রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ভুমি অফিসে শক্তিশালি দালাল চক্র: কক্সবাজারে ১৫ লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের নামে খতিয়ান সৃজন!

রোহিঙ্গাদের নামে খতিয়ান সৃজনের অন্যতম হোতা সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে আটক খুরুশকুলের মোহম্মদ আলী (বামে) ডানে আবদুর রহমান

ভয়েস প্রতিবেদক:

সৌদি আরবে বসে নাগরিকত্ব নেয়ার চেষ্টা ১৩ জনের

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল মৌজায় অনিয়মের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নামে একটি খতিয়ান সৃজিত করা হয়েছে। যার নং ১২৪২৪। সৌদি আরবে অবস্থানরত ১ রোহিঙ্গা নারী ও তার ১২ সন্তানের নামে এই খতিয়ানটি সৃজন করা হয়েছে চলতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে। খুরুশকুলের মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি জনৈক মোহাম্মদ আলী ও কথিত আব্দুর রহমান এ ব্যক্তিদ্বয় সদর ভুমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসুত্রে অভিনব কৌশলে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই খতিয়ান সৃজন করে বলে নির্ভরশীল সুত্রে জানাগেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে খুরুশকুল পেঁচার ঘোনার বাসিন্দা মৃত শফি হাজির পুত্র রমজান আলী সত্তরের দশকে সৌদি আরবে চলে যায়।সেখানে আশির দশকে মরিয়ম খাতুন নামের এক রোহিঙ্গা শরনার্থীকে বিয়ে করে।এরি মধ্যে ২০০৮ সালের দিকে সৌদি আরবে রমজান আলী মারা গেলে এসময় দেশে তার জীবিত মা-বাবা ও সৌদি আরবে তার রোহিঙ্গা স্ত্রীসহ ১৩ ওয়ারিশ রেখে যান। রমজান আলীর মৃত্যুর পরে দেশে তার ওয়ারিশি সম্পত্তির অধিকাংশই আদালতের মাধ্যমে ভাগজার নামা করে মা সোনা মেহের ও ভাই মোহাম্মদ আলীগং বিভিন্ন জনকে দলিল মুলে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীরা জানান মোহাম্মদ আলী সম্প্রতি ইয়াবাসহ নানান মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে বহুবার পুলিশ ও র্যাবের হাতে ধরা পড়ে। এই মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় তার অনেকটা পতন শুরু হলে সেই এবার অভিনব কৌশলে গ্রামের মানুষের সাথে প্রতারণায় নেমে পড়ে।আর তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রাস্তার পাড়ার আব্দুর রহমান নামের ভুমি অফিসের শীর্ষ দালাল। এ চক্রের হাতে খুরুশকুলের বহু মানুষ চরম ভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে অসংখ্য ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানাযায় এই দুই জন মিলে ২০২০ সালে সৌদি আরবে অবস্থানরত মৃত রমজান আলীর রোহিঙ্গা স্ত্রী ও তার ছেলে মেয়ের নামে আমমোক্তার নামা তৈরী করে নানান ধরনের জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে তাদেরকে বাংলাদেশের নাগরিক বানাতে তৎপর হয়ে উঠে।এতে মোহাম্মদ আলীগং পর্বের অর্থাৎ ১৫-২০ বছর আগে বিক্রিত জমি আবারো জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে একদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা অন্যদিকে খতিয়ান সৃজন করে সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের এদেশের নাগরিককত্ব করার কৌশল নিয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে আসে একাজের জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ লক্ষ টাকা আনা হয়েছে। জালিয়াতির এ কাজ সম্পাদনে ভুমি অফিস ম্যানেজসহ কক্সবাজার আদালতের এক আইনজীবীকে ১০ লাখ টাকার বেশি। সম্প্রতি টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুষ্ট চক্রের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে ক্রমশ খতিয়ান সৃজনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

এদিকে মোহাম্মদ আলীগং এর বায়া দলিল গ্রহীতা খুরুশকুলের মামুন পাড়ার বাসিন্দা বর্তমানে শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠের অধিবাসী মোঃ আবু তৈয়র জানান তিনিসহ এধরণের আরও ৬ জনের ৬টি খতিয়ান কাউকে নোটিশ না দিয়ে গোপনে বাতিল করে। এ জন্য ১১৯/২১নং মিচ মামলা করে দালাল ও প্রতারক চক্র। আবু তৈয়ব এব্যাপারে ৭ নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে আবেদনে উল্লেখ করেন সদর সহকারি কমিশনার সদর (ভুমি) কার্যালয় কতৃক সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নামে বিতর্কিত ১২৪২৪ নং খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে। তিনিসহ আরও কয়েকজন খতিয়ানের মালিক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ১১৯/২১নং একটি মিচ মামলা মূলে একসাথে ৬টি খতিয়ান বাতিল করে সকলের সমুদয় জমি নতুন করে সৃজিত ১২৪২৪ নং খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কখন কারা কী উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ নিয়ম লঙ্গন করে কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে একতরফা ভাবে ৬টি খতিয়ান বাতিল করে।

গত ২ সপ্তাহ আগে এ ঘটনা জানার পর ১১৯/২১ নং মিচ মামলাটি কী উদ্দেশ্যে কারা করেছে তা দেখার জন্য ভুমি অফিসে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এর কাছে দেয়া অভিযোগ আরও উল্লেখ করেন ভুমি অফিসের দায়িত্বরতরা বলছে উক্ত মিচ মামলাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সন্দেহ হয় যে সংঘবদ্ধ দুস্কৃতকারীর কাছ হতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রকৃত খতিয়ানের মালিকদের অগোচরে গোপনে ভুমি অফিসের কিছু কর্মচারীরা সৌদি আরবে আবস্থানরত রোহিঙ্গা বংশধরদের এদেশের নাগরিকত্ব করার জন্য এই কাজটি করেছে। অনিয়ম, দূর্নীতির তদন্তের স্বার্থে গোপনে সৃজিত ১২৪২৪ নং খতিয়ানটি বাতিল পরবর্তী তা তদন্ত করে ৬টি খতিয়ান পুর্নবহালের দাবি জানান। একই সাথে তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের প্রয়োজনীয় শাস্তির দাবি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত সকল নথি ভুমি অফিস থেকে তলব করা হয়েছে তদন্ত করে তা বাতিল ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION