রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আজ এক কোটি মানুষ টিকা পাবে

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

এক কোটি মানুষকে আজ করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকা দিতে চায় সরকার। এ কর্মসূচি সফল হলে মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে টিকার আওতায় আসবে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুত রয়েছে সারা দেশের ২৮ হাজার টিকা বুথ।

এ গণটিকাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরেই দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী যেকোনো মানুষ নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিতে পারবেন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক টিকা দেওয়া হবে।

গণটিকার জন্য গ্রামাঞ্চলে ১৬ হাজারের বেশি ও শহরাঞ্চলে (পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) সাড়ে আট হাজার অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত বুথ ও ভ্যাক্সিনেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৭০ হাজারের মতো ভ্যাক্সিনেটর ও স্বেচ্ছাসেবক টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, এ গণটিকার মধ্য দিয়েই লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ মানুষকে প্রথম ডোজ দিয়ে টিকার আওতায় আনতে পারবে।

সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার যাতে ৭০ শতাংশ মানুষের টিকা শেষ হয়, আমরা সে পরিকল্পনা করেছি। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখিনি। সকাল ৯টা থেকে টিকাদান শুরু হবে। কেন্দ্রে যতক্ষণ লোক থাকবে, টিকাদানও ততক্ষণ চলবে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা টিকাকেন্দ্র অনেক বৃদ্ধি করেছি। বিশেষ করে যেসব জায়গায় টিকা নেওয়ার সংখ্যা কম, সেখানে কেন্দ্র আরেকটু বেশি করেছি। যেমন সিলেট বিভাগে ও নারায়ণগঞ্জে টিকা কিছুটা কম নিয়েছে মানুষ। এসব জায়গা আমরা ভিজিট করেছি। মানুষ যাতে টিকা নিতে যেতে পারে, সেজন্য লোকালয়ের কাছাকাছি কেন্দ্রগুলো করা হয়েছে। প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ যাতে টিকা নিতে আসে, সেজন্য তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করেছি, কথা বলেছি। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, দোকান, মার্কেটে টিকা হয়নি, তাদেরও এ কর্মসূচির আওতায় এনেছি।

শনিবারের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরেই টিকা নিতে দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। বিশেষ করে ২৬ ফেব্রুয়ারির পর আর প্রথম ডোজ দেওয়া হবে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন তথ্যে গত কয়েক দিন ধরে টিকার প্রথম ডোজ নিতে কেন্দ্রগুলোতে বেশ ভিড় করে মানুষ। এ সময় ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলাও হয়। ফলে বাধ্য হয়ে গতকাল শুক্রবারও টিকাকেন্দ্র খোলা রাখা হয় ও বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নেয় মানুষ।

অবশ্য পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ হবে না। তবে প্রথম ডোজের চেয়ে দ্বিতীয় ও বুস্টার (তৃতীয়) ডোজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গণটিকা কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর এবং কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য আমরা গত কয়েক দিন ধরেই টিকায় গতি এনেছি। আগে যেখানে দিতাম তিন লাখ, সেখানে বৃহস্পতিবার ১৯ লাখের মতো টিকা দিয়েছি। ফলে শনিবারের গণটিকায় আশা করছি বাকি এক কোটি টিকা দিতে পারব।’

১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশিদ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি (আজ)। এরপর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে। ওই ঘোষণার পর দেশের টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে।

দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ১০ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন ৮ কোটি ১৭ লাখের বেশি মানুষ।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION