শুক্রবার, ১৯ Jun ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন বসছে আগামীকাল রোববার। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধিবেশনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনসহ করোনা সংক্রমণকালের পূর্ববর্তী দুটি অধিবেশনের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৈঠক চলবে। রোস্টারভিত্তিক প্রতিদিন ৮০ জনের মতো সংসদ সদস্য সংসদের বৈঠকে অংশ নেবেন। অধিবেশন চলাকালে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সকলেরই কভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল থাকতে হবে। সেই সাথে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যদেরও কভিড টেস্ট করতে হচ্ছে।
এবারও রোস্টারভিত্তিতে অংশ নেবেন এমপিরা
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এ অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। তবে, জরুরি আইন প্রণয়নের স্বার্থে কার্যদিবসের সংখ্যা কম বেশি হতে পারে। করোনাকালের গত দুটি অধিবেশনের মত এবারও সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। ফলে সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে স্পিকার কার্দিবসের সংখ্যা নির্ধারণ করবেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৯ আগস্ট নবম অধিবেশন আহ্বান করেন। সংসদের বিগত ৮ম অধিবেশন গত ৯ জুলাই শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা আছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ কালে এ অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সার্বিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সংসদ। সম্প্রতি সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচরী স্বাভাবিক নিয়মে অফিসে এলেও অধিবেশনে এটি কাটছাঁট করা হচ্ছে। অধিবেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে অন্যদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অধিবেশনের সময় সংসদ ভবনে দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির জন্য ইতোমধ্যে রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের রোস্টার অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত দিনে বৈঠকে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে তাদের কভিড টেস্টের অনুরোধ করা হয়েছে। আগের অধিবেশনের মত প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিত না হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিবেশন চলাকালে কক্ষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবাইকে মাস্ক পরে অধিবেশনে যোগ দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ ভবনের প্রবেশ পথে জীবানুনাশক চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে তাপমাত্রা পরিমাপ ও হ্যান্ডস্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থাও। স্বাস্থ্য ঝুকির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে প্রতিদিন সকাল ১১টায় বৈঠক শুরু করে কোন বিরতি ছাড়াই একবেলাই চালানো হবে। অধিবেশন কক্ষে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে।
অধিবেশনের বিষয় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগের অধিবেশনের মতই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির জন্য ইতোমধ্যে রোস্টার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে যাতে বসতে পারে সেজন্য ৮০ জনের মত সংসদ সদস্য নিয়ে প্রতিদিন সংসদ চালানো হবে।
তিনি বলেন, অধিবেশনের প্রয়োজনীয়তার বাইরে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীকের কভিড-১৯ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপশি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে কভিড পরীক্ষার জন্য। তাদের জন্য সংসদের মেডিকেল সেন্টার উন্মুক্ত রয়েছে। তবে তারা চাইলে বাইরে থেকেও নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবেন।
অধিবেশন কতদিন চলতে পারে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, কতদিন চলবে সেটা এখন বলা যাবে না। আমাদের কাছে যে আইনগুলো পাসের জন্য এসেছে আমরা তা পেন্ডিং রাখতে চাই না। ফলে এই আইনগুলো পাসের জন্য যত কার্যদিবস দরকার হবে ততটা অধিবেশন চলবে।
জানা গেছে, করোনা কালের বিগত দুটি অধিবেশনে একান্ত প্রয়োজনীয়তার বাইরে কোন বিল পাস না হওয়ায় পেন্ডিং বিল বেড়ে গেছে। যার কারণে এবার এসব বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের অধিবেশনে পাসের অপেক্ষায় যেসব বিল রয়েছে তা হলো- সামুদ্রিক মৎস বিল ২০২০, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০২০, কাস্টমস (সংশোধনী) বিল-২০১৯, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল ২০১৯, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটররি কমিশন (সংশোধন) বিল ২০২০, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট বিল ২০২০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০, মৎস ও মৎস পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিল ২০২০, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০ ও বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন বিল) ২০২০ ও আকাশপথ পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) বিল ২০২০। এছাড়া নতুন আরো দু’একটি বিল আসতে পারে।
প্রথমদিনের কার্যসূচি
রোববার সকাল ১১টায় শুরু হতে যাওয়া নবম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে সভাপতিমন্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি রয়েছে। সব অধিবেশনের শুরুর দিন শোকপ্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি থাকলেও কোন সিটিং এমপি মারা গেলে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয় এবং রেওয়াজ অনুযায়ী ওই দিনের বৈঠক মুলতবি হয়। ফলে গত ৯ জুলাই ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও ২৭ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা ও তা গ্রহণের পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হবে। সূত্র: বণিকবার্তা।
ভয়েস/জে।