সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
জিকির উল্লাহ জিকু, কক্সবাজার ভয়েস
টমটম চালক সদর উপজেলার পিএমখালীর বাসিন্দা মৃত শামশুল আলমের পুত্র মাহবুব উল্লাহ ছিনতাইয়ের শিকার হন ২৩ দিন আগে। বর্তমানে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালের বেড়ে কাতরাচ্ছেন। একদিকে সংসার অন্যদিকে চিকিৎসা। হিমসিম খাচ্ছে হিসাব মেলাতে। তারপরও বাঁচার তাগিদে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ছিনতাইয়ের শিকার অসহায় মাহবুব।
ছিনতাইয়ের শিকার মাহবুব জানান, গত মাসের ১৭ তারিখ রাত আনুমানিক ১২ টার পর খুরুসকুল রাস্তার মাথা থেকে নিজের টমটম গাড়ি রেখে একটি বাস টার্মিনালগগামি টমটম গাড়িতে উঠেন। তখন যাত্রী ছিল শুধু একজন। একটু পর বিজিবি ক্যাম্প পার হওয়ার পরপর তিনজন টমটমে উঠে ছদ্মবেশী ছিনতাইকারিরা। তারা বাসটার্মিনাল পৌঁছার একটু আগে হঠাৎ করে তিনজনেই চুরি ধরে। একজনে ডান পায়ে হাঁটুর উপরে ছুরিকাঘাত করে।
তিনি ওইরসময়ের অবস্থার বর্ননায় বলেন, ছিনতাইকারিরা এমনভাবে ছুরি দিয়ে ঘিরে ধরে যে চিৎকার করলেও জীবনের সমস্যায় পড়ে যেতাম। এমন অবস্থায় যা আছে মোবাইলসহ টাকা পয়সা সব নিয়ে নেয়। কিন্তু নেওয়ার আগে আমাকে শেষ করে চলে যায় ওরা।
ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার ভয়েসকে ছিনতাইয়ের পর মানসিক সমস্যা আর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, যেদিন তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন সেদিন তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মনে হচ্ছিল আঘাত বেশি নয়। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে ধারণা পাল্টে যায়।আঘাতের পরিমাণ গুরুতর হলে সদর হাসপাতালে তার একটা অপারেশনও হয়। সদর হাসপাতালের চিকিৎসায় ভালো না হলে চট্টগ্রামে রেফার করেন।তখন থেকেই দুঃখ নেমে আসে মাহবুবের জীবনে।যা ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা দেয়।
এদিকে সদর হাসপাতাল ১৭ দিন চিকিৎসার পর রেফার করলে চট্টগ্রাম যাওয়ার মতো কোন লোক না থাকায় বাধ্য হয়ে পরে সদরে অবস্থিত খতিব আলফুয়াদ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করতে থাকে। এক পর্যায়ে ৬ দিনে প্রায় ৮৬ হাজার টাকার বিল আসে। এখন এই টাকা জোগাড় করতে মাহবুবকে হয় দেনা করতে হবে। না হয় জমি বিক্রি করতে হবে।
তার পারিবারিক সুত্র জানান, টাকা দিতে না পারায় আল ফুয়াদ হাসপাতালে আপাতত চিকিৎসা বন্ধ অন্য দিকে তার পরিবার জমি বিক্রি করে স্বামীকে কিভাবে বাসায় নিয়ে যাবে এচিন্তায় রাত কাটেনা।
ভয়েস/ জেইউ।