মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

চট্টগ্রামের পর সেন্ট লুসিয়া, মায়ার্স যেন বাংলাদেশের জম

খেলাধুলা ডেস্ক:

চটগ্রামে অভিষেক টেস্টে অপরাজিত ডাবল হাকানোর পর তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে দুই ফিফটি। এরপর গেছে ৮টি টেস্ট। কাইল মায়ার্স একবারও পঞ্চাশের ঘর পার হতে পারেননি। আছে ৪টি শূন্যও। আবার ঘরের মাঠে পেলেন বাংলাদেশকে। তাতেই যেন জ্বলে উঠলেন মায়ার্স। সেন্ট লুসিয়ায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শনিবার এক বাক্যে মায়ার্সময়। হঠাৎ ছন্দহারা উইন্ডিজ তার ব্যাটে চড়েই যে শেষ পর্যন্ত চালকের আসনে। দ্বিতীয় দিন শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৪০ রান। তাতে মায়ার্সের একারই অবদান যে অপরাজিত ১২৬!

এভাবে মায়ার্সের ইনিংসের বর্ণনা দিলে সাদামাটাই বলা যায়। ম্যাচের পরিস্থিতির দিকে গেলেই যে একটু পরিষ্কার হবে। প্রথম সেশনের শেষ দিকে স্বাগতিকরা তিন রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললে ক্রিজে আসেন মায়ার্স। ব্ল্যাকউডকে সঙ্গে নিয়ে সেশন পার করে দেন। দ্বিতীয় সেশনে এসে ধীরে ধীরে খোলস ছড়িয়ে বের হতে থাকেন। শরিফুল-খালেদদের সহজেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যেন বার্তা দেন।

অন্য পাশে ব্ল্যাকউড যেন দেয়াল। তাতে আরও সুবিধা হলো মায়ার্সের। ৭ চার ও ১ ছয়ে ৭৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ৩০ ওভারে ১১১ রান তুলে কোনো উইকেট না হারিয়েই চা বিরতিতে যায় উইন্ডিজ।

বিরতি থেকে এসেই ব্ল্যাকউড ফেরেন ৪০ রান করে। এবার মায়ার্সের গল্প শুরু হয় জশুয়া সিলভাকে নিয়ে। জশুয়ার ভূমিকা যেন সেই ব্ল্যাকউডের মতো। দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন এক প্রান্তে। আর মায়ার্স অন্য প্রান্তে রান বাড়িয়ে যাচ্ছেন। শরিফুলকে চারের মারের পর পুল করে ছয়ে মেরে দেখা পান সেঞ্চুরির।

সেঞ্চুরি আসে ১৭৫ বলে। ১৩ চার ও ২ ছয়ে। প্রথম পঞ্চাশের মতো দ্বিতীয় পঞ্চাশ পেতেও ঠিক ৭৫ বল লাগে মায়ার্সের! আর দিন শেষে মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকে। জশুয়ার সঙ্গে গড়েন ৯২ রানের জুটি। তাতে মায়ার্সের অবদান ৬৬ রান!

৮ ম্যাচ হাফ সেঞ্চুরি কিংবা সেঞ্চুরি না পাওয়া মায়ার্স বাংলাদেশকে পেয়েই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করে ফেলেন। যেন বার্তা দিলেন নিজেকে খুঁজে পাওয়ার। মায়ার্সের এক ইনিংসেইতো চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে চালকের আসনে থেকেও হারতে হয়েছে। অনেক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে মায়ার্স সে বার অপরাজিত ছিলেন ২১০ রানে।

বাংলাদেশসহ এখন পর্যন্ত ৫টি দেশের সঙ্গে মোট ১৩টি টেস্ট খেলেছেন মায়ার্স (সেন্ট লুসিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস বাকি)। ১৩ ম্যাচে ২৩ ইনিংসে রান ৭৯৭। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ ইনিংসে ৩৯৪! গড় ৯৮.৫০। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ ইনিংসে ২৮৪ রান করেন। গড় ৪০.৫৭। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ ইনিংসে ৫৯ রানের বেশি করতে পারেননি! তিনি যেন বাংলাদেশের জম! এবার মায়ার্স থামবেন কোথায়?

মায়ার্স শুধু ব্যাটিংয়েই যে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তা নয়। মিডিয়াম পেসেও কম ভোগাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনে দিচ্ছেন ব্রেক থ্রু। দুই টেস্টের এখন পর্যন্ত তিন ইনিংসে নিয়েছেন ৭ উইকেট।

মায়ার্সে ভর করে ১০৬ রানের লিড উইন্ডিজের। তৃতীয় দিন সকালে তাকে দ্রুত না ফেরাতে পারলে এই ম্যাচেও ভালো কিছু প্রত্যাশা করারই সুযোগ থাকবে না সাকিবদের সামনে! মায়ার্সের অতীত যে বলছে তাই!

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION