সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধের মাত্রা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবার নিরাশার কথা শোনাল ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানো রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময়) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতির আশা নাকচ করে দিয়েছেন। রণাঙ্গনেও রাশিয়ার হামলায় বিরাম দেখা যায়নি।রুশ অঙ্গীকারে সংশয় জানিয়ে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অবশ্য আগেই বলেছিল, ‘রাশিয়ার কথা ও কাজের মিল নেই।
ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়ার সেনাদের অবস্থান বদল হচ্ছে মাত্র। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর কাম বাসভবন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়া সত্যিকার অর্থে আশা জাগানোর মতো কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেনি। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, প্রধান রুশ আলোচক পরে একটি হালনাগাদ তথ্য দেবেন। এদিকে দৃশ্যত ইউক্রেনের সংশয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতেই যেন ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার রাত থেকে রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, সেখানে সামরিক তৎপরতা কমানোর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও রাশিয়ার হামলায় কোনো বিরাম দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতভরই রুশ বাহিনী গোলাবর্ষণ চালিয়ে যায়। গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস বিবিসিকে বলেছেন, তিনি রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেন না। ‘আমরা এরই মধ্যে দেখেছি এমন একটি ঘটনাও নেই যখন রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের কথা রেখেছে’, বলেছেন গভর্নর।
দোনেস্কর ইউক্রেনীয় গভর্নরও বলেছেন, রণাঙ্গন বরাবর শহর ও নগরগুলোতে রাশিয়া গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। পূর্বের লুহানস্ক অঞ্চলেও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২৪ ঘণ্টায় স্থানীয় শহরে ৩৫টি গোলা হামলা হয়েছে।
রাশিয়া মঙ্গলবার তার কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান ‘তাত্ত্বিকভাবে হ্রাস’ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগেই গত সপ্তাহে বলেছিল, ইউক্রেনে যুদ্ধের প্রথম পর্ব শেষ এবং এবার পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী অধ্যুষিত অংশে মনোযোগ দেবে রুশ বাহিনী। যুদ্ধের মাত্রা কমানোর ঘোষণার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল সকালেও রাজধানী কিয়েভে শহরকেন্দ্রের প্রান্তের দিকে গোলার শব্দ শোনা যায়। ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চল নিয়ে রুশ অবস্থান অপরিবর্তিত রাশিয়ার প্রধান শান্তি আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি ইস্তাম্বুলে মঙ্গলবারের আলোচনার পর এ নিয়ে কথা বলেছেন। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এএফপি
ভয়েস/আআ