মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক, চকরিয়া:
আগামীকাল ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল। অবশ্য অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ। তারা শুক্রবার ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাউন্সিলর তালিকা তৈরি ও সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, সম্মেলন উপলক্ষে তৈরি করা চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটির কাউন্সিলর (ডেলিগেট) নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কক্সবাজার ১ ( চকরিয়া পেকুয়া) আসনের সাংসদ আলহাজ জাফর আলম ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি নিজে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদক ও কমিটির সংশ্লিষ্ট সকলকে অনেকটা জিন্মি করে খালী প্যাডে স্বাক্ষর নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মনগড়া কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করেছেন।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধাারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পরিষদের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধূরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাউল হক, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল জলিল, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোছাইন, চকরিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, আবছার উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম বিভিন্ন ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার অফিসে ও বাড়িতে ডেকে নিয়ে অনেকটা জিম্মি করে সংগঠনের খালি প্যাডে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কাউন্সিলরদের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। বেশিরভাগ ইউনিয়ন কমিটি চেষ্টা করলেও তাদের মতো করে কাউন্সিলর তালিকা জমা দিতে পারেনি। মুলত সাংসদ জাফর আলম এসব করেছেন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিজের ইচ্ছেমত লোকদের দিয়ে সাজানো প্যানেল তৈরী করতে পারেন সেইজন্য। আর তার এসব নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে দলের বধিতসভা ব্যতিরেখে তড়িঘড়ি করে ১০ সেপ্টেম্বর চকরিয়া কলেজে সম্মেলনের ডাক দেন। অথচ এদিন কলেজে অনার্স পরিক্ষা রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রহসনের সম্মেলনের মাধ্যমে এমপি জাফরের এই নীল নকশা বাস্তবায়ন হলে চকরিয়ার মাটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। এতেকরে দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা রাজনীতি করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলবে। এভাবে হলে চকরিয়ার মাটি মৌলবাদী এলাকায় পরিনত হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একইভাবে সাংসদ জাফর আলমের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসাইনকে সভামঞ্চে মারধর করেন সাংসদ নিজে। ভিডিও ফুটেজে এর প্রমাণ আছে।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি জাফর আলম সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ কেন্দ্র থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সেখানে একদিন আগে ঢাকায় বসে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পেছানোর বিষয়টি কতটুকু যুক্তিগতা আছে।
তিনি বলেন, সম্মেলন ঘিরে উপজেলার অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে ইতোমধ্যে কাউন্সিলরদের নামের তালিকা দেয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের কাছে। পরে সেই তালিকা অনুমোদন দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ। এখানে তো আমার কোন হাত নেই।
ভয়েস/আআ