শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
লবণের ট্রাকে মিলল ১লাখ পিস ইয়াবা: ইয়াবাকারবারি ও ডাকাতসহ ৪জন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধের সময় ‘গোপনে’ আমিরাত সফরের কথা জানালেন নেতানিয়াহু, ‘আগেই জানতো’ তেহরান টেকনাফ পৌর বিএনপির নেতা আবদুর জব্বার বহিষ্কার ‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’ মেসির জোড়ায় ৮ গোলের ম্যাচে জিতেছে ইন্টার মায়ামি বিধবা বিয়ের বিষয়ে যা বলে ইসলাম বিশ্বকাপের অলটাইম র‍্যাঙ্কিং: সবার ওপরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কোথায় অক্ষত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র: ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার? কক্সবাজার সায়মনের মালিক ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই বেন্তোর ভুলে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়লো!

রোহিঙ্গাদের জন্য টিকার ব্যবস্থা নেই, স্বাস্থ্যবিধিই ভরসা

ফাইল ছবি।

ডয়েচে ভেলে:

রোহিঙ্গাদের জন্য এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থেকে টিকার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি৷ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তাদের টিকা দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে জাতিসংঘের উপর৷ আপাতত তারা স্বাস্থ্যবিধিতেই জোর দিচ্ছেন৷

কক্সবাজারে ৩৫টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মধ্যে আটটিতে এখন পরিপূর্ণ লকডাউন চলছে৷ বাকি ক্যাম্পগুলোতে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি৷ রোহিঙ্গাদের দেয়ার জন্য টিকার আবেদন জানানো হলেও এখনও তার কোন আভাস মেলেনি৷

দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বসবাস কক্সবাজার ও ভাসানচরসহ ৩৫ টি ক্যাম্পে৷শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ হাজার ৭২০ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৪৯ জন৷ গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২০ জন৷ তবে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়নি ভাসানচরে৷

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ডা. তোহা ভুঁইয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, এ পর্যন্ত ক্যাম্পে করোনায় ১৮ জন মারা গেছেন৷ তাদের মধ্যে শনিবার মারা গেছেন একজন৷
‘এ পর্যন্ত ক্যাম্পে করোনায় ১৮ জন মারা গেছেন’

শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের আটটি ক্যাম্প এখন হটস্পট৷ সেগুলো পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে৷ শুধু খাদ্য এবং জ্বালানি ছাড়া আর কিছু প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না৷ বাকিগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে৷ কাউকে ক্যাম্পের বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না৷’’

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে সম্প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইসসিআর)৷ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র কোভ্যাক্স উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন৷ তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতির খবর দিতে পারেননি বাংলাদেশের দায়িত্বরতরা৷

শামসুদ্দোজা নয়ন জানান, তাদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য টিকার আবেদন করা হয়েছে৷ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআরের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন৷ ইউএনএইচসিআরের জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গেলে তাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে৷

রোহিঙ্গাদের জন্য টিকার ব্যবস্থা কী?

জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরতদের মধ্যে ৪০ বছরের ওপরে রয়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার জন৷ ১৮ বছরের উপরে আছেন প্রায় সাত লাখ৷ সেই হিসাবে সবাইকে টিকা দিতে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ডোজ প্রয়োজন৷

সমস্যা হলো, ভারত সরবরাহ বন্ধ রাখায় বাংলাদেশ নিজেদের নাগরিকদের টিকা দেয়া নিয়েই সংকটে রয়েছে৷ এখন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার মাত্র তিন ভাগ টিকা পেয়েছেন৷ অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার বিতরণকৃত মোট ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৫ ডোজের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন৷ দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩০ জন৷ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় প্রথম ডোজ টিকা নেয়া সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাচেছ না৷

চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া পাঁচ লাখ টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে৷ তবে সেই টিকার অগ্রাধিকারে আছে বাংলাদেশে চীনা নাগরিক, চীনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা৷ চীন ও রাশিয়ার সাথে চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে৷ এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন৷ কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য টিকার ব্যবস্থা কিভাবে হবে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব কিছু জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হয়৷ জাতিসংঘ ভ্যাকসিন দিলে রোহিঙ্গাদের ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের৷’’

বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশের তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখান থেকে মিলেছে বায়োএনটেক-ফাইজারের মাত্র এক লাখ ৬২০ ডোজ৷ আগামী সাত দিনের মধ্যে সেই টিকা দেয়া শুরু হবে৷ বাংলাদেশের নাগরিক যারা আগেই নিবন্ধন করেছেন তারা এই টিকা পাবেন৷

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য শিগগিরই টিকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না৷ আপাতত তাই ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের উপর ভরসা করছে সরকার৷

ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে৷ তাদের বিনামূল্যে মাস্ক দেয়া হচ্ছে, হ্যান্ড স্যনিটাইজরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION