বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
দুই সপ্তাহ আগে মহেশখালীতে যে এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়েছে, সেই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টায় টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। এর মিনিট দশেক পর থেকে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা নাগাদ গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন।
সমুদ্রপথে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। সেখানে এলএনজিকে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।
মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, আরেকটি সামিট এলএনজি টার্মিনালের; তাদের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর আমদানির এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।বিকল হওয়ার আগে টার্মিনালটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
গত ২৭ জুলাই তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই মেরামতে সময় লাগছে।“এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা এক্সিলারেট, সামিট কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কারও ছিল না। এটা আমাদের সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”
প্রতিমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, মেরামতের প্রথম ধাপ শেষ হলে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দিনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।এর মধ্যে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
ভয়েস/আআ