বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক :
জন্মদিনে জন্মদাতাকেই হাসিখুশি মনে স্মরণ করে দুনিয়াবী এটাই নিয়ম। কিন্তু পেকুয়া উপজেলা পরিষদের জন্মদাতাকে স্মরণ করতেই পেকুয়া উপজেলার মানুষের মাঝে অশ্রু ঝরে, হৃদয়ে কান্না আসে। বিশেষ করে পেকুয়া উপজেলার জন্মদিন ২৭ এপ্রিল আসলেই। ২০০২ সালে জন্ম হয়ে ২০২০ সালে পেকুয়া উপজেলা ১৮ বছরে পূর্ণ যৌবন লাভ করেছে।
কিন্তু জন্মদাতা আজ নির্বাসনে। অনেক দূরে। ভারতের শিলংয়ে, এটাই তাদের মনোবেদনা, কষ্টের সাথে পথ চলা। পেকুয়ার পথে প্রান্তুরে ঘুরে এমনই পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়।
জানাযায়, ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়াকে বিভক্ত করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনের এমপি সালাহ উদ্দিন আহমদ। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য।
অবহেলিত জনপদ হিসেবেই পরিচিত ছিল পেকুয়া। সেই পেকুয়া ইউনিয়নে শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম, পেকুয়া থানা ভবন, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইত্যাদি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি যোগাযোগের মাধ্যম সুবিশাল রাস্তা। একসময়ের বিচ্ছিন্ন পেকুয়াকে পুরো কক্সবাজার জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে। যার অবদান পেকুয়ার ভূমিপুত্র সালাহ উদ্দিন আহমদের মনে করেন পেকুয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ থেকে সচেতন মানুষজন।
সেই সময়ে অতি অল্প সময়ে সেই অবহেলিত গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন হতে উপজেলায় উন্নীত হওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনা ছিল এলাকাবাসির মাঝে। এলাকার মানুষ এসব কৃতিত্বের মহানায়ক মনে করেন পেকুয়ার গর্বিত সন্তান সালাহ উদ্দিন আহমদকে।
আজ ২৭ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলার জন্মদিন আসলেই অনেকের মাঝেই হৃদয়ের অব্যক্ত কথা ফুটে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তাঁর মধ্যে নিকটতাত্মীয় ছফওয়ানুল করিম শ্রদ্বাভরে স্মরণ করে ফেসবুকে লিখেন,
“২৭ এপ্রিল ২০০২ থেকে ২৭ এপ্রিল ২০২০ ইং। আজ পেকুয়া উপজেলার ১৮ তম জন্মদিন।
পেকুয়ার জন্মদিনে এ উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের (ঝধষধযঁফফরহ অযসবফ) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা, আমাদের মহান নেতা, সালাহউদ্দিন আহমদকে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম করা হয়। গুমের ৬২ দিন পর ২০১৫ সালের ১২ মে তাকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সিলং গলফ কোর্স মাঠে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। সে থেকে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ভারতে নির্বাসিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
আজকের এ দিনে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, দেশের এ ক্রান্তিকাল বিবেচনায় অন্তত আমাদের নেতাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।”
সূত্রে জানাযায়, রাজনৈতিক সহিংসতা চলরা সময়ে ঢাকার বাসা থেকে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ থেকে গুমের ৬২ দিন পর ১২ মে তাকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সিলং গলফ কোর্স মাঠে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। সে থেকে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ভারতে
সালাহ উদ্দিন আহমদ এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় রাস্তাঘাট, মসজিদ,মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।
তারই ভালবাসা হিসেবে চকরিয়া পেকুয়ার জনগণ তাঁর অবর্তমানে (কারাগারে) ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ কে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেন। শুধু তাই নয়, ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত এবং সালাহ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শাফায়ত আজিজ রাজু বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমান চেয়ারম্যান পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পেকুয়ায় ইউনিয়ন ছিল ৫ টি। পেকুয়া সদর,বারবাকিয়া, রাজা খালী,মগনামা ও টৈটং । পরে ২০০৩ সালে বারবাকিয়া কে বিভক্ত করে শিলখালী ও মগনামা কে বিভক্ত করে উজানটিয়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে পেকুয়া উপজেলার ইউনিয়ন সংখ্যা দাড়ায় ৭ টি। পেকুয়া উপজেলা হওয়ার কারণে কক্সবাজার জেলাও প্রথম শ্রেণির জেলা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
ভয়েস/জেইউ।