শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লবণের ট্রাকে মিলল ১লাখ পিস ইয়াবা: ইয়াবাকারবারি ও ডাকাতসহ ৪জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধের সময় ‘গোপনে’ আমিরাত সফরের কথা জানালেন নেতানিয়াহু, ‘আগেই জানতো’ তেহরান টেকনাফ পৌর বিএনপির নেতা আবদুর জব্বার বহিষ্কার ‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’ মেসির জোড়ায় ৮ গোলের ম্যাচে জিতেছে ইন্টার মায়ামি বিধবা বিয়ের বিষয়ে যা বলে ইসলাম বিশ্বকাপের অলটাইম র‍্যাঙ্কিং: সবার ওপরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কোথায় অক্ষত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র: ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার? কক্সবাজার সায়মনের মালিক ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই বেন্তোর ভুলে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়লো!

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে তার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে-মোদি

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারের ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে আজ শুক্রবার (২৬ মার্চ) জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, ‘এই মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে স্মরণ করার দিন। মুক্তিযুদ্ধের যে ভাবনা ছিল এখন সেটিকে আবারও মনে করার সময়।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমাদের ভারতীয়দের জন্য এটি গর্বের বিষয় যে, আমরা শেখ মুজিবুরজীকে গান্ধি শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করার সুযোগ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এবং সকল ভারতীয়দের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সকলকে এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শিক্ষাবিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ, ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার এবং শফিউরকে স্মরণ করে মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভাই-বোনদের পাশে থাকা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসী সৈন্যরা মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়েছিলেন, আত্মত্যাগ করেছিলেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে খুব বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ, জেনারেল অরোরা, জেনারেল জ্যাকব, ল্যান্স নায়েক অ্যালবার্ট এক্কা, গ্রুপ ক্যাপ্টেন চন্দন সিং, ক্যাপ্টেন মোহন নারায়ণ রাও সামন্তসহ এমন অনেক বীর রয়েছেন, যাদের নেতৃত্ব ও সাহসের কাহিনী আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া নিজের জীবনের প্রথম আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি ছিল জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমার বয়স তখন ২০-২২ বছর ছিল, যখন আমি ও আমার অনেক সহকর্মী বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থন করায় আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম এবং কারাগারেও গিয়েছিলাম। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যতটা আকুলতা এখানে ছিল, ততটা আকুলতা সেখানেও ছিল।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত জঘন্য অপরাধ ও নৃশংসতার চিত্রগুলো আমাদের বিচলিত করতো এবং রাতের পর রাত বিনিদ্র করে রাখতো। অপারেশন সার্চলাইটের নিষ্ঠুরতা, নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের যতটা সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি ভারতের প্রতিটি কোণা থেকে, প্রতিটি দল থেকে সমর্থন দিয়েছিল জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীজীর প্রয়াস ও মাহাত্ম্যপূর্ণ ভূমিকা সর্বজনবিদিত।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময়েই ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ অটল বিহারী বাজপেয়ীজী বলেছিলেন, আমরা কেবল মুক্তি সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের সঙ্গে লড়াই করছি, সেই সঙ্গে আমরা ইতিহাসকে একটি নতুন দিশা দেওয়ার প্রচেষ্টাও করছি। আজ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামীদের সঙ্গে ভারতীয় সেনারাও নিজেদের রক্ত বিসর্জন দিচ্ছেন। এই রক্ত একটি নতুন বন্ধন সৃষ্টি করবে, যা কোনও অবস্থাতেই ভাঙবে না, কোনও কূটনীতিরও শিকার হবে না।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য, তাদের ভবিষ্যতের জন্য, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দুই দেশের লক্ষ্য এক এবং প্রচেষ্টাও এক হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উভয় দেশেরই জন্য একবিংশ শতাব্দীর আগামী ২৫ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঐতিহ্যের অংশীদার, আমরা উন্নয়নেরও অংশীদার। আমরা লক্ষ্যও ভাগাভাগি করি, চ্যালেঞ্জগুলোও ভাগাভাগি করি।’

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বাণিজ্য ও শিল্পে যেখানে আমাদের জন্য একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই সন্ত্রাসবাদের মতো সমান বিপদও রয়েছে। এই জাতীয় অমানবিক ঘটনাবলীর পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবে রূপদানকারী শক্তিগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি জানান।

মোদি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং ওদের মোকাবিলা করার জন্য সংগঠিতও হতে হবে। আমাদের উভয় দেশেই গণতন্ত্রের শক্তি রয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট দূরদর্শিতা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অগ্রযাত্রা এই পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সমান জরুরি।’

তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে তার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। যারা বাংলাদেশ গঠনে আপত্তি করছেলিনে, যারা এখানকার মানুষকে নিচু চোখে দেখতেন, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, বাংলাদেশ তাদের ভুল প্রমাণ করছে।’

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION