শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বেপরোয়া ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন। শনিবার (২০ জুন) ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে নেতানিয়াহু তীব্র রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি মার্কিন-ইরান চুক্তি ব্যর্থ করার চেষ্টা করতে পারেন।
সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছে, এই চুক্তির ফলে লেবাননে তাদের নিরবচ্ছিন্ন হামলার সক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের কিছু অংশ দখলে রাখা বিপর্যয়ের শামিল। দেশটি থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যেকোনো সময় সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার বা হামলা বন্ধ করা নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে। ইসরায়েলের হঠকারী পদক্ষেপ এবং কূটনীতি নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের ক্ষতি করছে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শান্তি সমঝোতার মূল শর্তগুলো নিয়ে ইসরায়েল ক্ষুব্ধ। কারণ চুক্তিতে তেহরান ও প্রতিরোধ অক্ষের ওপর চাপসৃষ্টির বিষয়ে ইসরায়েলের লক্ষ্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জে ফেলেছে।
এদিকে চুক্তির খসড়া ও শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশ থেকে তারা সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউস উইটকফের সুইজারল্যান্ডে রওনা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে চায়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এ আরাগাচির সফর নিয়ে বিশদভাবে কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল ১৯ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধি দলের। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।
সূ্ত্র: জিও নিউজ
ভিয়েস/আআ