বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

করোনা মোকাবেলায় বাজার বন্ধ: সচেতন মহলে পৌর মেয়র মকছুদ প্রশংসিত

গোরকঘাটা বাজারে চৌরাস্তার মোড়ে বাজার বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন , মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়া

ভয়েস প্রতিবেদক:

আগে জীবন পরে জীবিকা এই সূত্র ধরে মহশেখালী পৌরসভা এবং মহেশখালী উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করে প্রশংসিত হচ্ছে পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া। এই বন্ধ প্রাথমিকভাবে ঈদ পর্যন্ত থাকবে।

পৌরসভা মহেশখালী উপজেলার সদর এলাকা হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংক, সরকারি অফিস এবং বাজারে আগত মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে লকডাউন আইন পরিপালন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। যার প্রেক্ষিতে ১১ মে  এক বৈঠকে আগামী ঈদ পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ী ও সকলের সম্মতিক্রমে মহেশখালী পৌরসভা ও গোরকঘাটা পৌর বাজার বণিক কল্যাণ সমিতি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান বাজার কমিটি সূত্রে।

১১ মে মহেশখালী পৌরসভা অফিসে বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে মেয়র

স্বাস্থ্য অসচেতন ঈদের বাজার মুখি মানুষের সমাগম কমাতে  ১২ মে পুনরায় গাড়ি চলাচলও সীমিত রাখতে তিনি আরো একটি স্বাস্থ্যবান্ধব পদক্ষেপ নেন। যার ফলে পৌর এলাকায় এবং মহেশখালী  উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন সিদ্ধান্তর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেয়রকে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।

প্রাপ্ত সূত্র মতে, জেলা প্রশাসনের ১০ মে হতে সীমিত পরিসরে সকাল ১০ টা হতে বিকাল  ৪ টা পর্যন্ত দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে এমন সরকারি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পালনীয় নির্দেশবলীর দেন তার মধ্যে-

১১ মে লকডাউন শীতিলের সময় বিভিন্ন ব্যাংককে গ্রাহক, স্বাস্থ্যবিধির না মেনে লেনদেন।ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

১) করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে জনগনকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। ২) রমজান ও ইদ-উল-ফিতর কে সামনে রেখে আগামি ১০ মে  হতে সীমিত পরিসরে সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় বড় শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত
যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩) জেলার সকল রেস্তোরা শুধুমাত্র পার্সেল সার্ভিস প্রদানের জন্য সকাল ১০.০০ টা হতে বিকাল ৫.০০ টা
পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রেস্তোরার অভ্যন্তরে কোন অবস্থাতেই খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা যাবে না।

৪) দোকানপাট এবং শপিংমলসমূহ আবশ্যিকভাবে বিকাল ০৪.০০ টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

৫) ঔষুধের দোকান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা
থাকবে ।

৬) মাস্ক পরিধান ব্যতীত কোন ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবে না।

৭) সকল বিক্রেতা/দোকান কর্মচারীদের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে।

৮) প্রতিটি শপিংমল/বিপনী বিতান এর সামনে আবশ্যিকভাবে সতর্কবাণী “করোনা স্বাস্থ্য বিধি
না মানলে, মৃত্যু ঝুঁকি আছে” সংবলতি ব্যানার টানাতে হবে।

৯) পণ্যবাহী গাড়িসমূহ এ জেলায় কেবলমাত্র সকাল ৬ টা হতে সকাল ১০ টার মধ্যে
মালামালসমূহ লোড/আনলোড করতে পারবে।

১০) পণ্যবাহী কোন গাড়ি এ জেলায় সকাল ১০.০০ টা হতে সন্ধ্যা ০৬.০০ টা পর্যন্ত কোন ক্রমেই চলাচল
করতে পারবে না। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত গাড়িসমূহ শরণার্থী ত্রাণ ও
প্রত্যাবাসন কমিশনার মহোদয়ের দেয়া অনুমতিপত্র মতে চলবে।

