বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইনানীতে ২ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপ থেকে ওঠা গ্যাসের আগুন: ২২ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক আবদুল আজিজের পিতার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় নির্গমন গ্যাসের আগুন: আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ছেলের হাতে বাবা খুন ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপটি সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খোলা প্রতিপক্ষ ফুটবলারের ওপর রাগ কমছে না নেইমারের, পাল্টা বক্তব্য নেস্তরের রামুর রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার: চুরির ৯৬ লাখ টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি, কবে কোথায় আঘাত হিমছড়ি সমুদ্রে গোসলে নেমে তিন পর্যটক নিহতের ঘটনায় নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার

টেকনাফের শীলখালীতে হচ্ছে সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট

ভয়েস প্রতিবেদক:

টেকনাফ উপজেলার বাহারছরা ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী সমুদ্র সৈকত ঘেষা মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশে গড়ে তোলা হবে “বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট”। আন্তর্জাতিকমানের এ রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য ৩ একর ৩৪ শতক অকৃষি খাসজমি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এর অনুকূলে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, “বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট” স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি চেয়ে সুপ্রীম কোর্ট প্রশাসন থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন টেকনাফের বাহারছরা ইউনিয়নের শীলখালী মৌজার উত্তর শীলখালী এলাকায় সমুদ্র সৈকত ঘেষা মেরিন ড্রাইভ রোডের পশ্চিম পাশে সমুদ্র সৈকতের পূর্ব পাশে বিএস ৩০২৭, ৩০২৮, ৩০২৯, ৩০৩০, ৩০৩৩, ৩০৩৪ দাগের ৩ একর ৩৪ শতক অকৃষি খাসজমি “বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট” স্থাপনের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করে। যে প্রস্তাবের দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত মামলা নম্বর : ০১/২০২৩-২০২৪ (টেকনাফ)।

ভূমি মন্ত্রণালয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেওয়া প্রস্তাবটি ১৯৯৫ সালের অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালার ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে গত ২২ নভেম্বর অনুমোদন দেয়। অনুমোদন দেওয়া জমিটির জন্য নামমাত্র ১ লক্ষ ১ টাকায় প্রতীকী সেলামী নির্ধারণ করা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রীম কোর্ট শাখায় সুপ্রীম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষে চালানমূলে সরকারি কোষাগারে ১ লক্ষ ১ টাকা প্রস্তাবিত জমির জন্য নির্ধারিত সেলামী জমা করা হয়।

এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের পক্ষে রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ গোলাম রব্বানী জমি গ্রহীতা হিসাবে এবং সরকারের পক্ষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জমি দাতা হিসাবে ৩ একর ৩৪ শতক অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদানের রেজিস্ট্রাড চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। একইদিন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ গোলাম রব্বানী’র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পাদিত চুক্তিপত্রটির দলিল হস্তান্তর করেন। চুক্তিপত্রটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে, সুপ্রীম কোর্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মদ খোন্দকার, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাবেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী জজ ওমর ফারুক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মনজুর আলম সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর জন্য দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত পাওয়া জমির দখল সার্ভে করে ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্দোবস্ত নেওয়া জমিতে একইসা আরসিসি সীমানা পিলার পুঁতে জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। বন্দোবস্ত নেওয়া জমিটা সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ গোলাম রব্বানী, কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন সহ কক্সবাজার বিচার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। সুত্রটি জানিয়েছে, চুক্তি সম্পাদনের পর সুপ্রীম কোর্টের অনুকূলে জমিটির নামজারী খতিয়ান সৃজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমির লোকেশনটা খুবই মনোমুগ্ধকর ও চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খুব সহসায় বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সুত্র মতে, বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে থাকবে, বিচার সংক্রান্ত গবেষণার অবারিত সুযোগ। থাকবে গবেষনাধর্মী বিচারিক তথ্য উপাত্ত। থাকবে মিউজিয়াম। সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের গবেষণায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা। থাকবে, গবেষণায় নিয়োজিতদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বমানের একটি ইনস্টিটিউট হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অত্যাধুনিক বিচারিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলোর কার্যক্রমের খোঁজ খবর নেওয়া নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কার্যক্রমের জন্য আধুনিক প্ল্যান, ডিজাইন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামোও সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সুত্র।

সুত্র মতে, সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হলে এটি হবে দেশের প্রথম এবং একমাত্র আইন, আদালত ও বিচার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রাজধানীর বাইরে এটি হবে প্রথম স্থাপনা।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় গবেষণা করেন, এমন একজন গবেষক বলেছেন, দেশে অনেক আগেই একটি রিসার্চ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা দরকার ছিল। প্রস্তাবিত সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটটি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাপনাকে আরো অনেক সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করবে। এটি চালু হলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় আমুল সংস্কার হবে। দেশের সার্বিক বিচারিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদন্ড ও উন্নত বিশ্বের বিচারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা যাবে। একইসাথে প্রচলিত আইনে বিরাজমান থাকা অসংগতি ও ত্রুটি গুলো সহজে দুর করা যাবে বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত গবেষক।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION