রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
রোহিঙ্গা, ফাইল ছবি ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবে কমপক্ষে ১৭ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মধ্যে আছে শিশুও। মিয়ানমার থেকে যাত্রা করা নৌকাটিতে অন্তত ৯০ জন রোহিঙ্গা ছিল। এখনো ৫০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। তারা বঙ্গোপসাগর হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। রেডিও ফ্রি এশিয়ার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
খবরে জানানো হয়, নৌকাডোবার পরে অনেকগুলো মরদেহ রাখাইন রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে ভেসে আসে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, তারা নৌকা দুর্ঘটনায় গভীর শোকাহত। মিয়ানমার থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। ইউএনএইচসিআর-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তে বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি করেছে, এই নৌকাডুবি তাই প্রমাণ করে
শিশু, নারী এবং পুরুষরা এই ঝুকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন এবং জীবন হারাচ্ছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
নৌকাটি গত ১৯শে মে মিয়ানমারের সিত্বে থেকে যাত্রা শুরু করে। তবে সমুদ্রে খারাপ আবহাওয়ায় পরে কয়েক দিনের মাথায় এটি ডুবে যায়। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, থাপিয়ায় হুমাও দ্বীপের কাছাকাছি ওই নৌকাটি ডুবে যায়। রেডিও ফ্রি এশিয়াকে মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সমুদ্রে মোট ১৪ ‘বাঙালির’ (রোহিঙ্গাদের এভাবেই সম্বোধন করে মিয়ানমার) মরদেহ পাওয়া গেছে। তাদের পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে নিরীহ লোকজনকে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়াসহ বর্বর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়। সে সময় লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তারপরেও অনেক রোহিঙ্গাই রাখাইনে রয়ে গেছে। সেখানে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের চলাফেরায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সূত্র:মানবজমিন।
ভয়েস/জেইউ।