বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

জম্মু-কাশ্মীরে শিশুদের বিরুদ্ধে গুলি বন্ধের আহ্বান ভারতের প্রতি

‌আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জম্মু ও কাশ্মীরে শিশুদের বিরুদ্ধে গুলি বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। একই সঙ্গে যেকোনো উপায়ে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিশুদের সম্পর্কযুক্ত করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার উন্মুক্ত বিতর্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা জাতিসংঘ প্রধানের রিপোর্ট ‘চিলড্রেন অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’-এ এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। শিশুদেরকে কিভাবে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সঙ্গে এক করে দেখছে ভারত, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দেয়া হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে প্রায় ১৯ হাজার ৩০০ শিশু যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার হয়েছে। এর বেশির ভাগই যুদ্ধকবলিত এলাকা, যেমন আফগানিস্তান, সিরিয়া ও কঙ্গোর মতো দেশে। অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ যুদ্ধের মধ্যে শিশুদের অধিকারের প্রতি সচেতন না থাকা এবং তাদের দুর্ভোগকে হতাশাজনক এবং হৃদয় ভেঙে যাওয়ার মতো বলে মন্তব্য করেন।
উচ্চ পর্যায়ের ওই বিতর্ক হয় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে। এতে তিনি বলেন, অব্যাহতভাবে হামলা চালানো হয় স্কুল, হাসপাতালগুলোতে। লুট করা হয়। ধ্বংস করে দেয়া হয়। এসবই করা হয় সামরিক উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থাপনাগুলোকে বৈষম্যহীনভাবে টার্গেট করা হয়।

জাতিসংঘ প্রকাশিত ওই রিপোর্টে ভারত চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে, গত বছর দখলীকৃত অঞ্চলে সহিংসতার শিকারে পরিণত হয়েছে মোট ৩৯টি শিশু। এর মধ্যে ৩৩টি বালক এবং ৬টি মেয়ে। তার মধ্যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৩০ জন। কমপক্ষে ১১ জন গুলিতে আহত হয়েছে। রিপোর্টে এসব ঘটনার জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নির্যাতন, বিস্ফোরকের ফলে, অজ্ঞাত গ্রুপগুলো এবং ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী গ্রুপগুলোর মধ্যে ক্রসফায়ার, অজ্ঞাত গ্রুপগুলোর মধ্যে ক্রসফায়ার, গ্রেনেড হামলা, ক্রসফায়ার, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গোলা নিক্ষেপকে দায়ী করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে শিশুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ রকম নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। শিশুদের রক্ষা করতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে আমি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। এতে তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে গুলি করা বন্ধ করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কুল ও ইউনিভার্সিটিগুলোকে সশস্ত্র সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আন্তঃসরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেফ স্কুলস ডিক্লেয়ারেশন ও ভ্যানকোভার প্রিন্সিপাল অনুমোদনের জন্য নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ বলেন, শিশুদের আটক রাখা এবং নির্যাতনের বিষয়ে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। উদ্বেগ প্রকাশ করছি স্কুলগুলোকে সেনাবাহিনীর ব্যবহার নিয়ে। এ ছাড়া তিনি আটক অবস্থায় সব রকম অত্যাচার প্রতিরোধের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জুভেনিল জাস্টিস অ্যাক্ট ২০১৫ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর চার মাস ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা সাতটি স্কুল ব্যবহার করেছে বলে তথ্য যাচাই করেছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়েছে, ওইসব স্কুল ২০২০ সালের শেষের দিকে ফাঁকা করে ফেলা হয়।
ওই রিপোর্টের পাকিস্তান চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে, খাইবার পখতুনখাওয়া, আজাদ কাশ্মীর ও বেলুচিস্তানে গত বছর ৩৯টি শিশুকে নির্যাতন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন মারা গেছে। ৩১ জন মারাত্মক আহত হয়েছে। যেসব ঘটনায় এমন হয়েছে তার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষ এবং বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ রয়েছে। খাইবার পখতুনখাওয়াতে একটি স্কুলে হামলা হয়েছে। সেখানে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বিস্ফোরক পেতে রেখেছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, শিশুদের রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে পাকিস্তান সরকার আমার বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION