বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

নিষেধাজ্ঞা,ইরানকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ নয়

ছয় জাতির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। রবিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।

ফার্সি নববর্ষ ১৪০০ সালের সূচনা তথা নওরোজ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণ দেন খামেনি। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ধরে নিয়ে দেশের দায়িত্বশীলদের কাজ করতে হবে। অর্থনীতিকে কোনও অবস্থাতেই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলা যাবে না।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ করেন খামেনি। তিনি বলেন, যে দেশটি পারমাণবিক বোমা হামলা চালিয়ে একটি দেশের দুই লাখ ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারে সে দেশের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার) অপ্রত্যাশিত নয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের যুব সমাজ নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। অনেক পণ্য দেশেই তৈরি করে ইরানকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য ছিল একটি মূল্যবান শিক্ষা।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় আমাদের দুইটি করণীয় রয়েছে। প্রথমত, আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীর কাছে গিয়ে অনুরোধ করতে পারি যে, আপনারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন। তখন সে আমাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী দাবি-দাওয়া চাপিয়ে দেবে। এই পথটি অপমানজনক ও অবমাননাকর।

দ্বিতীয় পথ হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে সব অর্থনৈতিক প্রয়োজন দেশের ভেতরেই মেটানোর চেষ্টা করা। ইরানি জনগণ দ্বিতীয় পথ বেছে নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, করোনাভাইরাসের কথা উল্লেখ করা যায়। এই ভাইরাস ইরানে ছড়িয়ে পড়ার শুরুতে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মাস্ক পর্যন্ত ছিল না। অথচ এখন আমরা নিজেরা করোনাভাইরাস মোকাবিলার যাবতীয় সামগ্রী দেশেই তৈরি করছি। করোনাভাইরাসের টিকা দেশেই তৈরি হয়েছে এবং জনগণ সে টিকা নিচ্ছে। কাজেই নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় আমাদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে এবং অবমাননাকর পথ বেছে নেওয়া যাবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি’ ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সে চেয়েছিল ইরান অবমাননাকরভাবে তার কাছে নতি স্বীকার করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান নতি স্বীকার করেনি বরং সেই ব্যক্তি চরম অপমানিত অবস্থায় বিদায় নিয়েছে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমেরিকারও বদনাম করেছে। অন্যদিকে ইরান গৌরবের সঙ্গে টিকে রয়েছে।

খামেনি বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টও যদি তার পূর্বসুরির পথ অনুসরণ করেন তবে তিনিও একদিন হারিয়ে যাবেন। কিন্তু ইরান গর্বভরে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

খামেনি বলেন, ইরানের চূড়ান্ত নীতি হচ্ছে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পশ্চিমা দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। আর তারা তা করলেই ইরান এই সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন খামেনি। তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মতো একটি কসাই সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া আমেরিকার চরম ভুল সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিকেও তিনি ওয়াশিংটনের ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, কিছু আরব দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এতে করে গোটা মুসলিম উম্মাহর অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হবে না। মুসলিম উম্মাহ ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখলের দুঃসহ স্মৃতি কখনোই ভুলে যাবে না।

ইয়েমেন সংকটের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সবুজ সংকেত নিয়ে সৌদি আরব এই দারিদ্রপীড়িত দেশটির ওপর আগ্রাসন শুরু করেছে। এখনও সময় আছে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণা করার আগে ইয়েমেনে আগ্রাসন বন্ধ করুন।

খামেনি তার ভাষণে নতুন ফার্সি বছরের নাম দেন ‘উৎপাদন, পৃষ্ঠপোষকতা ও বাধা অপসারণের বছর’। বিগত ফার্সি বছরের নাম ছিল ‘উৎপাদন বৃদ্ধির বছর’। ওই নামের প্রতি সম্মান রেখে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে বহু পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়াতুল্লাহ খামেনি এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ করা বা কমিয়ে দেওয়া এবং মধ্যসত্ত্বভোগী শ্রেণির প্রভাব কমানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মধ্যসত্ত্বভোগীরা পণ্য উৎপাদনকারী ও ভোক্তা উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।

খামেনি বলেন, শত্রুর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি বিশ্বে ১৮তম অবস্থানে রয়েছে। এটি ছোটখাট কোনও ব্যাপার নয়। বিশ্বের দুই শতাধিক দেশের মধ্যে ১৮তম অবস্থানে থাকা অনেক বড় ব্যাপার।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দেশের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা এমনভাবে দূর করতে হবে যাতে নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির কোনও ক্ষতি করতে না পারে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভালো; কিন্তু যদি না ওঠে তাহলেও যাতে অর্থনীতির ক্ষতি না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতি দেশের অর্থনীতিকে নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল না করার আহ্বান জানান খামেনি। তিনি বলেন, আপনাদের ধরে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। ‘নিষেধাজ্ঞা যদি উঠে যায় তাহলে এটা করবো, ওটা করবো’ এ ধরনের কথা বলবেন না। যদির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জনগণকে এ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান খামেনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ইরানের জনগণকে নিজেদের মধ্যকার ঐক্য ও সংহতির প্রতিফলন ঘটাতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা, পার্স টুডে/বাংলাট্রিবিউন।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION