মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
উখিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে রোহিঙ্গাসহ ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে হাম রোগের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে রোহিঙ্গাসহ ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা শিশু, অপর দুজন উখিয়া ও রামু উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাদের জন্য পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. শাওন জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ, নার্সিং সেবা ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যেসব রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন, তাদের তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডা. এহেছান উল্লাহ সিকদার বলেন, হাম রোগের বিস্তার রোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৌনম বড়ুয়া জানান, টেকনাফেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। তবে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ে ‘উঠান বৈঠক’, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম এবং নজরদারি আরও জোরদার করা দরকার।
ভয়েস/আআ