মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০২:১১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ঈদে পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫ শিক্ষক-কর্মচারির বেতন অনিশ্চিত

বার্তা পরিবেশক:

টানা ৫ মাসের বেতন বকেয়া থাকার পরও বৈশাখী উৎসব ও ঈদের বোনাসও পেলেন কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫ শিক্ষক কর্মচারি। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল ব্যাংক লেনদেনও। ফলে এসব শিক্ষক কর্মচারির ঈদটাও অনিশ্চিত হয়ে গেল।

বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ৩৭ জন, ৮ জন কর্মচারি। জানুয়ারি মাসের ভর্তি প্রক্রিয়ার বিবরণ মতে, প্রতিষ্ঠানটিতে ৮৮৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ শিক্ষক কর্মচারি সর্বশেষ বেতন পেয়েছেন ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৫ মাস বেতন বকেয়া রয়েছে।

এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঈদের আগেই বেতন, বোনাস পরিশোধের নিদের্শনা থাকলেও কক্সবাজার পৌরসভা পরিচালিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারিরা তা পেলেন না। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবেহলার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিষয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক তাহামিদুল মুনতাসির বলেন, ‘সর্বশেষ ফেব্রæয়ারি মাসে শিক্ষক কর্মচারিতের বকেয়া বেতনের ২ মাসের টাকা দেয়া হয়েছিল। এই টাকায় বিভিন্ন দোকানের বাকি দিতেই চলে গেছে। এর মধ্যে ৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। আশা করে ছিলাম, বোনাসটা হলেও পাবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাও পেলাম না।’

এখানে ঈদ কিভাবে করা সম্ভব এমন প্রশ্নে তুলে তিনি বলেন, ‘একজন প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালনের অদক্ষতার কারণে এটা হয়েছে। পৌরসভা থেকে বেতন ছাড় দিয়ে ব্যাংক চেক ইসু হলেও কোনভাবেই এই টাকা পাওয়া গেল না। ব্যাংক বন্ধ আর পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

আইসিটি বিভাগের শিক্ষক সুজন দাশ বলেন, ‘বেতন-বোনাস নিয়ে প্রধান শিক্ষকের উদাসীনতার কারণে এমনটাই হল। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন তারা বেতন ছাড় দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবহেলার কারণে তা পাওয়া গেল না।’

প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস জানিয়েছেন, শুধু মাত্র শিক্ষকতা করে জীবন পরিচালনা করেন তিনি। বিকল্প কোন আয়ের উৎস নেই। এখন ঈদ কিভাবে করবেন তিনি নিজেও জানেন না।

প্রতিষ্ঠানটি একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়। তাদের নিয়োগের পর থেকে রহস্যজনক কারণে শিক্ষক কর্মচারিরা বেতন নিয়ে নাটকিয়তা করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান মানিক বলেন, ‘সকলের মতো আমি নিজেও বেতন বোনাস না পেয়ে ঈদ নিয়ে অনিশ্চিয়তা রয়েছি। চেক ইসুর কথা শুনেছেন। তিনি বিষয়টি জানেন না। কি কারণে বেতন বোনান হল না তা পরিষ্কার না।’

এখানে তার দায়িত্ব পালনের অবহেলার বিষয়টি অসত্য এবং বিভ্রান্তকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. সরওয়ার সালাম জানান, বুধবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন ও বোনাস দেয়ার জন্য ব্যাংকের চেক ইসু করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু না পাওয়া কারণ কি তা জেনে বলতে হবে। বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

তবে তিনি কত মাসের বেতন ইসু করেছেন এটা নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION