শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এখন চকরিয়া—পেকুয়ার এমপি

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ফাইল ছবি

ভয়েস প্রতিবেদক, চকরিয়া:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে ১৫৮ কেন্দ্রে বড়ধরণের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। তবে বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমৃ থাকলেও দুপুরের দিকে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আবার বিকালের দিকে বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্র ফাঁকা দেখা গেছে।

গতকাল রোববার ৭ জানুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিন একাধিক ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোট উৎসবের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। প্রায় সব ভোট কেন্দ্রে লাইন ধরে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। তবে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার তুলনামূলক কম সংখ্যক নারী ভোটার দ্বাদশ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি একটি পৌরসভার ১১৪টি ভোট কেন্দ্র ও পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ সময়ে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বড়ধরণের কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি বলে সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা চকরিয়ার ইউএনও মো.ফখরুল ইসলাম ও পেকুয়ার ইউএনও চাই থোয়াইহলা চৌধুরী।

তাঁরা বলেন, তিনজন জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে দুই উপজেলার ১৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করেন সেনা বাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ এবং আনসার বাহিনী মিলিয়ে ২০০৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহল তৎপরতার কারণে আমরা সবগুলো কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পেরেছি। তবে কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণকালে কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের নানাভাবে প্রবাহিত করতে চাইলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষের লোকজনকে কেন্দ্রের আশেপাশ এলাকা থেকে সরিয়ে দেন।

তিনি বলেন, বেশ কটি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রার্থীর এজেন্টরা সংঘাতে জড়ালে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি কেন্দ্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখেন প্রিসাইডিং অফিসার। পরবর্তী সময়ে অনুকুলস্থলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়।

গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে এই রিপোর্ট তৈরির মুহুর্তে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১৪ টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন। স্থগিত তিনটি ভোট কেন্দ্র হচ্ছে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরনদ্বীপ ভুমিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা অসুস সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

তিনি বলেন, চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্যারচর চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে জোরপূর্বক ব্যালেট পেপারে সিল মারার সময় শামসুল আলম নামের একজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

গতকাল রাত সাড়ে নয়টায় চকরিয়া উপজেলার স্থগিত তিনটি ছাড়া অবশিষ্ট ১১১ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ফখরুল ইসলাম।

ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ কল্যান পাটির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (হাতঘড়ি) পেয়েছেন ৬৬২১৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম (ট্রাক) পেয়েছেন ৩৯৫৯২ ভোট, ওয়াকার্স পাটির হাজি আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম (হাতুড়ি) পেয়েছেন ৪৬২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কমরউদ্দিন আরমান (কলারছড়ি) পেয়েছেন ১২৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকি তুহিন (ঈগল) পেয়েছেন ১৮১ ভোট, জাতীয় পাটির (এরশাদ) হোসনে আরা আরজু (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৬২৫ ভোট ও ইসলামি ফ্রন্টের বেলাল উদ্দিন ছিদ্দিকী (মোমবাতি) পেয়েছেন ৫৭৮ভোট।

অন্যদিকে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গননা শেষে গতকাল রাত আটটায় পেকুয়া উপজেলার ৪৪ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চাই থোয়াইহলা চৌধুরী। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ কল্যান পাটির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (হাতঘড়ি) পেয়েছেন ১৫৭৩৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম (ট্রাক) পেয়েছেন ১৩৩০৪ ভোট, ওয়াকার্স পাটির হাজি আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম (হাতুড়ি) পেয়েছেন ৭৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কমরউদ্দিন আরমান (কলারছড়ি) পেয়েছেন ৫৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকি তুহিন (ঈগল) পেয়েছেন ৬৩ ভোট, জাতীয় পাটির (এরশাদ) হোসনে আরা আরজু (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১১৮ ভোট ও ইসলামি ফ্রন্টের বেলাল উদ্দিন ছিদ্দিকী (মোমবাতি) পেয়েছেন ১১৩ ভোট। চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার ১৫৮ কেন্দ্রের মধ্যে স্থগিত তিনটি বাদে অবশিষ্ট ১৫৫ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক হাতঘড়ি প্রতীকে ৮১৯৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি জাফর আলম। তিনি ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫২৮৯৬ ভোট। তিনি ২৯০৫৯ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৪১৯ জন। তদমধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ জন এবং পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৪ জন।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION