শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

এই সময়ে নারী নিপীড়ক আর হানাদার বাহিনীতে কোনো তফাৎ নেই: নজরুল

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

স্বাধীন বাংলাদেশের নারী নির্যাতনকারীদের সঙ্গে একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তুলনা করেছেন নজরুল ইসলাম খান।

শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “এই দেশ যেই দেশ লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তে স্বাধীন হয়েছে। এই দেশ স্বাধীন করতে আমাদের মা-বোনদের তাদের ইজ্জত দিতে হয়েছে। আজকেও এই স্বাধীন বাংলাদেশে যখন আমার মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয় তখন কাকে দোষ দিব আমরা?

“যারা করে তারা আর তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যারা আমার মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে তাদের মধ্যে কী তফাৎ আছে? ”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা (ক্ষমতাসীনরা) স্বাধীনতা চেতনার কথা বলে। স্বাধীনতার কোন চেতনা দেশে এমন পরিস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, যে সময় কার্টুন বের হয়। যে যেখানেই যান খোঁজ নিয়ে দেখবেন- সেখানে ছাত্রলীগ আছে কিনা।

“এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। এমন বাংলাদেশের জন্য আমরা লড়াই করি নাই। আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছিলাম, একটা মানবিক বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছিলাম, একটা সুখী-সমৃদ্ধ-শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছিলাম যেখান মানুষের অধিকার থাকবে, মানুষ নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। আজকে সেটা সংকুচিত না, সেটাকে রুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এই কারাগার, এই নিগড় থেকে মুক্তি পেতে হবে। আর সেই মুক্তির লড়াই শহীদ জেহাদ আমাদের আলোকবর্তিকা হোক, তার স্মৃতি আমাদের পথ দেখাবে।”

বিভিন্ন দেশে আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে নানা নির্যাতন-নিপীড়ন, একদলীয় শাসন, নানা ধরনের এক নায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আরব বসন্ত। বহু দেশে বিরাট বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেল; ভালো মন্দ বিভিন্ন রকম। অতি সম্প্রতি আমরা দেখছি, মিশরে জেনারেল সিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে। বেলারুশে আন্দোলন চলছে, থাইল্যান্ডে জেনারেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।

“আন্দোলন আমাদের এখানেও হবে, হতে বাধ্য। কারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে জোর করে দমন করা যায় না, মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাহ্য করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় না। কিন্তু একটু সময় লাগে কখন? যদি সামরিক শাসন থাকে, যদি একনায়কতন্ত্র থাকে, যদি ফ্যাসিবাদ থাকে তাহলে সেখান থেকে মুক্ত হতে একটু সময় লাগে।”

দেশে ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে সকলকে একসঙ্গে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান নজরুল।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক জেহাদ দিবস’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নাজির উদ্দিন জেহাদ। দিবসটি উপলক্ষে সকালে দৈনিক বাংলা মোড়ে শহীদ জেহাদ স্মৃতি সৌধে ফুল নজরুল ইসলাম খান ও ছাত্র নেতারা।

ডাকসুর সাবেক ভিপি, নব্বইয়ের ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নাজিম উদ্দিন আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জহিরউদ্দিন স্বপন, খোন্দকার লুতফর রহমান, আসাদুর রহমান আসাদ, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলী, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল এবং শহীদ জেহাদের বড় ভাই কে এম বসির বক্তব্য দেন। সুত্র:বিডিনিউজ।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION