’’

এদিকে ২৯ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়ার ব্যাপরে রোববার বিকেল পর্যন্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনকে জানানো হয়নি৷ অতিরিক্ত কমিশনার সামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, ‘‘আমাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যেহেতু কিছু জানানো হয়নি তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না৷’’

ভাসানচর নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার একটি দ্বীপ৷ মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা এই দ্বীপে সরকার দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা খরচ করে স্থাপনা তৈরির কাজ করছে৷ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এরইমধ্যে সেখানে অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে৷ সেখানে এক হাজার ৪৪০টি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে৷ নির্মাণ করা হয়েছে ১২০টি চারতলা আশ্রয়কেন্দ্র৷ মূল ভূখন্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ভাসানচরকে বাঁচাতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও তিন মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে৷

তবে শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিরোধিতা করে আসছিল৷ বিরোধিতার মুখে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর পরিকল্পনা বাদ দেয় সরকার৷ সেখানে পর্যটন কেন্দ্র করার কথাও বলা হয়েছিল৷ পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ১২০টি গুচ্ছগ্রাম করার কথা৷

তারপরও সংখ্যায় অল্প হলেও রোহিঙ্গাদের কেন সেখানে পাঠানো হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রধান ড. সি আর আবরার৷ তিনি বলেন, ‘‘মানবাধিকারের দিক বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণেই সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল৷ কারণ সেখানে যত সুযোগ সুবিধার কথা বলা হোক না কেন সেটা গ্রহণযোগ্য হয়নি৷ শুধু খাওয়া দাওয়া নয় ওভারঅল সুরক্ষার জন্য আরো অনেক কিছু প্রয়েজন যা সেখানে নাই৷’’

তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে সুনাম অর্জন করেছে তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে৷ আর যদি সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার বড় পরিকল্পনা করে থাকে তাহলে এটা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বসা উচিত৷ তবে আমার মনে হয় তারা কোনোভাবেই সরকারের সাথে একমত হবেনা৷’’

গতমাসে রোহিঙ্গাদের একটি দল সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলে তাদের ৩৯২ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়৷ কিন্তু এরপর বঙ্গোপসাগরে ভাসমান আরেকটি জাহাজে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করলেও সেই অনুরোধ রাখেনি বাংলাদেশ৷ আর এবার ২৯ জনের দলটিকে ফিরিয়ে না দিয়ে ভাসানচরে পাঠানো হল৷

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার ৩৪টি ক্যাম্পে নয় লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী আছেন৷

সুত্র: ডয়চে ভেলে /ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION