শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
বাজেট।ফাইল ছবি। ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট বড় অংকের ঘাটতি নিয়েই প্রণয়ন করতে হচ্ছে সরকারকে। এমন অবস্থা আগে আর কখনো হয়নি। করোনার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থবিরতা আর রাজস্ব আদায়ে ধীর গতি, অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। আগামী অর্থ বছরের বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হচ্ছে দুই লাখ ১৪ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা কিনা জিডিপি’র ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর জিডিপি আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা।
আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি হবে তার তৃতীয় বাজেট। এদিন বাজেট বক্তৃতাসহ মোট পাঁচটি বাজেট দলিলের বই সংসদে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে, সর্ম্পূরক বাজেট, আর্থিক বিবৃতি, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি। গতবারের মত এবারও অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ বাজেট উপস্থাপনের দিন দেওয়া সম্ভব হবে না। এটি তৈরি হতে আরো প্রায় দুই মাস লেগে যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, বিগত কয়েক বছরের বাজেট ঘাটতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।
এছাড়া ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, ঘাটতি ছিল ৬৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। মোট রাজস্বের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকেই আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এছাড়া এ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হবে। বাকি ৮৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই ঋণ নেওয়া হবে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থববছরের চেয়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এখাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর বাইরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে যা বাড়িয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সারা দেশজুড়ে বিদ্যমান করোনাভাইরাস সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে আগামী অর্থবছরেও সরকারের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এই আশংকা থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশি সহায়তা পাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সরকার আশা করছে, আগামী অর্থবছরে বিদেশি ঋণ ও অনুদান সহায়তা হিসেবে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা আগে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যাবে। ফলে নিট সহায়তা পাওয়া যাবে ১ লাখ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এর বাইরে ঋণ হিসেবে আসবে আরও ৮০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বাজেট সহায়তা হিসেবে ১৭ হাজার কোটি টাকা যাওয়া যাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
করোনার কারণে চলতি বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত দুই শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে যখন চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাজেটে ঘোষণা করা হয় তখন জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং দেশব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’ এর কারণে এই প্রবৃদ্ধি কোনোভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই সম্প্রতি এই প্রবৃদ্ধির হার কাটছাট করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বাজেটে প্রক্ষেপিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। তবে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির আবারও একটি উচ্চাভিলাষী প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সুত্র:রাইজিংবিডি।
ভয়েস/জেইউ।