বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
প্রিয় সহযোদ্ধা,
সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানবেন।এমন একটি সময় যখন মানুষজন করোনা ভাইরাস ছাড়া আর কিছু নিয়ে কথা বলছে না। যে সময়ে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ ঘরের ভেতর স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে থেকেছে। অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে কখন ঘর থেকে বের হয়ে আবার আগের জীবনে ফিরে যাবে। কতোখানি আগের জীবনে ফিরে যেতে পারবে, সেটা নিয়েও অনেকের ভেতর সন্দেহ। সেই সময়ে অামার সহযোদ্ধা একদল বীর সেনানি ঝড়ে ভিজে, তপ্তরোদে রাস্তায় থেকেছে গোটা ২৫টা দিন। শুধুমাত্র এই শহরের মানুষকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে রক্ষা করার তাগিদে। এই নিয়ে অনেকে নাখোশ হয়েছেন, অনলাইন পোর্টাল সহ বিভিন্ন পত্রিকা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এসব স্বেচ্চাসেবকদের কারো বাসায় বাচ্চা,কারো বাসায় বৃদ্ধ বাবা-মা। তন্মধ্যে বাইরে ডিউটি করার কারণে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি থেকে নিজের অাপনজনকে বাঁচাতে থাকতে হয়েছে নিজেকে পরিবারের অনান্য সদস্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে । তাই থাকতে হয়েছে বাসার বারান্দায়,মেঝেতে।
এটুকু কষ্ট দেশ ও দশের উপকারে হাসিমুখ মেনে নিয়েছেন আপনারা।
আপনাদের এই অাত্মনিবেদন ও স্বেচ্ছাশ্রম,মাটি ও মানুষের প্রতি দরদ, দলের প্রতি ভালোবাসা,নেতা ও নেতৃত্বের প্রতি অাস্থা অামাকে সাহস দিয়েছে। স্পর্ধা দিয়েছে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবার। করোনা সংক্রমন থেকে কক্সবাজার বাসীকে বাঁচাতে দীর্ঘ ২৫ দিন রেডজোন কক্সবাজার পৌরসভায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে পৌর অাওয়ামীলীগের স্বেচ্ছা সেবক বাহিনীর অাত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকুক।
সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে নিজের জীবন বাজি রেখে কক্সবাজার বাসির জীবন বাঁচাতে আপনাদের এই লড়াকু দিনযাপন। কক্সবাজার বাসি স্মরণে ও স্মৃতিতে অাপনাদের ঠাঁই হবে বলে আমার বিশ্বাস।
এই যে ২৫ টা দিন কত কাঠ খড় পোহাতে হলো অামার অার অাপনাদের। তারপরেও ধৈর্য্য এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন বলেই আজ কক্সবাজার পৌরসভার সংক্রমনের সংখ্যা ৩৫% থেকে কমে ১২.৬% এ নেমে এসেছে। এই কাজ টুকু সম্ভব হয়েছে শুধু আপনাদের একাগ্র চিত্তে মাঠে পড়ে থাকা ও দেশপ্রেমের কারনে।
কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের স্বেচ্ছাসেবক টিম আজ জেলার গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও প্রসংশিত।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ভিডিও কনফারেন্সে বলেছিলেন, কক্সবাজার কে করোনা মুক্ত রাখতে,আমরা জীবন বাজি রেখে তা করতে চেষ্টা করছি। যেহেতু আমরা তার সৈনিক।
বীরত্বের ইতিহাসটুকু পৌর আওয়ামীলীগের সর্ব স্তরের নেত্রীবৃন্দের পক্ষে উৎসর্গ করলাম অামাদের অাশা ভরসার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড, চেতনা ও লড়াইয়ের বাতিঘর,বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে। অাপা অামাদের শেষ ঠিকানা। ৩২ নম্বর অামাদের চেতনার বাতিঘর। অার দল অাওয়ামী লীগ অামাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের নিউক্লিয়াস।
এই কাজের মাধ্যমে যদি ১জন মানুষের প্রাণ বাঁচে,কিংবা লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্ষা পায় করোনা ভাইরাসের অাক্রমন থেকে তাঁর সবটুকু কৃত্বিত্বের অহংকার অার গৌরব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উদ্দ্যেশে সর্মপন করলাম।
১২ টি ওয়ার্ডের সভাপতি,সাধারন সম্পাদক সহ স্বেচ্ছাসেবক টিম এর সকল সদস্য স্বেচ্ছাসেবকদের হৃদয়ের অতল শ্রদ্ধা ও অনি:শেষ ভালোবাসা।
আমাদের স্বেচ্ছাসেবক রাশেদুল আলম রিপন, ছাত্রলীগের ওয়াসিম সিকদার,সহ ৩ জন কাজ চলাকালীন করোনা প্রজেটিভ হয়েছে,তার পরও মনোবল হারায়নি স্বেচ্ছাসেবক টিম।
মানবিকতা ও দেশপ্রেমের এটুকু শিক্ষা অামাদের নেতা স্বাধীন বাংলা স্থপতি,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হতে পাওয়া। জনতার দূর্দিনে মুজিব সেনারা রাজপথ ছাড়ে না তা আপনারা প্রমান করেছেন।
করোনা প্রজেটিভ স্বেচ্ছাসেবকদের সুস্থতা কামনা করছি আর আপনাদের সকলকে ৭ সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছি।
ইতোমধ্যে আমাদের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক (স্বাস্থ্য) কন্ট্রাক ট্রেসিংএর কাজ শুরু করেছে। সন্তোষজনক ভাবে তাদের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির সহায়ক ভূমিকা পালন করতে শিঘ্রই আমরা নতুন কর্মসূচী নিয়ে জনগণের দৌরগোড়ায় যাবো।
ভাল থাকবেন।, সুস্থ থাকবেন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম,
সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক।
কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগ।