বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

রামুতে একটি ভবনের নির্মান কাজ নিয়ে আতংক, দূর্ঘটনার আশংকা

বিশেষ প্রতিবেদক:
রামু চৌমুহনী স্টেশনে অনুমোদন ছাড়াই রায়হান কমপ্লেক্স নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছয়তলার নির্মান কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের বাঁধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার পর পুনরায় কাজ শুরু করেছেন ভবনটির মালিক মো. ফেরদৌস। ফলে নির্মানাধীন এ ভবনের ভাড়াটিয়াসহ এলাকাবাসীর মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী বলছেন, জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই করোনা মহামারীর সময়ে ভবনটি ধ্বসে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলার দাবি জানান তারা।
তবে রামু উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আলা উদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, ইউএনও মহোদয়সহ আমরা ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভবন মালিক পাঁচতলা পর্যযন্ত অনুমোদনের কাগজপত্র আমাদের দেখিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে  তিনি পাঁচতলার কাজ শেষ করে ছয়তলার কাজ শুরু করেছেন। ছয়তলায় শুধুমাত্র ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বাকি। কিন্তু আমরা ভবন মালিক মো. ফেরদৌসকে ভবনটির অনুমোদনহীন অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য বলেছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে,কক্সবাজারের রামু চৌমুনী স্টেশনের উত্তর পাশেই রায়হান কমপ্লেক্স নামের এই ভবনটির অবস্থান। এতদিন ভবনটি চারতলা পর্যন্ত থাকলেও সম্প্রতি ভবনটিকে বর্ধিত করে ছয়তলা করা হচ্ছে। ভবনটি নীচতলায় বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দোতলায় রামু হেলথ ডায়াগনস্টিক নামের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রও রয়েছে।
তবে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, আগে থেকেই ভবনটির ভিত্তি নিয়ে আগে থেকেই লোকমুখে নানা কথাবার্তা অাছে। অনেকেই বলছেন,রাতারাতি ডোবা ভরাট করে পাইলিং বিহীন এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে এ ভবনটি তৈরী করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটির ছয়তলা বর্ধিত করার কাজ শুরু করা হলে মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
তারা আরও জানান, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা সরেজমিনে গিয়ে ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়ার পর কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হলেও গত বুধবার (৩ জুন) থেকে আবার কাজ শুরু করেছে ভবন মালিক। এবং রাতারাতি ভবনটি ছাদ ঢালাই দেওয়ার জন্য ভবনের নীচতলায় বিপুল পরিমান সিমেন্টও মজুদ করা হয়েছে।
রামু চৌমুহনীর এক ব্যবসায়ী বলেন, চরম ঝুঁকির বিষয়টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রামু উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রেএ রকম একটি ভবন তৈরী করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। হয়তো আমরা সবাই রানাপ্লাজার মতো আরেকটি ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছি।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রণয় চাকমা  বলেন, অনেকেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে আমরা সেই ভবনে যাই। যেকোনো সময় ভবনটি  ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ভবন মালিককে ছয়তলার কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি।
ইউএনও বলেন, পাঁচতলা পর্যন্ত যদি অনুমোদন থাকে তিনি তো সেখানে ছয়তলা করতে পারেননা। এটা বড় ধরনের ঝূঁকি।
নিষেধ করার পরও তিনি ছয়তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি অবগত করা হলে ইউএনও বলেন, যেসব উপজেলায় পৌরসভা নেই সেখানে এসব বিষয় দেখার এখতিয়ার উপজেলা পরিষদের। এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও অাছে। যে কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় আর সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী। আমি কমিটির একজন সদস্য মাত্র।
রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল  বলেন,এ ধরনের বিষয় জনস্বার্থের জন্য বিরাট হুমকী। এভাবে অনুমোদনহীন বেআইনীভাবে যদি ভবন নির্মান করা হয় যেকোন সময় বড় ধরনের প্রাণহানির মতও ঘটনা ঘটতে পারে। এটি বন্ধ করা জরুরী। তবে অতি বর্তমানে এ বিষয়টি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেখছে বলে তিনি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন মালিক মো. ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, আমি যথাযথ অনুমোদন নিয়ে কাজ করছি। আমার ভবনের সাততলা উপযোগী ফাউন্ডেশন ও অনুমোদন রয়েছে।
ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION