বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
জাম্বু-কাশ্মির কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফিরে আসা যুবকদের স্বাগত জানাচ্ছেন পরিবার-ছবি: কক্সবাজার ভয়েস। আবদুল আজিজ:
চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের শিকার কক্সবাজারের রামুর ৫ যুবক ৮বছর পর দেশে ফিরেছে। শুক্রবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালস বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। দীর্ঘ ৮ বছর ভারতের কারাগারে বন্দি জীবন শেষে স্বজনদের পেয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
গত ৮ বছর আগে চাকুরির প্রলোভনে পড়ে দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাড়ি জমান কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার আলী আহমদের ছেলে শফিউল আলম, সুলতান আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ, দক্ষিণ পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে সোহেল রানা, পূর্ব তিতারপাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে নুরুল আজিম ও টেকপাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মুহাম্মদ ইসমাঈল। কিন্তু, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আইনি জটিলতায় ভারতের কারাগারে বছরের পর বছর বন্দি ছিল তারা। একারণে বাংলাদেশে স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ফলে সন্তানদের হারিয়ে নির্বাক স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা-পালস বাংলাদেশের সহায়তায় অবশেষে ৫ যুবকক কারামুক্ত হয়েছেন তারা। ফিরেছে দেশের মাটিতে। তবে, তাদের সঙ্গে যাওয়া মনজুর আলম নামের আরেকজন ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে প্রায় ৩ বছর আগে মারা যায়। স্বজনরা বলছেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্তানদের মুখ দেখে আনন্দিত।
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশের মাটিতে পৌঁছলে স্বজনদের আবেগ আর কান্নার রোল পড়ে যায়। অবতারণা হয় ভিন্ন দৃশ্য। ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় মা, বাবা, ভাই, স্ত্রী কিংবা স্বজনেরা। অন্ধকার জগৎ থেকে ফেরা এই পাঁচজন এখন নিজ ঘরে, স্বজনের কাছে।
ভারত থেকে ফেরত আসা নুরুল আজিম জানান, ‘দালালদের খপ্পরে পড়ে বেশী বেতনের চাকুরির ফাঁদে পড়ে ভারত পাড়ি জমায়। ভারতে যাওয়ার পর দালালচক্র আমাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে আমরা ৫জন দীর্ঘ ৮ বছর ভারতের কারাগারে ছিলাম। এখন দেশে আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে।’
‘পালস বাংলাদেশ’র প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম কলিম কক্সবাজার ভয়েসকে বলেছেন, ‘বছরখানেক আগে খবর আসে রামুর ৬ জন ছেলে ভারতের কারাগারে বন্দি আছে। পরে নিশ্চিত করা হয় দীর্ঘ ৮ বছর ধওে ভারতের জম্বু কাশ্মির, হরিয়ানা কারাগারে বন্দি এ ৫ যুবক। তাদের মুক্ত করতে পরিবারের সদস্যরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। একটি টিমও ভারতে পাঠিয়েছিল। নানা জটিলতায় কারামুক্ত করতে পারেনি। কিন্তু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫ জনকে কারামুক্ত করেছি।’
এদিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে যুবকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করা হয়। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পালসের হেড অফিসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক তরিকুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ ও উন্নয়ন) নাসিম আহমেদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট নওশের ইবনে হালিম, ক্যাম্প ২৩ ইনচার্জ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, পালসের আবদুল হামিদ, আবুল বাশের, মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ভয়েস/আআ