সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারে ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের যৌথ আয়োজনে সাগর পাড়ের এক অভিজাত হোটেলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’ থিমে ২৪ দেশের উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার অংশগ্রহণে ‘ইন্দো প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ৪৬ তম ইন্দো- প্যাসিফিক আর্মিজ ম্যানেজমেন্ট সেমিনার।
উক্ত সেমিনারের প্রতিপাদ্য হলো,“ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে সামরিক কূটনীতি”। এছাড়াও সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী অন্যান্য সদস্যগণ বলিষ্ঠ শান্তিরক্ষা মিশন ও এর করণীয় শীর্ষক ব্রেক আউট সেশন এবং জুনিয়র নেতৃবৃন্দ পেশাদারিত্বের উপর পৃথক পৃথক আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান জেনারেল চার্লস এ ফ্লিন সহ অংশগ্রহণকারী দেশ সমূহের উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহন করেন। এই সম্মেলন অত্র অঞ্চলের স্থলবাহিনীগুলোর বৃহত্তম সমাবেশ। যার মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পারিক বোঝাপড়া, সংলাপ ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি করা।
পরবর্তীতে সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী দেশ সমূহের সামরিক কর্মকর্তাগণ উখিয়ার কুতুপালং এ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন ও মত বিনিময় করেন। এসময় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণ আগত প্রতিনিধি দলকে সমস্যা ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরে। এছাড়াও সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী দলকে ক্যাম্পে কর্মরত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ব্রিফিং প্রদান করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে ২৪টি দেশের প্রতিনিধিগণ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্পের বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করেন।
উল্লেখ্য গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন।
ইন্দো প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট হল অন্যতম প্রধান সেনা কর্মকাণ্ড, যা ইন্দো-প্যাসিফিক আঞ্চলিক স্থল বাহিনীর সিনিয়র সামরিক নেতৃত্বের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে মতামত ও ধারণা বিনিময়ের জন্য একটি ফোরাম। আইপিএএমএস-এর উদ্দেশ্য পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ এবং বন্ধুত্বের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো সেমিনারের সহ-আয়োজক। এর আগে ১৯৯৩ এবং ২০১৪ সালে এই ইভেন্টের সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ।
ভয়েস/আআ