শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

সরকার ক্ষমতায়, কী করে দায় এড়াবে? ধর্ষণের ঘটনায় ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (ফাইল ছবি)

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। কাদের বলেছেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় সরকার অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে। তবে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে। এ ধরনের ইস্যু নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও দপ্তর প্রধানের সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার সচিবালয়ে এ সভা হয়।
ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনাতেই সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতায়, কী করে দায় এড়াবে? এসব ব্যাপারে সরকার প্রশ্রয়ও দিচ্ছে না। প্রতিটি ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের কেউ থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধর্ষণ নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি। এসব চরম ঘৃণিত কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা বিকৃত রুচির অপরাধী। সরকার এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিচ্ছে। তবু এ ধরনের ঘটনা দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে। সম্প্রতি পাশের দেশেও এমন ঘটনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সবার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, সব ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই। এ ধরনের একটি ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের সঙ্গে সরকারি দল–সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নাম আসছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে–ই হোক, এটার দায় কেউ এড়াতে পারবে না। প্রতিটি ব্যাপারে সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের মধ্যে আমাদের দলীয় পরিচয়েরও কেউ যদি থাকে, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সেটা শুধু মুখে বলা হচ্ছে না, বাস্তবেও কার্যকর করা হচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘রিফাত হত্যা মামলার রায় হয়ে গেল, ফেনীর নুসরাতের ঘটনার রায় হলো। এগুলোর বিচার তো হচ্ছেই। সব ব্যাপারেই শাস্তি হবে। ওয়াহিদার ওপর হামলা হয়েছে, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তি নামও শোনা গেছে, কিন্তু কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে প্রায় প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের পরিচয়ে ছিল। কিন্তু তাদের কি শাস্তি থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে? নাকি তাদের চার্জশিট থেকে বাইরে রাখা হয়েছে?’
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ৯ দফা দাবিতে ডাকা পণ্য পরিবহন ধর্মঘট দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে জনভোগান্তি ও দেশের পণ্য পরিবহনকে জিম্মি করা প্রত্যাশিত নয়।

কাদের বলেন, ‘সম্প্রতি পরিবহনমালিকদের একটি অংশ, বিশেষ করে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বলে শুনেছি। মালিক সমিতির কোনো দাবি থাকলে তা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। অতীতেও অনেক বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনিও বসতে রাজি। কোনো দাবি থাকলে আলোচনা হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জনভোগান্তি ও দেশের পণ্য পরিবহনকে জিম্মি করা প্রত্যাশিত নয়। তাই আমি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিকে দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ধর্মঘটের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আলোচনায় বসুন, যৌক্তিক কিছু থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধানের পথ খুঁজে বের করুন।’

সূত্র:বাসস।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION