বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মাদক মামলার আসামির জামিনের প্রক্সি দিতে এসে কারাগারে যুবক

ভয়েস প্রতিবেদক:

মাত্র ৫০০ টাকার জন্য মাদক মামলার পলাতক আসামি তোফায়েল সেজে জামিন নিতে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কারাগারে গেছেন এক যুবক।

রোববার (১৬ এপ্রিল) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ফাঁস হওয়ায় দ্রুত এজলাস ত্যাগ করেন জামিন আবেদনকারীর আইনজীবী।

ভুয়া পরিচয়ে জামিন নিতে আসা টমটমচালক মামুন (২৫) কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়িপাড়া এলাকার আলী আহমদের ছেলে মাদক মামলার পলাতক আসামি তোফায়েল সেজে জামিন নিতে গিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোরে টেকনাফ থানার সাবরাং পানছড়িপাড়ার মো. ইলিয়াসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডেকুলিয়াপাড়া এলাকার জয়নালের ছেলে হারুন (২২) এবং জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে খাইরুল আমিনকে (৩৫) আটক করে র্যাব। এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান সাবরাং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানছড়িপাড়া এলাকার আলী আহমদের ছেলে শামসুল আলম (৪৫), আলমগীর (৩৭) এবং তোফায়েল (৩৫)।

এসময় ইলিয়াসের বাড়ি থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক ও তোফায়েলসহ আরও তিনজনকে পলাতক দেখিয়ে টেকনাফ থানায় মামলা করা।

রোববার (১৬ এপ্রিল) পলাতক আসামি তোফায়েলের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী। কিন্তু প্রকৃত আসামিকে হাজির না করে টমটমচালক মামুনকে কাঠগড়ায় তোলেন আইনজীবী। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার কার্যক্রম শেষ হলে পুলিশ মামুনকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে কাঠগড়া থেকে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘আমাকে কেন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমি তো তোফায়েল নয়, আমি মামুন। উকিল আমাকে বলেছে শুধু হাত তুলে হাজিরা দিতে। পরে চলে যেতে পারবো। তারা আমাকে ৫০০ টাকা দিয়ে রাজি করিয়েছে।’

এদিকে, আইনজীবী এবং আসামি যোগসাজশে প্রক্সি দিয়ে জামিন আবেদন করার ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আইনজীবীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, আইনজীবীর কারণে একজন নিরপরাধ টমটমচালককে কারাগারে যেতে হয়েছে।

টমটমচালক মামুনের বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, কোর্ট বিল্ডিং এলাকা থেকে ফোন করে আমাদের জানানো হলো যে মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা দ্রুত এসে আসল ঘটনা জানতে পারি। আইনজীবী এবং মাদক কারবারির পরিবার আমার ছেলের সর্বনাশ করেছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি আদালতের নজরে আনি। আসামি না হয়ে জামিনের প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে আদালত তাকে শাস্তি দিতে পারেন। এখন তো জামিন নামঞ্জুর করেছে মাত্র।

তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের এ ধরনের আচরণ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে অভিযুক্ত আইনজীবী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানীর মোবাইলফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION