বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক :
কক্সবাজার জেলার বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের নাম কুতুবদিয়া।ওই উপজেলা দ্বীপের আইনশৃঙখলার দায়িত্বে আছেন এক ভাব গাম্ভীর্যেভরা অমায়িক মানুষ। চাকুরির খাতিরে উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তার খোঁজ খরব রাখতে হয়। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা প্রদান করা প্রধানতম দায়িত্ব। এটাতেও মোটামোটি তিনি সফল। এটি করতে গিয়ে অনেকের কাছে হয়েছেন বিরাগভাজন আবার অনেকেরই কাছে হয়েছেন প্রিয় এমন ধারণা কুতুবদিয়ার মানুষের।
তবে সবকিছু চাপিয়ে (কোভিট ১৯) করোনার মহাদুর্যোগ পরিস্থিতিতে তিনি এখন সবার কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে। এতক্ষণ যার কথা বলা হচ্ছিল তার নাম দিদারুল ফেরদৌস। যিনি দায়িত্বে আছেন কুতুবদিয়া থানার ওসি হিসেবে।
তাঁর প্রশংসনীয় উদ্যোগ :
জেলা যখন লকডাউন ঘোষণা হল। তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কুতুবদিয়া কারণ দ্বীপ হওয়াতে মানুষের আসা যাওয়ার ঘাটগুলো এবং বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করা। কুতুবদিয়ার প্রায়ই মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামে বাস করেন। অন্যদিকে লবণের ব্যবসায়িও প্রচুর আছে, যাদের নারায়নগঞ্জে যাতায়ত। পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনংশৃঙ্খলাতো আছেই।
কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইলের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর মাধ্যমে জানাযায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে আতংক। ঠিক তখনই কুতুবদিয়ার ওসি ও প্রশাসন ৫টি ঘাটে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখে।
লকডাউন আইন পালনে সাধারণের মাঝে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন। যার ফলে আল্লাহর রহমতে কুতুবদিয়া এযাবত অনেকটা নিরাপদ।
তিনি বলেন, ওসি হিসেবে সবচেয়ে বেশি যেটি মানুষের কাছে দৃষ্টি কাড়ে সেটি হলো, সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে নিজের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া।যেটি তিনি অনেকক্ষেত্রে নিজেই বহন করেছেন। যার কারণে কুতুবদিয়ার মানুষের কাছে পুলিশ মানে শুধুই শাসন ও ধমকানি নয়। এটা তিনি একটা অনুকরণীয় চরিত্র সৃষ্টি করতে পেরেছেন।
জানতে চাওয়া হলে, ওসি দিদারুল ফেরদৌস বলেন, “ আমি পুলিশ, চাকুরীজীবী। বড় বিষয় হচ্ছে আমিও একজন মানুষ। চাকুরীর দায়িত্বের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবে সাধ্যর ভিতরে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। বিনয়ের সাথে বলেন মহাদুর্যোগে এটা বেশি কিছু নয়।”
আতংকের মাঝে কিভাবে কাজ করেছেন জানতে চাইলে, “ কুতুবিদয়া উপজেলা দ্বীপে ৫টি ঘাট বাদে আরো অনেক পয়েন্ট দিয়ে মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারে। সে কারণে প্রথমেই উর্ধধতন অফিসারের নির্দেশে আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সচেতন মানুষের সহযোগিতায় এটা নিয়ন্ত্রণ করি।
তার পরে বাহির থেকে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করি। এপর্যন্ত প্রায় ১৬০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও প্রায় ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখি। তার মধ্যে অনেকেরই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে বাড়ি গেছেন। যার ফলে এযাবত প্রায় ৯৭ জন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা টেস্টে সবাই নেগেটিভ। যেটির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি লকডাউন আইন মেনে চলে সহযোগিতার জন্য কুতুবদিয়ার মানুষকে ধন্যবাদ প্রদান করছি।”
সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ সম্বন্ধে বলেন, যে ত্রাণগুলো দিচ্ছি সেটি আসলেই চাহিদার তুলনায় নগন্য। তবে সাধ্যের মধ্যে আমি ও আমার প্রশাসন চেষ্টা করেছি এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাড়াতে। যা জানি, এই নগন্য ত্রাণ দিয়ে মানুষের খুব বেশি উপকার হবার নয়। তবে আমার উপলদ্ধি হচ্ছে “মানুষ মানুষের জন্য।”
বড়ঘোপ এলাকার লবণ শ্রমিক আবুল কাসেম বলেন, ওসির মাঝে প্রথম থেকে যে কঠোরতা দেখেছি। এই দুর্যোগের মাঝে আবার নরমভাবও দেখেছি।
ভয়েস/জেইউ।