১১) কক্সবাজার জেলার সাথে অন্যান্য জেলার এবং কক্সবাজার জেলাধীন আন্ত:উপজেলার গণপরিবহন/ব্যক্তিগত
গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

১২) স্ব স্ব উপজেলায় আভ্যন্তরীণ গাড়িমূহের চলাচল সকাল ১০.০০ টা হতে বিকাল ০৫.০০ টা পর্যন্ত
সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। বিকাল ০৫.০০ টার পর হতে সকল প্রকার গাড়ি (ব্যক্তিগত/ভাড়ায় চালিত)
চলাচল বন্ধ থাকবে।

১৩) সাধারণ ছুটি/ চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালীন জরুরি পরিসেবা (যেমন  বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও
অন্যান্য জ¦ালানী, ফায়ার সার্ভিস এর গাড়িসমূহের) চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

১৪) চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স এবং ঔষুধসহ
চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চলাচল করতে পারবে।

১৫) সাধারণ ছুটি/ চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালীন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না।

১৬) কক্সবাজার জেলাধীন সকল ব্যাংকের শাখাসমূহ তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা
অনুযায়ী পরিচালনা করবে।

বন্ধ ঘোষণার পরবর্তী দিন গোরকঘাটা লামার বাজারের দৃশ্য

কিন্তু এর বেশির ভাগই গোরকঘাটা বাজারমুখি জনগন এবং ব্যবসায়ীগণ পালনে ব্যর্থ হয় এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গোরকঘাটা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির আহবায়ক মোঃ কায়সার জানান, ঈদের মৌসুম হচ্ছে ব্যবসায়ীদের পুরো বছরের একটাই ব্যবসা। বিশেষত শপিং মল ধরনের দোকানদারদের। যার কারণে আনুমানিক ব্যবসায়ীদের প্রায় পঞ্চাশ থেকে একশ টাকার মত ক্ষতি হতে পারে। এমনিতেই প্রায় দুইমাস প্রায় লকডাউনে চলে গেছে ব্যবসা হয়নি। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়েছে তারপরও জীবনের চেয়ে টাকা বেশী নয়। তাই সবার সিদ্ধান্ত মতে গোরকঘাটা বাজার বন্ধ রাখার পক্ষে ব্যবসায়ীরা মত দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ঈদ পর্যন্ত এই বন্ধ রাখা হবে।

তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ জনস্বার্থে (বাজা খোলা রাখতে পারা সত্বেও বাজার বন্ধ রাখছি) দোকান বন্ধ রাখছি। তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যাতে আমাদের ব্যবসায়ী ভাইদের প্রতি সু-দৃষ্টি রাখেন তার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

যুগ্ম আহবায়ক সরওয়ার কামাল বলেন, গোরকঘাটা বাজার পৌর সদর এলাকা হলেও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভরণপোষণ দিয়ে যাদের দোকান ভাড়া দিতেও কষ্ট হবে এই বন্ধের কারণে। তাদের রয়েছে দৈনিক ঋণ, সমিতির কিস্তি। তাই সংশ্লিষ্ট সকলেই যেন সবকিছু মানবিক বিবেচনায় রাখেন।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামিরুল ইসলাম কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, গোরকঘাটা বাজার সদর এরিয়া হিসেবে উপজেলার সকল চাপ এই বাজারে। গত ১১ তারিখের গোরকঘাটা বাজারের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ।  তাই জনস্বার্থে দোকান বাজার বন্ধ রাখাটা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।যার কারণে বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বস্তি দিবে, নিরাপদ রাখবে জনজীবন।  জানতে চাইলে, যেকোনো দোকানদারের সমস্যা হলে যোগাযোগ করতে পারবে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

উল্লেখ্য, মহেশখালীর অধিকাংশ বাজার বড় মহেশখালী ,কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি, হোয়ানক বাজারে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা না করে চলছে এখনো ব্যবসা।

ভয়েস/জেইউ।

 

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION