বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও আইস জব্দ

ভয়েস প্রতিবেদক, টেকনাফ:

টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭ কেজি ৩৮২ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা ও ১শ কেজি সুঁতার জাল বোঝাই ২টি কাঠের নৌকাসহ মিয়ানমারের ২ নাগরিকসহ ৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ (বিজিবিএমএস) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বুধবার (১০ মে) রাতে মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর ও দমদমিয়া বিওপির বিশেষ ২টি টহলদল বরইতলী এলাকায় কৌশলী অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ২ জন ব্যক্তি ১টি কাঠের নৌকা নিয়ে শূন্যলাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে ওঁৎপেতে থাকা বিজিবি সদস্যরা তাদের থামানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তখন কাঠের নৌকাসহ মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিব টহলদলের সদস্যরা ধাওয়া করে মিয়ানমারের বুচিদং জেলার মন্ডু থানার প্রাংপুরের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. রবি উল্লাহ (২৩) এবং একই এলাকার আবুল কালামের ছেলো মো. আয়াছ (২৫) কে কাঠের নৌকাসহ আটক করতে সক্ষম হয়। পরে নৌকাটি তল্লাশি করে ৭ কেজি ৩৮২ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১শ কেজি সুতার জাল পাওয়া যায়।

এদিকে একইদিন রাতে টেকনাফ ২ বিজজিবি ব্যাটালিয়ন’র অধীন টেকনাফ সাবরাং বিওপির বিশেষ টহলদল দক্ষিণ নোয়াপাড়া দিয়ে মাদকের চালান প্রবেশের খবর পেয়ে বেড়িবাঁধের আঁড়ে কৌশলী অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ২ জন ব্যক্তিকে ১টি পুটলা হাতে নিয়ে বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমানা অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় থামানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তারা বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে পুটলাটি ফেলে দ্রুত গ্রামের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে মালিকবিহীন পুটলাটি উদ্ধারপূর্বক গণনা করে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

অপরদিকে একই রাতে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন’র অধীন টেকনাফ সদরের নাজির পাড়া বিওপির বিশেষ টহলদল ক্যাম্পের উত্তর-পূর্বদিকে আলুগোলার প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে কেওড়া বনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ৪/৫ জন লোক ১টি কাঠের নৌকা নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা তাদের থামানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তারা বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে আটক এড়ানোর জন্য নৌকাটি ফেলে নদীতে লাফ দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকাটি জব্দের পর তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ পিস ইয়াবার চালান জব্দ করে।

এছাড়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, বৃহস্পতিবার (১১ মে) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীন টেকনাফ বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৭ থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার পূর্ব দিকে নাইট্যংপাড়া ট্রলারঘাট এলাকা দিয়ে মাদকের একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ বিওপি’র একটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল বর্ণিত এলাকায় গমন করে কেওড়া বাগানের আড় নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। কিছুক্ষণ পর টহলদল ৩/৪ জন ব্যক্তিকে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাযোগে নাফ নদী পার হয়ে সীমান্তের শূন্যলাইন থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ট্রলার ঘাটের দিকে আসতে দেখে। উক্ত নৌকায় আরোহিত ব্যক্তিদের গতিবিধি সন্দেহজনক পরিলক্ষিত হওয়ায় টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে উক্ত ব্যক্তিরা দূর থেকে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্য থেকে একজন চোরাকারবারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং অপর চোরাকারবারিরা দ্রুত নাফ নদীতে লাফিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল আটককৃত চোরাকারবারির তথ্যমতে নৌকা ও মাছ ধরার জাল তল্লাশি করে জালের ভিতরে অভিনব পদ্ধতিতে লুকায়িত অবস্থায় পলিব্যাগে মোড়ানো দুইটি পুটলা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দুটি পুটলা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২০০ কেজি সুতার জাল জব্দ করা হয়। এছাড়াও অবৈধ মাদকদ্রব্য বহনের দায়ে উক্ত ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটিও জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তি হচ্ছেন টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড নাইট্যংপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে
মো. জাহিদ হোসেন (২২)।

তিনি আরো জানান, আটককৃত আসামি ও পলাতক আসামি এবং দুই মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ইয়াবা ট্যাবলেট বহন ও পাচারের দায়ে জাল এবং কাঠের নৌকাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া মালিকবিহীন ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বর্তমানে ব্যাটালিয়ন সদরের স্টোরে জমা রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ পরবর্তীতে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION