মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
আইনাল হক:
ক্ষমা মহৎ গুণ। এটি আত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইসলাম মানুষকে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। কারণ ক্ষমা মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং সমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা তাদের মার্জনা করো, দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করো এবং ক্ষমা করো, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ (সুরা তাগাবুন ১৪) এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, অন্যকে ক্ষমা করা মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভের অন্যতম উপায়।
ক্ষমা মানুষের হৃদয়কে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত রাখে। যে ব্যক্তি ক্ষমা করতে পারে, সে প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী। আজকের সমাজে অশান্তি, বিরোধ ও সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ ক্ষমার অভাব। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমাশীল মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষকে ভালোবাসা, ভুলত্রুটি ক্ষমা করা এবং উদারতার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্তদের এবং আল্লাহর পথে যারা গৃহত্যাগ করেছে, তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদের মার্জনা করে ও দোষ-ত্রুটি এড়িয়ে যায়। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াবান।’ (সুরা নুর ২২)
ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) অত্যন্ত ক্ষমাশীল ছিলেন। যখন তিনি মিসতা ইবনে আসাসা (রা.)-এর জন্য কিছুই ব্যয় করবেন না বলে কসম করেন, তখন আলোচ্য আয়াত নাজিল হয়। কারণ মিসতা হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের সঙ্গে শরিক ছিলেন এবং এ জন্য তাকে অপবাদের শাস্তিস্বরূপ ৮০টি বেত্রাঘাত করা হয়।
তিনি তওবা করেন এবং আবু বকর (রা.)-এর কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু আবু বকর (রা.) তাকে ক্ষমা না করে তাকে কিছুই দেবেন না বলে কসম করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আয়েশার বিরুদ্ধে মিসতা যে অপবাদ দিয়েছে তাতে আমি মিসতার জন্য কিছুই ব্যয় করব না। তখন মহান আল্লাহ আবু বকর (রা.)-কে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার প্রতি উৎসাহিত করে উল্লিখিত আয়াত নাজিল করেন। ফলে আবু বকর (রা.) বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি চাই যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি কসম ভঙ্গ করেন এবং মিসতার কাছে গিয়ে তাকে আগের মতো খরচ দেওয়া শুরু করেন। উল্লেখ্য, মিসতা (রা.) ছিলেন মুহাজির ও মিসকিন সাহাবিদের অন্যতম। অভাবের কারণে আবু বকর (রা.) তার সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। (ইবনে কাসির ৬/৩১)
ক্ষমাকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর অফুরন্ত ক্ষমা লাভে ধন্য হয়। যে অন্যকে ক্ষমা করে, সে মহান আল্লাহ ও মানুষের ভালোবাসা পায়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যদি তোমরা কোনো সৎকর্ম প্রকাশ করো বা গোপন করো কিংবা কোনো অপরাধ মার্জনা করো, তাহলে আল্লাহ নিশ্চয়ই মার্জনাকারী ও সর্বশক্তিমান।’ (সুরা নিসা ১৪৯) ইসলাম শিক্ষা দেয়, ক্ষমা করা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং এটি শক্তিমান ও উচ্চ চরিত্রের মানুষের বৈশিষ্ট্য।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক
ভয়েস/আআ