শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তিন দিনের মাথায় তিনি আবার হোয়াইট হাউজে ফিরে যান। চিকিৎসা শেষ না করেই হোয়াইট হাউজে ফিরে যাওয়া ও সবার সামনে মাস্ক খুলে ফেলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি। যদিও তার নির্বাচনী শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারের জন্যই ট্রাম্প নিজের শরীরের তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ না করেই প্রচারণা শিবিরে যেতে শুরু করেন, তাহলে তার কারণে আরও অনেকের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রার্থী জো বাইডেনও এই ইস্যুটিকে আমলে নিয়েছেন। ট্রাম্পের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে দ্বিতীয় বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জো বাইডেন। গতকাল বুধবার সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ফলে নতুন আরেক ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মাত্র চার সপ্তাহ বাকি আছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের। এ সময় প্রচারণায় কোনো ঘাটতি হলে তা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের মধ্যে তিনটি বিতর্ক হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিতর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল বিতর্ক হিসেবে বর্ণনা করছেন অনেকে। আগামী ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারিত আছে। মিয়ামিতে টাউন হল ফরম্যাটে এই বিতর্কটি হওয়ার কথা। তৃতীয় বিতর্কটি হওয়ার তারিখ নির্ধারিত আছে ২২ অক্টোবর। এই বিতর্কটি হওয়ার কথা ন্যাশভিলেতে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার নিজেই টুইটার বার্তায় বলেন, তিনি ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় বিতর্কের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিতর্কটি দুর্দান্ত হবে বলে তার আশা। এদিন তার প্রচার শিবির থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের পরবর্তী বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। তবে একই দিন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি তার (ট্রাম্প) যদি এখনো কভিড থাকে, তাহলে আমাদের মধ্যে বিতর্ক হওয়া উচিত নয়।’
বাইডেন আরও বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের খুব কঠোর নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত। অনেক মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। এটা একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা।’ বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিকা অনুযায়ী চলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প করোনায় সংক্রমিত হওয়ার কথা জানান। এ অবস্থায় পরবর্তী বিতর্ক ও তার নির্বাচনী প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। তিন রাত হাসপাতালে কাটিয়ে সুস্থ না হয়েই গত সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন ট্রাম্প। এ নিয়ে সমালোচনা চলছে। ট্রাম্পের চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের করোনার উপসর্গগুলোর উপশম ঘটেছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে উপসর্গ না থাকলেও কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্বরসহ অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলেও করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসার পরও অন্তত ১০ দিনের জন্য রোগীকে আইসোলেশনে থাকতে হয়। না হলে অন্যদের তার দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সূত্র:দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।